মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে ভুক্তভোগীদের বাস্তব অভিজ্ঞতাকে সবচেয়ে শক্তিশালী সচেতনতামূলক হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করেছেন কক্সবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার। তিনি বলেন, পাচারকারীদের প্রতারণার শিকার হয়ে ফিরে আসা মানুষের অভিজ্ঞতা সমাজে ছড়িয়ে দিতে পারলে সাধারণ মানুষ আরও সচেতন হবে এবং দালালচক্রের অপতৎপরতা অনেকাংশে কমে আসবে।
বুধবার সকালে কক্সবাজার উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘ম্যাস ক্যাম্পেইন টু কমব্যাট হিউম্যান ট্রাফিকিং অ্যান্ড পিপল স্মাগলিং’ শীর্ষক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অস্ট্রেলিয়া সরকারের সহায়তায় ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের উদ্যোগে কর্মশালাটি আয়োজন করা হয়।
ইউএনও তাহমিনা আক্তার বলেন, “একজন ভুক্তভোগীর কষ্টের গল্প যখন সমাজের সামনে আসে, তখন তা অন্যদের জন্য সতর্কবার্তা হয়ে দাঁড়ায়। দালালের প্রলোভনে পড়ে মানুষ যেন ঝুঁকিপূর্ণ পথে না যায়, সে জন্য তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। একজন মানুষও যদি সচেতন হয়, সেটাই আমাদের বড় অর্জন।”
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে মানবপাচার একটি বৈশ্বিক সমস্যা। তাই প্রশাসন, সামাজিক সংগঠন, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি এবং সচেতন নাগরিকদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। ব্র্যাকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো মাঠপর্যায়ে সচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, বিদেশে ভালো চাকরি ও উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে দালালচক্র সাধারণ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলছে। বিশেষ করে তরুণদের লক্ষ্য করে নানা প্রলোভন দেখানো হচ্ছে। নিরাপদ অভিবাসন সম্পর্কে সঠিক তথ্য ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে মানবপাচারের ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসবে।
ব্র্যাকের জেলা সমন্বয়ক মো. আবুল কাহ্হারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. জাহিদুর রহমান, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জুলফিকার আলী এবং কক্সবাজার মডেল থানার পরিদর্শক মো. আসাদুর রহমান।
ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সেন্টার ম্যানেজার মো. আজিমুল হকের সঞ্চালনায় কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডেপুটি ম্যানেজার মো. শিহাবুল হোসেন।
অনুষ্ঠানে শিক্ষক, গ্রাম পুলিশ, স্বেচ্ছাসেবক এবং মানবপাচারের শিকার হয়ে ফিরে আসা কয়েকজন ব্যক্তি তাঁদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তাঁদের বক্তব্যে উঠে আসে বিদেশে নেওয়ার নামে দালালদের প্রতারণা, নির্যাতন ও ভয়াবহ দুর্ভোগের নানা চিত্র।
আয়োজকেরা জানান, ২০০৬ সাল থেকে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম সারা দেশে নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতকরণ ও মানবপাচার প্রতিরোধে কাজ করে আসছে। কক্সবাজারেও নিয়মিতভাবে সচেতনতামূলক কার্যক্রম, প্রশিক্ষণ ও কর্মশালা পরিচালনা করা হচ্ছে।