পল্লব চক্রবর্তী, নাসিরনগর ছবি : আল ইমরান:শীতের আগমনী বার্তা প্রকৃতিতে আনন্দের হলেও নাসিরনগরের বিল-জলাশয় ও হাওরাঞ্চলে দেখা দিয়েছে ভিন্ন চিত্র। শীত শুরু না হতেই দেশীয় পাখি, বিশেষ করে বক শিকারে সক্রিয় হয়ে উঠেছে এক শ্রেণির মৌসুমি শিকারি। সম্প্রতি উপজেলার নিশ্চিতপুর এলাকায় পাখি শিকারের সময় কয়েকজনকে দেখা যায়। ছবি তুলতে এগিয়ে গেলে শিকারি হিসেবে পরিচিত আব্দুল মিয়া ও তাঁর সঙ্গীরা মুখ ঢেকে ফেলেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবছর শীত মৌসুম এলেই নাসিরনগরের বিভিন্ন বিল, জলাশয় ও নিচু এলাকায় ফাঁদ, জালসহ নানা কৌশলে দেশীয় পাখি শিকার শুরু হয়। নির্বিচারে পাখি শিকারের কারণে একদিকে যেমন কমছে দেশীয় পাখির সংখ্যা, অন্যদিকে হুমকির মুখে পড়ছে এলাকার প্রাকৃতিক ভারসাম্য।
‘পাখি রক্ষায় শুধু অভিযান নয়, দরকার নিয়মিত নজরদারি’
প্রাণী ও প্রকৃতিপ্রেমীদের মতে, পাখি প্রকৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ, বীজ ছড়ানোসহ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পাখির রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। তাই পাখি শিকার বন্ধে প্রশাসনিক নজরদারির পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
এ ক্ষেত্রে উপজেলা প্রশাসন প্রতিটি ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে নিয়মিত নজরদারি ব্যবস্থা জোরদার করতে পারে। শুধু শীত মৌসুমে নয়, সারা বছরই বিল, জলাশয়, হাওর ও পাখির বিচরণস্থলগুলোতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গ্রাম পুলিশের সমন্বয়ে নজরদারি চালানো হলে পাখি শিকারিদের তৎপরতা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
একই সঙ্গে পাখি শিকারের খবর পাওয়া মাত্র দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন কার্যকরভাবে প্রয়োগের দাবি জানিয়েছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা।
শীতের অতিথিদের নিরাপদ আবাসস্থল চায় প্রকৃতিপ্রেমীরা
প্রকৃতিপ্রেমীরা বলছেন, শীতের মৌসুমে দেশীয় ও পরিযায়ী পাখিদের নিরাপদ বিচরণ নিশ্চিত করা গেলে নাসিরনগরের জলাভূমিগুলো হয়ে উঠতে পারে পাখির নিরাপদ আশ্রয়স্থল। এজন্য প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে পাখি শিকার প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা প্রয়োজন।
প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি, জনপ্রতিনিধি ও গ্রাম পুলিশের সক্রিয় ভূমিকা এবং জনসচেতনতা—এই তিনের সমন্বিত উদ্যোগই পারে নাসিরনগরের পাখিদের নিরাপদ রাখতে।
প্রকৃতির এই নীরব অতিথিদের রক্ষায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে, আগামী দিনে অনেক দেশীয় পাখি হারিয়ে যেতে পারে—এমন আশঙ্কা পরিবেশপ্রেমীদের।