ফারুক আহমেদ ভূঁইয়া : জামালপুরে সম্পত্তি লিখে না দেওয়ায় দাদির বসতবাড়িতে বেড়া দিয়ে অবরুদ্ধ করার অভিযোগ উঠেছে মাদকাসক্ত নাতির বিরুদ্ধে। এ সময় প্রতিবাদ করতে গেলে বিধবা দাদিকে পিটিয়ে আহত করা হয়।গত ৪ অক্টোবর রবিবার দুপুরে জামালপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের শান্তিনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী দাদি ফিরোজা বেগম (৭০) বাদী হয়ে জামালপুর সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
জানা যায়, ভুক্তভোগী ফিরোজা বেগমের ছেলে ফিরোজ মিয়া কয়েক বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। পিতার শাসন না থাকায় তাঁর ছেলে মেরাজ বেপরোয়াভাবে চলাফেরা করত এবং বিভিন্ন ধরনের মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ে। ইতিপূর্বে মাদকাসক্ত হয়ে নিজের স্ত্রীকে ব্যাপকভাবে মারধর করে তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে কারাবাসও করেছিলেন অভিযুক্ত মেরাজ। কারাবরণকালে বিধবা দাদি তাঁকে কোনো আর্থিক সহায়তা না করায় তাঁদের ওপর নাতির আক্রোশ আরও বেড়ে যায়।
এ বিষয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা জানান, আমরা বিভিন্ন সময় তাদের মীমাংসা স্বার্থে শালিস-দরবার করেছিলাম আজকের অভিযুক্তরা তা অমান্য করেছে ।লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, স্বামী মারা যাওয়ার পর ভুক্তভোগী ফিরোজা বেগমের সন্তান ও মেয়েরা আলাদা বাসায় ও শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করেন। ১ নম্বর বিবাদী মেরাজ (১৯) তাঁর প্রয়াত ছেলের ঘরের নাতি এবং ২ নম্বর বিবাদী জোসনা বেগম (৩৫) ওই ছেলের বউ। অভিযুক্তরা প্রায়ই তাঁর কাছে টাকা দাবি করে এবং বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছে। তাদের নামে জমি লিখে না দিলে মারধর ও খুন করার হুমকিও দেওয়া হচ্ছিল।
ঘটনার দিন গত ৪ অক্টোবর দুপুরে বিবাদীরা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে দাদির চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে বেড়া দেয়। এর প্রতিবাদ করলে ৩ নম্বর বিবাদী মেরাজের মামা আলমগীর (৪২) এর হুকুমে ১ নম্বর বিবাদী মেরাজ হাতে থাকা বাঁশ দিয়ে দাদির মাথা লক্ষ্য করে আঘাত করেন। আঘাতটি কাঁধে লেগে তিনি গুরুতর জখম হন। পরবর্তীতে অন্যান্য বিবাদীরাও তাঁকে মাটিতে ফেলে এলোপাতাড়ি মারধর করে বসতবাড়ি থেকে বের করে দেয়।
খবর পেয়ে তাঁর ছেলে ও মেয়েরা দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে আহত ফিরোজা বেগমকে উদ্ধার করে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। এ সময় ভুক্তভোগীদেরও মারধর করা হয় এবং সাক্ষীদের সামনে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহযোগিতায় বৃদ্ধার ছেলে ও মেয়েরা জামালপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। চিকিৎসা শেষে জামালপুর সদর থানায় এসে অভিযোগ দায়ের করেন বলে জানা যায় ।
জামালপুর সদর থানার পুলিশ জানায়, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।