মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র ৪ জন কর্মকর্তা। ফলে একজন কর্মকর্তাকে একসঙ্গে ২ ইউনিয়নের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে করে ইউনিয়ন পরিষদগুলোর কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ কাঙ্খিত জনসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চান্দহর ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম রাজা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন জামির্ত্তা ইউনিয়নে। জামশা ইউনিয়নের মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ দায়িত্ব পালন করছেন সায়েস্তা ইউনিয়নে। তালেবপুর ইউনিয়নের অপু রাজবংশী অতিরিক্ত দায়িত্বে আছেন বলধারা ইউনিয়নে। আর জয়মন্টপ ইউনিয়নের মো. নুরুল ইসলাম কাজ করছেন চারিগ্রাম ইউনিয়নে।প্রযুক্তির অগ্রগতির কারণে ইউনিয়ন পরিষদের কাজের পরিধি প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তার জন্য এক ইউনিয়নের কাজ সামলানোই যেখানে কঠিন, সেখানে দ্বিগুণ দায়িত্ব পালনে কর্মকর্তাদের প্রাণ ওষ্ঠাগত হয়ে উঠছে।জামশা ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, “আমার চাকরিজীবন প্রায় শেষ পর্যায়ে। এই বয়সে দুই ইউনিয়নের দায়িত্ব পালন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এজন্য আমি অন্যত্র বদলির আবেদন করেছি।”
চান্দহর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. তারিকুর রহমান আলাল অভিযোগ করে বলেন, “একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা দুই ইউনিয়নে দায়িত্ব পালন করায় উভয় ইউনিয়নের মানুষ প্রত্যাশিত সেবা পাচ্ছেন না। ইউনিয়ন পরিষদের কাজের গতি বৃদ্ধি করতে দ্রুত নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ প্রয়োজন।”এ বিষয়ে মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. মনোয়ার হোসেন মোল্লা বলেন, “বিষয়টি আমার জানা আছে। জনবল সংকটের কারণে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া সম্ভব নয়।”
জনবল সংকটের কারণে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ দিনদিন বাড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।