1. masudkhan89@gmail.com : Ghoshana Desk :
  2. zunayedafif18@gmail.com : Mahir Al Mahbub : Mahir Al Mahbub
  3. masudkhan89@yahoo.com : Masud Khan : Masud Khan
ব্রেকিং নিউজ :
কাপ্তাই উপজেলা প্রেসক্লাবের পূর্ণাঙ্গ গঠনতন্ত্র সংস্কার ২০২৬ ই কমিটির গঠনতন্ত্র হস্তান্তর হয় ঘোড়াঘাটে বিশ্ব শিক্ষক দিবস ২০২৬ পালিত নলডাঙ্গায় শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের আয়োজনে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও চক্ষু শিবির ফজরের আজানরত অবস্থায় মোয়াজ্জিনকে ছুরিকাঘাত নাগরপুরে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত দুর্গাপূজায় নিরাপত্তায় কঠোর নেত্রকোণা প্রশাসন অধ্যক্ষের পদায়ন বাতিল ঘিরে পূর্বধলা সরকারি কলেজে উত্তেজনা, রাতে কম্পিউটার সেকশনে আগুন ঘরের মেঝে-আলমারিতে ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ পণ্যের স্তূপ, গ্রেপ্তার মূলহোতা’র ভাই জামালপুরে জমি লিখে না দেওয়ায় দাদিকে পিটিয়ে আহত : নাতির বিরুদ্ধে থানায় আভিযোগ ফুলবাড়ীতে বাক্‌প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ, যুবক আটক

হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ধানের গোলা

  • আপডেট সময় : সোমবার, ১৩ জানুয়ারী, ২০২৫
  • ৫২ দেখেছেন

নুরুল আমিন পলাশ ,খুলনা:  খুলনার কয়রা উপজেলায় গোলা ভরা ধান, গোয়াল ভরা গরু আর পুকুর ভরা মাছ’ গ্রাম নিয়ে প্রচলিত প্রবাদটি মানুষের মুখে মুখে শোনা যায়। কিন্তু গ্রামের পর গ্রাম ঘুরেও এখন দেখা পাওয়া যায় না বাংলার ঐতিহ্য ধান, গমসহ ফসল সংরক্ষণের গোলার। মাঠের পর মাঠ ধানক্ষেত থাকলেও কয়রা উপজেলা প্রত্যন্ত অঞ্চলের অধিকাংশ কৃষকের বাড়িতে এখন নেই ধান, গম মজুত করে রাখার বাঁশ-বেত ও কাদা দিয়ে তৈরি গোলা ঘর। দেশের একেবারে দক্ষিণে খুলনার কয়রা উপজেলা এ জেলার বেশির ভাগ মানুষের প্রধান পেশা কৃষি। একসময় এখানে সমাজের নেতৃত্ব নির্ভর করতে কার কয়টি ধানের গোলা আছে এই হিসাব , কন্যা পাত্রস্থ করতেও বর পক্ষের বাড়ি থেকে ধানের গোলার খবর নেওয়া হতো। যা এখন রূপকথা। গ্রামাঞ্চলে বাড়িতে বাড়িতে বাঁশ দিয়ে গোল আকৃতির তৈরি করা ধানের গোলা বসানো হতো উঁচুতে। গোলার মাথায় থাকত টিনের তৈরি পিরামিড আকৃতির টাওয়ারের মতো, যা দেখা যেত অনেক দূর থেকে। গোলা নির্মাণ করার জন্য বিভিন্ন এলাকায় আগে দক্ষ শ্রমিক ছিল। এখন আর গোলা নির্মাণ শ্রমিকদের দেখা মেলে না। পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় নিয়োজিত হয়ে জীবন জীবিকা নির্বাহ করছেন তারা। কয়রায় প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রামে-গঞ্জে দক্ষ কারিগরদের হাতে তৈরি বাঁশের ধানের গোলা একসময় গ্রামীণ জনপদে ব্যাপক চাহিদা থাকলেও কালের বিবর্তনে তা বিলুপ্তির পথে। মানুষের জীবন-মানের পরিবর্তনের ফলে আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে তাদের পারিবারিক ব্যবহার্য উপকরণে। ফলে ঐতিহ্যবাহী বাঁশের ধানের গোলার জায়গা দখল করে নিয়েছে পাটের বস্তা আর টিন বা প্লাস্টিকের তৈরি ড্রাম। এগুলো তৈরি ঝামেলামুক্ত ও সহজে বাজারে পাওয়া যায় বলে মানুষ বাঁশের গোলার পরিবর্তে এসব আধুনিক উপকরণ ব্যবহারে দিন দিন অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। ফলে হারিয়ে যাচ্ছে বাঁশের গোলার কদর। গ্রামবাংলার বাঁশের গোলার চাহিদা কমে গেলেও কিছুটা ব্যতিক্রম কয়রা, উত্তর বেদকাশী আমাদি মহারাজপুর,বাগালি ,উপজেলার গ্রামের কিছু বাড়িতে দেখা গেছে ধানের গোলা। গ্রামের কৃষকরা বলছেন, তারা এখনো অনেকে গোলায় ধান রাখেন। আবার অনেকের গোলা পরিত্যক্ত। তবে তারা স্মৃতি হিসেবে রেখে দিয়েছেন। কয়রা উপজেলার সদর ইউনিয়নের গোবরা গ্রামের গৃহবধূ রুমি খাতুন জানান, আমাদের বাড়িতে একসময় ধানের গোলা ছিলো; এখন আর নেই। তবে আমার চাচার বাড়িতে এখনো একটি গোলাঘর রয়েছে। জেলার প্রবীণরা বলছেন, আগের দিনে প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই গোলা থাকতে এখন আর নেই। নাতি-নাতনিদের কাছে বললে তারা বিশ্বাসও করতে চায় না। প্রবাদের সেই গোয়াল ভরা গরু আর পুকুর ভরা মাছ এখনো আছে। দেশের প্রতিটি কৃষক পরিবারে রয়েছে কমপক্ষে একটা, দুটি গরু, পুকুরও আছে অনেকের। শুধু কালের বিবর্তনে হারিয়ে গেছে গ্রামীণ ঐতিহ্য ধানের গোলা।

Please Share This Post in Your Social Media

একই রকম সংবাদ
© সকল স্বত্ব দৈনিক ঘোষণা অনলাইন ভার্শন কর্তৃক সংরক্ষিত
Site Customized By Rahat IT Ltd.