রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে চিকিৎসকের কাছে ডাক্তার দেখাতে এসে চম্পা আক্তার নামে এক নারীর ৫০ হাজার টাকা খোয়া যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় চিকিৎসকের কক্ষের সামনে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান ভুক্তভোগী।
চম্পা আক্তার রাজবাড়ী সদর উপজেলার বানিবহ ইউনিয়নের আটদাপুনিয়া গ্রামের ব্যবসায়ী ইসলাম মোল্লার স্ত্রী। তিনি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। শারীরিক অসুস্থতার কারণে মঙ্গলবার সকালে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে চিকিৎসক অপূর্ব কুমারের কাছে চিকিৎসা নিতে যান তিনি।
চম্পা আক্তার জানান, সকাল ৯টার পর হাসপাতালে এসে তিনি রক্ত পরীক্ষা করান। পরে টিকিট কেটে হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার ২০৩ নম্বর কক্ষে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। চিকিৎসকের কক্ষের বাইরে আসার পর হঠাৎ তাঁর সাইড ব্যাগে রাখা ৫০ হাজার টাকা খুঁজে পাননি। পরে বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানান।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে চম্পা আক্তার বলেন, “আমি ডায়াবেটিসের রোগী। শরীর ভালো না থাকায় ডাক্তার দেখাতে এসেছিলাম। ব্যাগে ৫০ হাজার টাকা রেখেছিলাম। ডাক্তার দেখানোর পর বাইরে এসে দেখি টাকা নেই। টাকাগুলো আমার খুব প্রয়োজন ছিল।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে প্রায়ই রোগী ও তাঁদের স্বজনদের মোবাইল ফোন, টাকা ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র চুরির ঘটনা ঘটে। এতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
হাসপাতাল গেট এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে রিকশা চালান ওসমান ব্যাপারী। তিনি বলেন, “প্রায় ১৫ বছর ধরে এখানে রিকশা চালাই। প্রায়ই মানুষের টাকা-পয়সা ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্র হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা দেখি। সপ্তাহখানেক আগেও এক নারীকে হাসপাতাল থেকে তাঁর সাইড ব্যাগসহ ৫ হাজার টাকা চুরি যাওয়ায় কান্নাকাটি করতে দেখেছি। তাঁর বাড়ি ফেরার টাকাও ছিল না। পরে আমি ওই নারীকে কোনো ভাড়া না নিয়ে রিকশায় বাড়ি পৌঁছে দিয়েছি।”
এ বিষয়ে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এস এম হান্নানের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।