রাজধানীর শ্যামলীর রাজ্জাক হোটেলে কথিত অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ অনুসন্ধান করতে গিয়ে ছয় সাংবাদিক হামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন । সাংবাদিকদের দাবি, তথ্য ও ভিডিও ধারণের সময় তাদের বাধা দেওয়ার পর ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। একপর্যায়ে দরজা বন্ধ করে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।
ঘটনায় তিনজন নারী সাংবাদিকসহ ছয়জন আহত হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকরা দাবি করেছেন। পরে আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে ঘটনার বিষয়ে আদাবর থানায় মামলা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। অনুসন্ধানে গিয়ে হামলার সিকার স্থানীয়দের কাছ থেকে পাওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে রাজ্জাক হোটেলে নারী-পুরুষের সন্দেহজনক যাতায়াতের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে যান বিভিন্ন গণমাধ্যমের ছয় সাংবাদিক। তারা হোটেলের ভেতরে গিয়ে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তথ্য ও ভিডিও ধারণের চেষ্টা করেন।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, এ সময় হোটেল সংশ্লিষ্ট কয়েকজন তাদের কাজে বাধা দেন। পরে তাদের ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। এরপর একটি কক্ষে আটকে রেখে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
তাদের আরও অভিযোগ, হামলার সময় তিনজন নারী সাংবাদিকও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধরের শিকার হন।
সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সাংবাদিক নেতারা বলছেন, সংবাদ সংগ্রহ ও অনুসন্ধানের সময় কোনো সাংবাদিকের ওপর হামলা বা পেশাগত সরঞ্জাম ছিনিয়ে নেওয়া স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য গুরুতর হুমকি।
তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
হোটেলের অভিযোগও তদন্তের দাবি সাংবাদিক নির্যাতনের অভিযোগের পাশাপাশি রাজ্জাক হোটেলে কথিত অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার যে অভিযোগ উঠেছে, সেটিও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা। তাদের মতে, অভিযোগের সত্যতা থাকলে সংশ্লিষ্টদের াবিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এদিকে সাংবাদিকদের ওপর হামলা এবং হোটেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে রাজ্জাক হোটেল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
সাংবাদিকদের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের নিরাপদে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।