1. masudkhan89@yahoo.com : Ghoshana Desk :
  2. backupadmin@wordpress.com : backupadmin :
  3. zunayedafif18@gmail.com : Mahir Al Mahbub : Mahir Al Mahbub
  4. system@openreplay.com : wp-backup :
দুর্গাপুরে ৬৭০ বস্তা সার উদ্ধারের ঘটনায় প্রশাসনের সংবাদ সম্মেলন- সার গায়েবের অভিযোগ নাকচ - দৈনিক ঘোষণা
ব্রেকিং নিউজ :
ময়মনসিংহের কুষ্টিয়ায় গ্রাম আদালত সক্রিয়করণে আলোচনা সভা ও ভিডিও প্রদর্শনী রাজশাহীতে বন্যার্তদের পাশে আরডিএ চেয়ারম্যান সুইট হেফাজতে ইসলাম নারায়ণগঞ্জ জেলার সহ-সভাপতি নির্বাচিত হলেন মাওলানা জহিরুল ইসলাম ফারুকী ফাইল আটকে থাকেনি, শিক্ষাঙ্গনে ছিল গতি ‘দক্ষ, সক্রিয় ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা’ মনিকা পারভীনের বদলিতে প্রশ্ন সচেতন মহলে ফুলপুরের পয়ারীতে রিফাতের পক্ষে গণজোয়ার তার পক্ষে কাজ করার আগ্রহ এলাকাবাসীর রাজ্জাক হোটেলে সাংবাদিক নির্যাতন: অনুসন্ধানে গিয়ে হামলার অভিযোগ, ছিনিয়ে নেওয়া হয় ক্যামেরা-মোবাইল ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধের আহ্বান, আক্রান্তদের পাশে মানবিকতার হাত বাড়ালেন আলহাজ্ব সাজ্জাদুর রহমান মামুন ঝিনাইগাতীতে মাদক সেবনের অপরাধে ৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ২০০ টাকা নিয়ে মাওয়া ঘুরতে গিয়ে বিপাকে ৪ শিশু, পুলিশের সহায়তায় ফিরল পরিবারের কাছে নেত্রকোনায় যুবলীগের আকস্মিক মশাল মিছিল : ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমের প্রতিবাদ

দুর্গাপুরে ৬৭০ বস্তা সার উদ্ধারের ঘটনায় প্রশাসনের সংবাদ সম্মেলন- সার গায়েবের অভিযোগ নাকচ

reporter আলামিন হক বিজয়, রাজশাহী
calendar প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:০৪ অপরাহ্ণ

রাজশাহীর দুর্গাপুরে কীটনাশক ব্যবসায়ী মো. সাইদুল ইসলামের বাড়ি থেকে ৬৭০ বস্তা রাসায়নিক সার উদ্ধারের ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন করেছে উপজেলা প্রশাসন।

উদ্ধার করা সারের মধ্যে ৩২৫ বস্তা সার ‘গায়েব’ হওয়ার অভিযোগে প্রকাশিত সংবাদকে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও তথ্যবিকৃত দাবি করেছে প্রশাসন। একই সঙ্গে উদ্ধার করা সার গণনা, সংরক্ষণ, পরবর্তীতে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের মধ্যে বিতরণ এবং বিক্রির অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছে তাঁরা।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টায় দুর্গাপুর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ সম্মেলনকক্ষে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট উম্মে হাবিবা ফারজানা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাহানা পারভিন লাবনী এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লায়লা নূর তানজু উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে ১০ সেপ্টেম্বর পরিচালিত অভিযানের শুরু থেকে সার বিতরণ ও অর্থ জমা দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়।

প্রশাসনের লিখিত বক্তব্য অনুযায়ী, গত ১০ সেপ্টেম্বর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দুর্গাপুর উপজেলার ২ নম্বর কিসমতগণকৈড় ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আড়ইল গ্রামে মৃত ফছির উদ্দিনের ছেলে মো. সাইদুল ইসলামের বাড়িতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।

অভিযানের সময় বাড়িটি তালাবদ্ধ ছিল। পরে স্থানীয় জনগণের সহায়তা ও তাদের উপস্থিতিতে বাড়িতে প্রবেশ করে বারান্দা ও একটি কক্ষে বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক সার মজুদ অবস্থায় দেখতে পায় অভিযান পরিচালনাকারী দল।

এরপর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, স্থানীয় ইউপি সদস্য, গ্রাম পুলিশ ও স্থানীয় জনগণের উপস্থিতিতে মজুদ করা সারগুলো গণনা করা হয়। গণনা শেষে ৩২৪ বস্তা ডিএপি, ২৪৬ বস্তা ইউরিয়া এবং ১০০ বস্তা টিএসপি সার পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে ওই বাড়ি থেকে ৬৭০ বস্তা রাসায়নিক সার জব্দ করা হয় বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

উপজেলা প্রশাসনের দাবি, জব্দ করা সার পরবর্তীতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে কৃষকদের মধ্যে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত মাস্টাররোল সংরক্ষণ করা হয়েছে। সার বিক্রি করে পাওয়া ৭ লাখ ৮৫ হাজার ২৫০ টাকা জেলা প্রশাসকের রাজস্ব খাতের নির্ধারিত কোডে ই-চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, ১০ সেপ্টেম্বর একই ব্যক্তির পুঠিয়া উপজেলার কার্তিকপাড়া বাজারে অবস্থিত ‘মেসার্স নিশি কীটনাশক বিপণী’ নামের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। ওই অভিযানেও ৩৩০ বস্তা রাসায়নিক সার জব্দ করা হয়। ফলে দুর্গাপুরের বাড়ি থেকে ৬৭০ বস্তা এবং পুঠিয়ার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে ৩৩০ বস্তাসহ একই দিনে মোট ১ হাজার বস্তা সার জব্দ করা হয়েছিল বলে দাবি প্রশাসনের।

এ ঘটনায় জেলা প্রশাসকের নির্দেশে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) বেলায়েত হোসেনকে। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন বিএডিসি রাজশাহীর উপপরিচালক (বীজ বপন) কে. এম. গোলাম সরওয়ার এবং অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মিতা সরকার। তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জবানবন্দি গ্রহণ করেছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

লিখিত বক্তব্যে প্রশাসন আরও জানায়, অভিযুক্ত ব্যবসায়ী মো. সাইদুল ইসলাম তদন্ত কমিটির কাছে একটি স্বীকারোক্তিমূলক অডিও ও লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন। তার লিখিত বক্তব্যে রাসায়নিক সার বিক্রির লাইসেন্স না থাকার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে বলেও জানানো হয়।

প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী, সাইদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে পুঠিয়ার কার্তিকপাড়া বাজারে কীটনাশকের ব্যবসা করে আসছেন। বিভিন্ন স্থান থেকে রাসায়নিক সার সংগ্রহ করে তিনি দুর্গাপুরের আড়ইল গ্রামের নিজ বাড়িতে মজুদ করতেন এবং পরে এসব সার মৎস্যচাষীদের কাছে বিক্রি করতেন বলে তার লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ রয়েছে।

সাইদুল ইসলামের লিখিত বক্তব্যের বরাত দিয়ে প্রশাসন জানায়, ১০ সেপ্টেম্বর ভ্রাম্যমাণ আদালত তার বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করার সময় তিনি নাটোরের কাঁচিকাটা এলাকায় অবস্থান করছিলেন। তার মেয়ে নিশি খাতুন তখন বাড়িতে ছিলেন। পরে মোবাইল ফোনে তিনি জানতে পারেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৬৭০ বস্তা সার জব্দ করা হয়েছে। একই দিনে পুঠিয়ার কার্তিকপাড়া বাজারে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও অভিযান চালিয়ে ৩৩০ বস্তা সার জব্দ করা হয় বলে তার লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ রয়েছে।

এদিকে গত ১৪ সেপ্টেম্বর দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়েও সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেওয়া হয়। লিখিত বক্তব্যে দাবি করা হয়, ওই প্রতিবেদন প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক বা পত্রিকার সঙ্গে কোনো ধরনের কথা বলেননি সাইদুল ইসলাম। তিনি কাউকে কোনো জবানবন্দি বা বক্তব্য দেননি বলেও তার লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ রয়েছে।

উপজেলা প্রশাসনের দাবি, একই মালিকের দুর্গাপুরের বসতবাড়ি ও পুঠিয়ার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে একই দিনে মোট ১ হাজার বস্তা সার জব্দ করার বিষয়টি বাদ দিয়ে শুধু দুর্গাপুরের বাড়ি থেকে জব্দ করা সারকে কেন্দ্র করে ‘৩২৫ বস্তা সার গায়েব’ হওয়ার যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, সেটি সঠিক নয়। প্রশাসনের ভাষ্য, এ ধরনের সংবাদে ঘটনাটি নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার জব্দ, গণনা, বিতরণ এবং বিক্রির অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কাগজপত্র ও তথ্য উপস্থাপন করা হয়। প্রশাসন জানিয়েছে, জব্দ করা সার সরকারি নির্ধারিত মূল্যে বিতরণ করা হয়েছে এবং প্রাপ্ত অর্থ সরকারি রাজস্ব খাতে জমা দেওয়া হয়েছে।

তবে সার উদ্ধারের ঘটনাটি নিয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রশ্ন ওঠায় জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণসহ প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছে। তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অভিযানের সময় জব্দ করা সারের হিসাব, পরবর্তী বিতরণ এবং সরকারি কোষাগারে অর্থ জমা দেওয়ার বিষয়গুলো নথিপত্রের মাধ্যমে সংরক্ষিত রয়েছে। ফলে ‘সার গায়েব’ হওয়ার অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই বলে দাবি করেছে প্রশাসন। একই সঙ্গে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনেই বিষয়টির চূড়ান্ত সত্যতা ও সার্বিক পরিস্থিতি আরও পরিষ্কার হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

একই রকম সংবাদ
© সকল স্বত্ব দৈনিক ঘোষণা অনলাইন ভার্শন কর্তৃক সংরক্ষিত
Site Customized By NewsTech.Com