কক্সবাজার জেলার ৬২টি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থী ও নেতৃত্ব নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সম্ভাব্য পরিকল্পনা অনুযায়ী কয়েক ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। এরই মধ্যে চকরিয়া উপজেলার চিরিংগা ইউনিয়নেও সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে ভোটার ও স্থানীয়দের মধ্যে শুরু হয়েছে নানা হিসাব-নিকাশ।
এ আলোচনায় সম্ভাব্য নেতৃত্ব হিসেবে উঠে এসেছে নুরুন্নবীর নাম। একাধিক স্থানীয় বাসিন্দার ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক কর্মকাণ্ড, তরুণদের কল্যাণে কাজ, মাদকবিরোধী সচেতনতা, অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সহায়তা এবং সামাজিক বিচার-শালিশে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তিনি এলাকায় পরিচিত মুখ।
নুরুন্নবী চিরিংগা ইউনিয়ন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। তবে স্থানীয়দের আলোচনায় তার রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ড ও জনসম্পৃক্ততার বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
তরুণদের নিয়ে কাজের দাবি
একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, চিরিংগা ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী পালাকাটা আলিম মাদরাসার প্রাক্তন ছাত্র সংসদের সভাপতি হিসেবে নুরুন্নবী দায়িত্ব পালন করেছেন। তরুণদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন বলেও তাদের দাবি।
বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে মাদকাসক্তি থেকে দূরে রাখতে সামাজিকভাবে সচেতনতা তৈরিতে তার ভূমিকা রয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “তরুণ সমাজ একটি এলাকার ভবিষ্যৎ। তাদের সঠিক পথে রাখা, মাদক থেকে দূরে রাখা এবং শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে যারা কাজ করেন, তাদের নেতৃত্বে আসা প্রয়োজন। নুরুন্নবী দীর্ঘদিন ধরে এ বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছেন।”
অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার দাবি
স্থানীয়দের দাবি, আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা চালিয়ে নিতে নুরুন্নবী ব্যক্তিগত ও যৌথ উদ্যোগে সহযোগিতা করে আসছেন। প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষা উপকরণ ও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা অব্যাহত রাখতে উৎসাহিত করেন বলেও জানান তারা।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “অনেক পরিবার অর্থনৈতিক সংকটের কারণে সন্তানদের পড়ালেখা চালিয়ে যেতে হিমশিম খায়। এসব পরিবারের শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো একটি মানবিক কাজ। নুরুন্নবী ব্যক্তিগতভাবে এবং অন্যদের সঙ্গে নিয়ে এ ধরনের সহায়তা দিয়ে থাকেন।”
সামাজিক বিচার-শালিশে ভূমিকার কথা
চিরিংগা ইউনিয়নের বিভিন্ন সামাজিক বিরোধ ও পারিবারিক সমস্যার সমাধানে স্থানীয়ভাবে বিচার-শালিশে নুরুন্নবীর অংশগ্রহণ রয়েছে বলেও দাবি করেন স্থানীয়রা।
তাদের ভাষ্য, সামাজিক বিচার-শালিশে কোনো পক্ষকে অন্যায়ভাবে সুবিধা না দিয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন নুরুন্নবী। স্থানীয় বিরোধ শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান এবং সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার ক্ষেত্রেও তিনি ভূমিকা রাখেন বলে দাবি করা হয়।
রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মুখে থাকার দাবি
একাধিক স্থানীয় বাসিন্দার দাবি, আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১৭ বছরের শাসনামলে রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে নুরুন্নবী বিভিন্ন ধরনের চাপ, হয়রানি, লাঞ্ছনা ও অপমানের শিকার হয়েছেন। নির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপি প্রতিরোধে ভূমিকা রাখার কারণে তৎকালীন ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
উন্নয়ন ও চাঁদাবাজি বন্ধে প্রত্যাশা
চিরিংগা ইউনিয়ন একটি উৎপাদনশীল ও সম্ভাবনাময় জনপদ উল্লেখ করে স্থানীয়রা বলেন, এলাকার উন্নয়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
একজন দায়িত্বশীল স্থানীয় ব্যক্তি বলেন, “চিরিংগা ইউনিয়নের উন্নয়নমূলক কাজগুলো যেন দুর্নীতিমুক্তভাবে বাস্তবায়ন হয়, সরকারি বরাদ্দ যেন সঠিকভাবে কাজে লাগে এবং সাধারণ মানুষ যেন তাদের ন্যায্য অধিকার পায়—এমন নেতৃত্বই মানুষ প্রত্যাশা করে।”
মৎস্যঘের থেকে কথিত চাঁদাবাজি বন্ধের বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি। তার দাবি, মৎস্যচাষি ও ঘের মালিকরা যাতে কোনো ধরনের হয়রানি বা অবৈধ চাঁদাবাজির শিকার না হন, সে বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, “মৎস্যঘের থেকে চাঁদাবাজি বন্ধ, এলাকার উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করার জন্য নীতিবান নেতৃত্ব দরকার। এসব ক্ষেত্রে নুরুন্নবী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে আমরা মনে করি।”
৬২ ইউনিয়নে নির্বাচন নিয়ে প্রস্তুতি
কক্সবাজার জেলায় প্রায় ৬২টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। এসব ইউনিয়নে নির্বাচন আয়োজনকে ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থী ও সমর্থকদের মধ্যে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকার নির্বাচন কয়েক ধাপে আয়োজনের প্রাথমিক পরিকল্পনা করেছে বলে জানা গেছে। প্রাথমিক পরিকল্পনায় প্রথম ধাপের ভোট আগামী ১২ নভেম্বর থেকে শুরু হতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে। তবে নির্বাচনের চূড়ান্ত সময়সূচি, মনোনয়ন দাখিল, যাচাই-বাছাই ও ভোটগ্রহণের তারিখ নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণার পরই নিশ্চিত হবে।
এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে নয়, বরং প্রার্থী-কেন্দ্রিক বা স্বতন্ত্র পরিচয়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে ভোটের মাঠে প্রার্থীর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা, সামাজিক কর্মকাণ্ড, জনসম্পৃক্ততা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং এলাকার মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
চিরিংগায় সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে নতুন সমীকরণ
নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই চিরিংগা ইউনিয়নে সম্ভাব্য প্রার্থী ও নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ায় স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনেও তৈরি হয়েছে নতুন সমীকরণ। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ, তরুণদের নিয়ে কাজ এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ব্যক্তিদের নিয়ে ভোটারদের মধ্যে চলছে মূল্যায়ন।
একাধিক স্থানীয় বাসিন্দার মতে, চিরিংগা ইউনিয়নের জন্য এমন একজন জনপ্রতিনিধি প্রয়োজন, যিনি ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের জন্য কাজ করবেন, উন্নয়নকাজে স্বচ্ছতা রাখবেন এবং অন্যায়-অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবেন।
তাদের ভাষ্য, “সৎ, যোগ্য, নীতিবান ও দক্ষ নেতৃত্ব ছাড়া একটি ইউনিয়নের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়। চিরিংগার মানুষের প্রত্যাশা পূরণে নুরুন্নবী একজন সম্ভাবনাময় নেতৃত্ব হতে পারেন।”