হঠাৎ বন্যায় রাজশাহী জেলার বিভিন্ন এলাকায় পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন অসংখ্য মানুষ। অনেক পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছে। খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর সংকটে বিপাকে পড়েছেন বন্যাকবলিত এলাকার বাসিন্দারা। এমন পরিস্থিতিতে বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে আল-মানার গ্রুপ ও রিফাত ফাউন্ডেশন।
গতকাল সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর আল-মানার গ্রুপ ও রিফাত ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও শিল্পপতি সিরাজুম মুনীর রিফাতের ব্যক্তিগত অর্থায়নে রাজশাহী মহানগর যুবদলের মাধ্যমে বন্যাকবলিত অসহায় পরিবারের মধ্যে খাদ্য ও প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়। যুবদলের নেতাকর্মীরা সরাসরি তত্ত্বাবধান করে স্থানীয় পর্যায়ে এসব ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেন।
বন্যার কারণে যখন অনেক পরিবার স্বাভাবিক জীবনযাপন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, তখন প্রয়োজনের মুহূর্তে খাদ্য ও ত্রাণসামগ্রী পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষেরা। তাঁদের অনেকেই বলেন, দুর্যোগের সময়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ায় তাঁরা উপকৃত হয়েছেন।
ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে রাজশাহী মহানগর যুবদলের নেতাকর্মীরা সরাসরি অংশ নেন। তাঁরা বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে অসহায় ও পানিবন্দী পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং তাঁদের হাতে খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী তুলে দেন।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেন, দুর্যোগের সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানো সামাজিক দায়িত্বের অংশ। রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে দুর্যোগ মোকাবিলায় মানুষের মনোবল বাড়ে। সিরাজুম মুনীর রিফাতের উদ্যোগে পরিচালিত এই ত্রাণ কার্যক্রম তারই একটি উদাহরণ।
সিরাজুম মুনীর রিফাতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মানুষের বিপদের সময়ে পাশে দাঁড়ানোই সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।
বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের ভাষ্য, দুর্যোগের সময়ে প্রয়োজনীয় খাদ্য ও ত্রাণসামগ্রী পাওয়ায় অনেক পরিবার সাময়িকভাবে হলেও সংকট কাটিয়ে উঠতে পেরেছে।
সিরাজুম মুনীর রিফাতের মানবিক কর্মকাণ্ড শুধু রাজশাহীতেই সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর নিজ উপজেলা ময়মনসিংহের ফুলপুরেও বিভিন্ন সময় অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে রিফাত ফাউন্ডেশন। সড়ক সংস্কার, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সহায়তা, ক্রীড়া আয়োজন এবং অসহায় মানুষের মধ্যে খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণের মতো বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির সম্পৃক্ততার কথা স্থানীয়ভাবে প্রশংসা কুড়িয়েছে।
সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের পাশে থাকার যে উদ্যোগ সিরাজুম মুনীর রিফাত নিয়েছেন, তা দুর্যোগের সময়ে সহযোগিতার সংস্কৃতিকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যক্তি ও সামাজিক সংগঠনের সমন্বিত সহযোগিতা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।