বাগেরহাটের শরণখোলায় নিখোঁজের তিন দিন পর রাফি আকন (৯) নামে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে শরনখোলা থানা পুলিশ। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার খোন্তাকাটা ইউনিয়নের দক্ষিণ আমড়াগাছিয়া এলাকায় নিহত শিশুর গ্রামের বাড়ির পাশের একটি খাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।ময়না তদন্তের জন্য মরদেহটি বাগেরহাট মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহত রাফি আকনের বাবার নাম হল জসিম আকন।নিহত রাফি দক্ষিণ আমড়াগাছিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২য় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।বাবা মায়ের বিচ্ছেদের পর দাদা ও দাদীর কাছে থাকত রাফি। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেল আনুমানিক ৪ টার পর বাড়ি থেকে বের হয় রাফি। তারপর সে আর বাড়িতে ফিরে আসেনি।পরবর্তীতে পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করলেও তার সন্ধান পাননি। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টার দিকে এক প্রতিবেশী ওই খালে গোসল করতে গিয়ে কচুরিপানার নিচে একটি মরদেহ দেখতে পেলে চিৎকার করে আশেপাশের লোকদের জানান। চিৎকার শুনে আশেপাশের লোকজন ও রাফির বাবা-মাসহ স্বজনরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান।রাফির বাবা মা মরদেহটি রাফির বলে নিশ্চিত করেন। পরবর্তীতে শরণখোলা থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।রাফি নিখোঁজ হওয়ার পর তারা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেছেন বলে জানান নিহত রাফির বাবা। তিনি বলেন,তার ছেলের মৃত্যু স্বাভাবিক নয় কারণ রাফি সাঁতার জানত,খালে পড়ে তার ছেলে মারা যেতে পারে না। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা সেখানে ফেলে রাখা হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন। এ ঘটনায় তিনি সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন। রাফির মা লাকি বেগমও অভিযোগ করে বলেন, তার ছেলে সাঁতার জানত তাই খালে পড়ে মৃত্যু তার কাছে স্বাভাবিক নয়।
এ ব্যাপারে শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোকেয়া খানম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেছে।তিনি বলেন,এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১ জন মহিলা সহ ৫ জনকে থানা হেফাজতে নেয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পর শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানান তিনি।