নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভুলতা ও গোলাকান্দাইল এলাকায় কিছু হাইওয়ে পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অনিয়মিতভাবে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত এবং ভোরবেলা পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে যানবাহন থামিয়ে কাগজপত্র তল্লাশির নামে চালকদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হচ্ছে।
একাধিক ভুক্তভোগী চালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সামান্য ত্রুটি দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে টাকা দাবি করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে অর্থ না দিলে মামলা দেওয়া বা গাড়ি জব্দ করার ভয় দেখানো হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, ব্যস্ত এই মহাসড়ক ও এশিয়ান হাইওয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ দিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যানবাহন চলাচল করে। এই সুযোগে দায়িত্বে থাকা কিছু অসাধু সদস্য চালকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে অর্থ আদায় করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিশেষ করে অটোরিকশা চালকদের অভিযোগ, একসঙ্গে একাধিক নিষিদ্ধ থ্রি-হুইলার আটক করে পরে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা নেওয়ার মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়া হয়। একাধিক চালকের কাছ থেকে টাকা নিয়ে একটি রশিদে স্বাক্ষর করিয়ে দেওয়া হয় এবং পরবর্তী এক মাস আর হয়রানি করা হবে না বলে আশ্বাস দেওয়া হয়—এমন অভিযোগও উঠে এসেছে। এ ধরনের কার্যক্রমে কয়েকজন নির্দিষ্ট সদস্যের সম্পৃক্ততার কথাও শোনা যাচ্ছে।
এছাড়া বড় যানবাহনের চালকদের কাছ থেকেও কাগজপত্র যাচাইয়ের অজুহাতে মামলা আতঙ্ক দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
তবে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের দাবি, সড়কে শৃঙ্খলা রক্ষা ও আইন প্রয়োগের অংশ হিসেবেই নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে ভুলতা হাইওয়ে ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, মহাসড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন। তাদের মতে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, আর ভিত্তিহীন হলে প্রকৃত তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরা জরুরি।