পাবনার ভাঙ্গুড়ায় প্রেমের সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে এক তরুণীর কাছ থেকে গহনা ও টাকা হাতিয়ে নিয়ে বিয়ে না করার অভিযোগ উঠেছে শাকিল আহম্মেদ (২৩) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তরুণীর বাবা বাদী হয়ে ভাঙ্গুড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগের পর শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে ওই তরুণী বিয়ের দাবিতে অভিযুক্তের বাড়িতে গিয়ে একটি ঘরে অবস্থান নেন। খবর পেয়ে অভিযুক্ত শাকিল আহম্মেদ বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। ঘটনাটি উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নের রমানাথপুর গ্রামে ঘটে এবং এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত শাকিল আহম্মেদ একই গ্রামের বাসিন্দা ও অভিযোগকারীর মেয়ের চাচাতো ভাই। প্রায় দুই বছর আগে ওই তরুণীর বিয়ে পাশের চাটমোহর উপজেলার ধর্মগাছা গ্রামের এক যুবকের সঙ্গে হয়। বিয়ের পর স্বামীর সংসার করলেও বাবার বাড়িতে এলে শাকিল বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন।
লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, সম্পর্কের এক পর্যায়ে অভিযুক্ত গোপনে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করেন। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে প্রথম স্বামীকে তালাক দিয়ে তাকে বিয়ে করার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। একই সঙ্গে ঋণ পরিশোধের কথা বলে বিভিন্ন সময়ে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নেন। কিন্তু বিয়ের কথা উঠলেই তিনি নানা অজুহাতে এড়িয়ে যেতে থাকেন।
বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও কোনো সমাধান হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিস্থিতির অবনতি হলে শুক্রবার সকালে ওই তরুণী নিজেই শাকিলের বাড়িতে গিয়ে একটি কক্ষে অবস্থান নেন। তিনি বিয়ে না করলে আত্মহত্যার হুমকিও দিচ্ছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
অভিযুক্ত শাকিল আহম্মেদের বাবা আব্দুল হাকিমের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় গ্রাম্য প্রধান আব্দুল মাজেদ বলেন, “শাকিল আহম্মেদ ও তার বাবা স্থানীয়দের কোনো কথাই মানছেন না। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সমাধানের চেষ্টা হলেও তারা সহযোগিতা করেননি।”
ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাকিউল আযম বলেন, “এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।