জামালপুর পৌর শহরের ফৌজদারি মোড়ে অবস্থিত মাদ্রাসাতুন নূর আল-ইসলামিয়া ইন্টারন্যাশনালে এক শিক্ষার্থীকে শিক্ষক আতিকুর রহমানের মারধরের অভিযোগ জনমনে ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। একজন শিক্ষক শিক্ষার্থীকে শাসন করতে পারেন, কিন্তু সেই শাসন যখন নির্মম প্রহারে পরিণত হয়, তখন তা আর শিক্ষা নয়, বরং নির্যাতন।
প্রতিদিন সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যতের আশায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠান অভিভাবকরা। কিন্তু যদি সেই প্রতিষ্ঠানেই শিশুরা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়, তাহলে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভয়, আতঙ্ক ও সহিংসতার সংস্কৃতি একটি শিশুর স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে।
এ ধরনের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীরবতা আরও প্রশ্নের জন্ম দেয়। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। অন্যথায় ভবিষ্যতে আরও শিক্ষার্থী একই ধরনের নির্যাতনের শিকার হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে কোনো শিক্ষক বা কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের ওপর অমানবিক আচরণ করতে পারেন না। শিশুদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষা করা শুধু পরিবারের নয়, সমাজ ও রাষ্ট্রেরও দায়িত্ব। শিক্ষার নামে নির্যাতনের এই সংস্কৃতির বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হওয়া সময়ের দাবি।