দেশের সার্জারি অঙ্গনের অন্যতম অভিজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক ডাঃ মো. আব্দুল ওহাব খান তাঁর দীর্ঘ চিকিৎসা অভিজ্ঞতা, আধুনিক ল্যাপারোস্কপিক সার্জারিতে দক্ষতা এবং রোগীকেন্দ্রিক সেবার জন্য চিকিৎসক সমাজ ও রোগীদের কাছে সুপরিচিত। তিনি জেনারেল সার্জারি, অ্যাডভান্সড ল্যাপারোস্কপিক সার্জারি, পিত্তথলির পাথর, হার্নিয়া, পায়ুপথ ও বৃহদন্ত্রের জটিল রোগের অস্ত্রোপচারে বিশেষ পারদর্শিতা অর্জন করেছেন।
চিকিৎসা সংশ্লিষ্টদের মতে, আধুনিক ল্যাপারোস্কপিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কম আক্রমণমূলক (Minimally Invasive) অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে রোগীর ব্যথা, রক্তক্ষরণ এবং হাসপাতালে অবস্থানের সময় কমিয়ে দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে তিনি সফলভাবে কাজ করে আসছেন। তাঁর চিকিৎসা পদ্ধতিতে আন্তর্জাতিক মানের সার্জিক্যাল নীতিমালা, নির্ভুলতা এবং রোগীর নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সম্প্রতি বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতির চেয়ারম্যান মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসার সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেন অধ্যাপক ডাঃ মো. আব্দুল ওহাব খান। গত ১১ জুলাই ২০২৬ ঢাকার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (সাবেক পিজি হাসপাতাল)-এ তাঁর তত্ত্বাবধানে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। অস্ত্রোপচারের পর হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সদের নিবিড় পরিচর্যায় রোগীর শারীরিক অবস্থার ধারাবাহিক উন্নতি ঘটে।
হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পরও চিকিৎসা প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নিয়মিত ফলোআপ অব্যাহত রাখা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় গত ৩০ জুলাই ২০২৬ অরোরা স্পেশালাইজড হাসপাতালে রোগীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ক্ষতস্থানের অগ্রগতি মূল্যায়ন করেন অধ্যাপক ডাঃ মো. আব্দুল ওহাব খান। পরবর্তীতে ১ আগস্ট ২০২৬ পুনরায় ফলোআপ পরীক্ষায় রোগীর সার্বিক শারীরিক অবস্থার উন্নতি পর্যালোচনা করা হয় এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ প্রদান করা হয়।
মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা চিকিৎসা-পরবর্তী সময়ে অধ্যাপক ডাঃ মো. আব্দুল ওহাব খান এবং তাঁর চিকিৎসক দলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দক্ষ চিকিৎসা, আন্তরিকতা এবং নিয়মিত তদারকির ফলে তিনি ধীরে ধীরে সুস্থতার পথে এগিয়ে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে তিনি দেশ-বিদেশে অবস্থানরত শুভাকাঙ্ক্ষী, সহকর্মী, বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ীদের দোয়া, শুভকামনা এবং মানসিক সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।
অধ্যাপক ডাঃ মো. আব্দুল ওহাব খান শুধু একজন দক্ষ সার্জনই নন, তিনি নতুন প্রজন্মের চিকিৎসকদের কাছেও একজন অনুকরণীয় শিক্ষক ও পথপ্রদর্শক হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি অসংখ্য জটিল অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন এবং চিকিৎসা শিক্ষার উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। তাঁর পেশাগত সততা, মানবিক আচরণ এবং রোগীর প্রতি নিবেদিত মনোভাব তাঁকে চিকিৎসা অঙ্গনে বিশেষ মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জটিল সার্জারির ক্ষেত্রে দক্ষ চিকিৎসক নির্বাচন, নির্ভুল রোগ নির্ণয়, সময়মতো অস্ত্রোপচার এবং অস্ত্রোপচারের পর নিয়মিত ফলোআপ—এই চারটি বিষয় রোগীর দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অধ্যাপক ডাঃ মো. আব্দুল ওহাব খানের চিকিৎসা কার্যক্রমে এই সমন্বিত পদ্ধতির প্রতিফলন দেখা যায়।
চিকিৎসাসেবার উৎকর্ষ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং রোগীর প্রতি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে অধ্যাপক ডাঃ মো. আব্দুল ওহাব খান দেশের সার্জারি অঙ্গনে একজন আস্থার প্রতীক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাঁর মতো অভিজ্ঞ ও নিবেদিতপ্রাণ চিকিৎসকদের হাত ধরেই দেশের স্বাস্থ্যসেবা আরও সমৃদ্ধ ও আধুনিক হয়ে উঠবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।