1. masudkhan89@yahoo.com : Ghoshana Desk :
  2. zunayedafif18@gmail.com : Mahir Al Mahbub : Mahir Al Mahbub
  3. masudkhan89@gmail.com : Masud Khan : Masud Khan
বৃক্ষরোপণ শুধু কর্মসূচি নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি আমাদের দায়িত্ব” : এমপি মিলন - দৈনিক ঘোষণা
ব্রেকিং নিউজ :
বৃক্ষরোপণ শুধু কর্মসূচি নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি আমাদের দায়িত্ব” : এমপি মিলন বগুড়ার গাবতলীতে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এম আর রিপন ময়মনসিংহে ইআরবি’র আয়োজনে মাদরাসায় উচ্চ শিক্ষার সম্ভাবনা -চ্যালেঞ্জ শীর্ষক সেমিনার অপরিকল্পিত নগরায়ন ও ড্রেন না থাকায় দিগপাইতে জলাবদ্ধতা: চরম ভোগান্তিতে পথচারী ও ব্যবসায়ীরা বিশ্ব স্কাউট স্কার্ফ দিবস উদযাপিত: হালুয়াঘাটে বর্ণাঢ্য আয়োজন ও সভা জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে কক্সবাজার জেলা জামায়াতের গণমিছিল অনুষ্ঠিত পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গাছ আমাদের পরম বন্ধু -রুহুল আমিন সুন্দরবন সংলগ্ন খোলপেটুয়া ও কপোতক্ষ নদী এখন বালু লুটকারীদের দখলে, বেড়ীবাঁধের ২০ স্থানে ভাঙ্গন, আতংকে ৩০ গ্রাম সিংগাইরে জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত চরফ্যাশনে পুকুর থেকে অজ্ঞাত যুবকের লাশ উদ্ধার

বৃক্ষরোপণ শুধু কর্মসূচি নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি আমাদের দায়িত্ব” : এমপি মিলন

reporter মোঃ নাসিরউদ্দিন 
calendar প্রকাশিত: ১ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৪৫ অপরাহ্ণ

আদিবাসী নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী ওরাং নৃত্যের তালে তালে উৎসবমুখর পরিবেশে রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলনকে স্বাগত জানান শিশু প্রভাত বিদ্যানিকেতনের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। নৃত্যের ছন্দে ফুটে ওঠে আদিবাসী সমাজের জীবনধারা, সংস্কৃতি, ধর্মীয় বিশ্বাস ও প্রকৃতির প্রতি গভীর ভালোবাসা। সেই বর্ণিল আয়োজনের মধ্যেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পরিণত হয় আনন্দ-উৎসবে। পবা উপজেলার ভুগরইল খ্রিষ্টানপাড়ার শিশু প্রভাত বিদ্যানিকেতনে শনিবার (১ আগস্ট) সকাল ১০টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ ও বৃক্ষরোপণ অনুষ্ঠানে আয়োজন করা হয়েছে। নকশী কাঁথার প্রতিটি সেলাইয়ের আয়েই পরিচালিত এই ব্যতিক্রমী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফল হাতে পেয়ে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে শিক্ষার্থীরা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন শিক্ষার্থীদের হাতে পরীক্ষার ফল তুলে দেন, কৃতীদের অভিনন্দন জানান এবং অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করেন। পরিবেশ সংরক্ষণের বার্তা ছড়িয়ে দিতে প্রতিটি শিক্ষার্থীর হাতে একটি করে গাছ তুলে দিয়ে তার পরিচর্যার দায়িত্বও অর্পণ করেন তিনি। পেয়ারা গাছের চারা উপহার পেয়ে অর্ধবার্ষিকী চতুর্থ শ্রেণির পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জনকারী শিক্ষার্থী সূর্য বিশ্বাস বলেন, “প্রথম হতে পেরে আমি খুব আনন্দিত। এমপি স্যার আমাকে একটি পেয়ারা গাছ উপহার দিয়েছেন, এটি আমি বাড়িতে লাগিয়ে নিয়মিত পরিচর্যা করব। গাছটি বড় হলে এর ফল খাওয়ার পাশাপাশি অন্যদেরও গাছ লাগাতে উৎসাহিত করব।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি মিলন বলেন, “বৃক্ষরোপণ শুধু কর্মসূচি নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি আমাদের দায়িত্ব। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রতিটি মানুষকে বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে এবং পরিচর্যা করতে হবে। শিশুদের ছোটবেলা থেকেই প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতে পারলে একটি সবুজ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।” বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যানের ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে থাকা তারেক রহমানের ঘোষিত পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবেই বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে।
বিদ্যানিকেতন প্রশংসা করে তিনি আরও বলেন, “শিশু প্রভাত বিদ্যানিকেতন শিক্ষা, স্বাবলম্বিতা ও সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এখানে শিক্ষার সঙ্গে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের যে সমন্বয় ঘটেছে, তা দেশের জন্য অনুকরণীয়। সুমী মুর্মুর এই উদ্যোগ প্রমাণ করেছে, আন্তরিকতা থাকলে সীমিত সম্পদ দিয়েও বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব। এই প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নিতে সবাইকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নারী ও শিশু কল্যাণ সংস্থার চেয়ারম্যান ও শিশু প্রভাত বিদ্যানিকেতনের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক সুমী মুর্মু। নারী ও শিশু কল্যাণ সংস্থার সহযোগিতায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, ভুগরইল গির্জার ফাদার পল পিটার কস্তা, পবা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুর রাজ্জাক, কৃষক দল কেন্দ্রীয় কমিটির রাজশাহী বিভাগের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ওয়াদুদ হাসান পিন্টু, জেলা যুবদলের সদস্য ইফতেখারুল ইসলাম ডনি ও গ্রাম্য প্রধান জুলিয়ান বিশ্বাস। সভাপতির বক্তব্যে সুমী মুর্মু বলেন, “আমাদের বিশ্বাস, একজন শিক্ষিত শিশুই একটি আলোকিত পরিবারের ভিত্তি। তাই মায়েদের স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি শিশুদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করছি। নকশিকাঁথার প্রতিটি সেলাই আমাদের শিশুদের ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। আমরা বইয়ের শিক্ষার পাশাপাশি মানবিকতা, সম্প্রীতি ও পরিবেশ সচেতনতার শিক্ষাও দিতে চাই। সবার সহযোগিতা পেলে এই উদ্যোগ আরও অনেক শিশুর জীবনে আলো ছড়িয়ে দিতে পারবে।”
উল্লেখ্য, শিশু প্রভাত বিদ্যানিকেতন একটি সম্পূর্ণ স্বনির্ভর শিক্ষা উদ্যোগ। বিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত সাঁওতাল নারীরা নকশিকাঁথা তৈরি করে যে আয় করেন, তার একটি অংশ বিদ্যালয় পরিচালনায় ব্যয় করা হয়। বর্তমানে এখানে আদিবাসী শিশুদের পাশাপাশি বাঙালি মুসলিম ও হিন্দু সম্প্রদায়ের শিশুরাও একসঙ্গে পড়াশোনা করছে। শিক্ষা, স্বাবলম্বিতা ও সম্প্রীতির এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ইতোমধ্যেই এলাকায় একটি অনুকরণীয় মডেল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

একই রকম সংবাদ
© সকল স্বত্ব দৈনিক ঘোষণা অনলাইন ভার্শন কর্তৃক সংরক্ষিত
Site Customized By NewsTech.Com