1. masudkhan89@yahoo.com : Ghoshana Desk :
  2. zunayedafif18@gmail.com : Mahir Al Mahbub : Mahir Al Mahbub
  3. masudkhan89@gmail.com : Masud Khan : Masud Khan
  4. mstkfofa@gmail.com : Nx fhqt8p : Nx fhqt8p
  5. wpsvc_fkmdmu@gmail.com : wpsvc_fkmdmu :
  6. xtw18387+1aaa@outlook.com : xtw183871aaa :
দুর্নীতিবাজ সরকারি চাকরিজীবীরা কি আইনের ঊর্ধ্বে? - দৈনিক ঘোষণা
ব্রেকিং নিউজ :
সরকারের বিরোধীতা করলে জণগনের প্র’তি’রো’ধের মুখে পড়তে হবে- এনসিপি-জামায়াত ইসলামের উদ্দ্যেশে এমপি খোকন তালুকদার নালিতাবাড়ীতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে হাজী ফরহাদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা সীমান্তে ২ বছরেও মেলেনি আরাকান আর্মির হাতে অপহৃত ৪ জেলের হদিস মাদারীপুরে ৩০০ (তিনশত) পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার সহ দুইজন গ্রেফতার। বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে রাঙামাটিতে মাছ অবমুক্ত ও বৃক্ষরোপণ জামালপুরের খাদ্য কর্মকর্তা পাপেলের পরকীয়া কেলেঙ্কারি ও কোটি টাকার সম্পদের পাহাড় বাবার প্রতিশ্রুতি রক্ষায় খেটে-খাওয়া মানুষের পাশে সায়েম মালতিয়া মুক্তাগাছায় খড়ের দাম আকাশছোঁয়া, এক আঁটি ২০–২৫ টাকা লক্ষ্মীপুরে বিএনপি ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য আয়োজন ৩২০ টাকার বিরোধে মারামারি, গ্রাম্য বিচারের জের গড়াল আদালতে

দুর্নীতিবাজ সরকারি চাকরিজীবীরা কি আইনের ঊর্ধ্বে?

reporter বাদল চৌধুরী
calendar প্রকাশিত: ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৪০ অপরাহ্ণ

রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো আইন ও ন্যায়বিচার। রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের জন্য আইন সমান এই নীতিই একটি গণতান্ত্রিক ও সভ্য রাষ্ট্রের মূল শক্তি। অথচ বাস্তবতার দিকে তাকালে মাঝে মাঝে এমন প্রশ্ন ওঠে দুর্নীতিবাজ সরকারি চাকরিজীবীরা কি সত্যিই আইনের ঊর্ধ্বে?
সরকারি চাকরিজীবীদের অধিকাংশ কোটিপতি পরিবার থেকে আসেনি , অথচ চাকরি পাওয়ার পর কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক বনে যান কিভাবে? বেতন হিসাব করলে তার সংসার চালানোর পর খুব সঞ্চয় থাকার কথা নয় | তাহলে প্রশ্ন উঠছে অধিকাংশ সরকারি চাকরিজীবীদের কোটি কোটি টাকার উৎস কোথায়? সরকারি চাকরিজীবীদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব জনগণের সেবা করা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও ক্ষমতার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা। কিন্তু কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী যদি ঘুষ গ্রহণ, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, অবৈধ সম্পদ অর্জন, ক্ষমতার অপব্যবহার কিংবা দায়িত্বে অনিয়মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন, তাহলে তিনি শুধু একটি আইন ভঙ্গ করেন না; তিনি রাষ্ট্রের প্রতি জনগণের আস্থাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের সরকারি নথিতেও সরকারি কর্মচারীদের ঘুষ গ্রহণ, অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ বিভিন্ন দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডকে আইনের আওতাভুক্ত অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রশ্ন হলো, আইন থাকার পরও দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত কিছু সরকারি কর্মকর্তা কেন দীর্ঘদিন ধরেই প্রভাবশালী অবস্থানে থেকে যান? কেন অনেক ক্ষেত্রে তদন্ত শেষ হতে দীর্ঘ সময় লাগে? কেন দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত সম্পদের তুলনায় শাস্তির ঝুঁকি অনেক সময় কম বলে মনে হয়? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে শুধু দুর্নীতিবাজ ব্যক্তিকে নয়, পুরো ব্যবস্থাকেও পর্যালোচনা করতে হবে।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হলে রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক পরিচয় কোনোভাবেই ঢাল হতে পারে না। সরকারি চাকরির পদমর্যাদা যত বড়ই হোক, আইনের দৃষ্টিতে অপরাধের বিচার একই নীতিতে হওয়া উচিত। দুদক নির্দিষ্ট দুর্নীতি ও সংশ্লিষ্ট অপরাধের বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনার আইনগত ক্ষমতা রাখে এবং এসব মামলা বিশেষ আদালতে বিচারযোগ্য।
তবে শুধু মামলা করলেই দুর্নীতি নির্মূল হবে না। প্রয়োজন দ্রুত, নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত তদন্ত; অবৈধ সম্পদের কার্যকর অনুসন্ধান; অপরাধ প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা এবং একই সঙ্গে নিরপরাধ ব্যক্তির প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।
সর্বোপরি দুূদককে আরও শক্তিশালী এবং সাহসী গঠনমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে | মনে রাখতে হবে সর্ষের মধ্যে যেন ভূত না থাকে | কোনো কর্মকর্তা দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত হলেই তিনি অপরাধী হয়ে যান না চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে হবে আইনসম্মত তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে।
সরকারি দপ্তরে দুর্নীতি কমাতে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা বাড়ানোও জরুরি। নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি, সরকারি ক্রয়, প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং সেবা প্রদানের প্রতিটি পর্যায়ে ডিজিটাল ব্যবস্থা ও কার্যকর নজরদারি বাড়াতে হবে। দুর্নীতির অভিযোগকারী বা তথ্যদাতাকে নিরাপত্তা দিতে হবে, যাতে ভয় বা প্রতিশোধের আশঙ্কায় কেউ সত্য প্রকাশ থেকে পিছিয়ে না যান।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দুর্নীতির সঙ্গে আপসের সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। একজন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা যদি রাজনৈতিক, প্রশাসনিক বা সামাজিক প্রভাবের কারণে আইনের হাত থেকে রেহাই পান, তাহলে তার প্রভাব শুধু একটি প্রতিষ্ঠানে সীমাবদ্ধ থাকে না; ধীরে ধীরে পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থায় অনিয়মের সংস্কৃতি তৈরি হয়।
তাই স্পষ্ট করে বলতে হয়, দুর্নীতিবাজ সরকারি চাকরিজীবী আইনের ঊর্ধ্বে নন, হওয়াও উচিত নয়। সরকারি পদ কোনো ব্যক্তিকে আইনের ঊর্ধ্বে যাওয়ার অধিকার দেয় না। বরং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও জনগণের অর্থের দায়িত্ব যাদের হাতে, তাদের জবাবদিহি আরও বেশি হওয়া উচিত।
আইনের শাসন তখনই প্রতিষ্ঠিত হবে, যখন সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিও একই আইনের কাছে জবাবদিহি করবেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোরতা মানে প্রতিহিংসা নয়; বরং ন্যায়বিচার, রাষ্ট্রের সম্পদের সুরক্ষা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা।
দুর্নীতিবাজের পরিচয় তার পদ নয় তার অপরাধ। আর অপরাধী যত ক্ষমতাবানই হোক, আইনের আওতায় তাকে আনাই একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তাই দুর্নীতি দমনে সরকারের বলিষ্ঠ পদক্ষেপ সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত হবে |

লেখক : সভাপতি বাংলাদেশ নিউজ এডিটরস গিল্ড

Please Share This Post in Your Social Media

একই রকম সংবাদ
© সকল স্বত্ব দৈনিক ঘোষণা অনলাইন ভার্শন কর্তৃক সংরক্ষিত
Site Customized By NewsTech.Com