বয়স ছুঁয়েছে চল্লিশের কোঠায়। শিক্ষাজীবন শেষ করে এই বয়সে তরুণরা যখন প্রাতিষ্ঠানিক পেশা কিংবা উন্নত ভবিষ্যৎ গড়ার প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত থাকেন, ঠিক তখনই এক বিপরীত মেরুর পথ বেছে নিয়েছেন আবু সায়েম মালতিয়া। ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের উজ্জ্বল সম্ভাবনা ও মোহ ত্যাগ করে তিনি রাজপথে নেমেছেন বাবার আদর্শ ধারণ করে। ভোলা-৪ (চরফ্যাশন-মনপুরা) আসনের প্রখ্যাত জননেতা মরহুম আবদুস সহিদ মালতিয়ার দেখানো জনকল্যাণমুখী পথ ধরে তিনি এখন চরফ্যাশনের মাদ্রাজ ইউনিয়নের খেটে-খাওয়া মেহনতী মানুষের অধিকার আদায়ের মূল ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন।
চরফ্যাশন ও মনপুরা অঞ্চলের রাজনীতির ইতিহাসে ‘মরহুম আবদুস সহিদ মালতিয়া’ একটি অবিস্মরণীয় নাম। তিনি একাধারে ছিলেন মাদ্রাজ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সফল চেয়ারম্যান, চরফ্যাশন উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সফল সাধারণ সম্পাদক এবং সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী। ১৯৯৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর এই নেতার প্রয়াণের পর তিন দশক পেরিয়ে গেলেও উপকূলীয় এলাকার সাধারণ মানুষের স্মৃতিতে তাঁর অবদান আজও অমলিন। পিতার সেই রেখে যাওয়া সামাজিক দায়বদ্ধতা ও অসমাপ্ত স্বপ্নের সারথি হয়েই রাজনীতিতে নামেন তাঁর সন্তান সায়েম মালতিয়া।
তৃণমূলের অবহেলিত মানুষের দীর্ঘদিনের সুনির্দিষ্ট দাবি এবং ভালোবাসার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মাদ্রাজ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আবু সায়েম মালতিয়া। প্রার্থিতা ঘোষণার পর থেকেই ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডের পাড়া-মহল্লা, হাট-বাজার, মাছের আড়ত ও খেয়াঘাটগুলোতে নিবিড় প্রচারণা ও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে আবু সায়েম মালতিয়া বলেন, ‘পড়াশোনা শেষ করে নিজের একটি সাজানো ক্যারিয়ার গড়ার পূর্ণ সুযোগ আমার সামনে ছিল। কিন্তু শৈশব থেকে দেখে আসা বাবার প্রতি মানুষের অগাধ ভালোবাসা এবং মাদ্রাজের খেটে-খাওয়া মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার তাড়না আমাকে থামতে দেয়নি। পদ-পদবি আমার উদ্দেশ্য নয়; বাবার অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করা এবং মাদ্রাজকে একটি বৈষম্যহীন, চাঁদাবাজমুক্ত ও আধুনিক ইউনিয়নে রূপান্তর করাই আমার মূল লক্ষ্য।’
কোনো ধরনের প্রথাগত আনুষ্ঠানিকতার বদলে সরাসরি সাধারণ মানুষের দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে কুশল বিনিময় করছেন এই তরুণ নেতা। মেঘনা উপকূলীয় এলাকার প্রান্তিক জেলে সম্প্রদায় ও কৃষকদের সাথে কথা বলে তাঁদের নানাবিধ প্রাত্যহিক সমস্যার সমাধান ও ন্যায্য অধিকার আদায়ে পাশে থাকার দৃঢ় আশ্বাস দিচ্ছেন তিনি।
প্রচারণায় নেমে সাধারণ ভোটারদের ব্যাপক সাড়াও পাচ্ছেন সায়েম মালতিয়া। ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্রবীণ কৃষক মো. সামছুল হক আবেগে আপ্লুত হয়ে বলেন, ‘সহিদ চেয়ারম্যানের শাসনকাল আমরা নিজের চোখে দেখছি, তিনি আছিলেন গরিব মানুষের আসল অভিভাবক। তাঁর পোলা সায়েম যখন আমাগো দুয়ারে আসে, মনে হয় পুরোনো সেই অভিভাবকই আবার আমাগো মাঝে ফিরে আইছেন। আমরা তাঁর কাজের মধ্যে বাবার ছায়া পাই।’
স্থানীয় প্রবীণ রাজনীতিবিদদের মতে, ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের চিন্তা না করে তৃণমূলের মেহনতী মানুষের পাশে দাঁড়ানোর যে নৈতিক সাহসিকতা সায়েম মালতিয়া দেখিয়েছেন, তা স্থানীয় রাজনীতির ধারায় এক ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। ইউনিয়ন বিএনপির প্রবীণ নেতা মাস্টার রফিকুল ইসলাম জানান, ‘সহিদ মালতিয়া ছিলেন গণমানুষের লড়াকু নেতা। তাঁর রক্তের উত্তরসূরি সায়েম শিক্ষাজীবন শেষে মেহনতী মানুষের সেবায় যেভাবে মাঠে নেমেছেন, তাতে প্রবীণদের আস্থার পাশাপাশি তরুণ সমাজও এক নতুন দিশা খুঁজে পাচ্ছে।’
ভোলা উপকূলের সাধারণ মানুষ মনে করছেন, যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে আবু সায়েম মালতিয়া কেবল তাঁর বাবার স্মৃতি ও ঐতিহ্যকেই বাঁচিয়ে রাখবেন না, বরং আসন্ন নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে মাদ্রাজ ইউনিয়নের প্রতিটি নাগরিকের সুশাসন ও অধিকার নিশ্চিত করতে দৃষ্টান্তমূলক ভূমিকা রাখবেন।