দীর্ঘ ৩২ বছর প্রবাসে কর্মরত থাকা কর্মচারী অসুস্থ এ খবর পেয়েই হাজার হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে ছুটে এসেছেন সৌদি নাগরিক ও কফিল আব্দুল লতিফ। অসুস্থ কর্মচারীকে দেখতে সৌদি আরব থেকে তাঁর এই মানবিক উদ্যোগে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন স্থানীয়রা।
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার সতী গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস শুক্কুর জীবিকার তাগিদে প্রায় ৩২ বছর সৌদি আরবের জেদ্দার শামির এলাকায় কফিল আব্দুল লতিফের অধীনে বিল্ডিং কনস্ট্রাকশনের কাজে নিয়োজিত ছিলেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে কয়েকবার দেশে আসা-যাওয়া করলেও প্রায় তিন বছর আগে তিনি স্থায়ীভাবে বাংলাদেশে ফিরে আসেন।
দেশে ফেরার পরও আব্দুস শুক্কুরের সঙ্গে তাঁর সৌদি কফিল আব্দুল লতিফের যোগাযোগ অব্যাহত ছিল। সম্প্রতি আব্দুস শুক্কুর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এমন খবর পান আব্দুল লতিফ। দীর্ঘদিনের কর্মচারীর অসুস্থতার খবর শুনে তাঁকে দেখতে বাংলাদেশে আসার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান। কর্মচারীর অসুস্থতার খবর পেয়ে সুদূর সৌদি আরব থেকে তাঁর বাংলাদেশে ছুটে আসার বিষয়টি জানাজানি হলে বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকায় আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আব্দুস শুক্কুরের ছেলে ও গোয়াইনঘাট সরকারি কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক রাসেল আহমদ। তিনি বলেন, ‘আমার বাবার অসুস্থতার খবর পেয়ে কফিল আব্দুল লতিফ সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে এসেছেন।’দীর্ঘ কর্মজীবনের সম্পর্ক পেরিয়ে কর্মচারীর অসুস্থতার সময়ে তাঁকে দেখতে কফিলের এভাবে ছুটে আসার ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা ও আবেগের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয়দের মতে, আব্দুল লতিফের এ উদ্যোগ শুধু একজন কর্মচারীর প্রতি দায়িত্ববোধের বহিঃপ্রকাশ নয়; বরং এটি দীর্ঘদিনের মানবিক সম্পর্ক ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। অর্থনৈতিক ও কর্মক্ষেত্রের সম্পর্কের বাইরেও যে মানুষের সঙ্গে মানুষের গভীর আত্মিক সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে, আব্দুল লতিফের বাংলাদেশে ছুটে আসার ঘটনা তারই উজ্জ্বল উদাহরণ।