1. masudkhan89@yahoo.com : Ghoshana Desk :
  2. zunayedafif18@gmail.com : Mahir Al Mahbub : Mahir Al Mahbub
  3. masudkhan89@gmail.com : Masud Khan : Masud Khan
পদ্মার বুকে ‘মিডলচর’ মাতাচ্ছে রাজশাহী, নিরাপত্তাহীন নৌযাত্রায় আতঙ্ক - দৈনিক ঘোষণা
ব্রেকিং নিউজ :
খুলনায় দৈনিক প্রবাহ অফিসে হামলাকারীদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত। নলডাঙ্গায় সোনালু-কদমের গাছের চারা রোপন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বুড়িগোয়ালিনী সুইচ গেট স্থানীয়দের মনে আতঙ্ক জামিনের পর বাড়ি ফেরার পথে ফের গ্রেপ্তার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের নেতা আগৈলঝাড়ায় ওসির নেতৃত্বে ৮০ পিস ইয়াবাসহ ছয়জন গ্রেপ্তার চকরিয়ায় যাত্রীবাহী লেগুনা ও বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন নিহত আহত ৬ ফুলবাড়ীতে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা পটিয়ায় হাট মাতাচ্ছে সাড়ে চার লাখ টাকার ‘মেসি’ লোহাগাড়া, সাতকানিয়া, চন্দনাইশ, পটিয়া ও বোয়ালখালীতে ট্রাফিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম জরাজীর্ণ ভবনে মুখ থুবড়ে পড়েছে বিরল স্থল শুল্ক স্টেশন, নিয়মিত ঝুলছে তালা

পদ্মার বুকে ‘মিডলচর’ মাতাচ্ছে রাজশাহী, নিরাপত্তাহীন নৌযাত্রায় আতঙ্ক

reporter নাহিদ ইসলাম, রাজশাহী
calendar প্রকাশিত: ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৫১ অপরাহ্ণ

রাজশাহীর পদ্মা নদীর মাঝের চরাঞ্চল ‘মিডলচর’ এখন নগরবাসীর অন্যতম আকর্ষণীয় ভ্রমণকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনই রাজশাহী নগরীসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত মানুষ নৌকায় পদ্মা নদী পেরিয়ে এই চরে ঘুরতে যাচ্ছেন। বিশেষ করে বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তরুণ-তরুণী ও কিশোর-কিশোরীদের উপস্থিতি বাড়তে দেখা যাচ্ছে। তবে দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়লেও নিরাপদ নদী পারাপার ও চর এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেল চারটার দিকে নগরীর মিজানুর মোড়সংলগ্ন নদীপাড়ে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিপুলসংখ্যক মানুষ নৌকায় পদ্মা নদী পেরিয়ে মিডলচরের উদ্দেশ্যে যাতায়াত করছেন। নদী পারাপারের জন্য জনপ্রতি ৫০ টাকা ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। একেকটি নৌকায় ধারণক্ষমতার তুলনায় বেশি যাত্রী তোলা হচ্ছে। যাত্রীদের কারও কাছেই লাইফ জ্যাকেট নেই। নৌকাগুলোতেও পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট বা অন্য কোনো নিরাপত্তা সরঞ্জাম দেখা যায়নি।

দর্শনার্থীদের অভিযোগ, নৌকাগুলো অনেকটা ইচ্ছেমতো চলাচল করছে। যাত্রী ওঠানামার সময় যাত্রীসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ কিংবা নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেই। ফলে মাঝনদীতে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।মাঝিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে মিডলচরে যাতায়াতের জন্য প্রায় ৮ থেকে ১০টি নৌকা চলাচল করছে। এসব নৌকায় যাত্রীপ্রতি যাওয়া-আসার ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ৫০ টাকা।রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম বলেন, মিডলচরে যাতায়াতের জন্য জনপ্রতি ৫০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে, কিন্তু নিরাপত্তার জন্য কোনো ব্যবস্থা নেই। নৌকায় লাইফ জ্যাকেটও দেওয়া হচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, কোনো নৌকা দুর্ঘটনার কবলে পড়লে একসঙ্গে অনেক মানুষের প্রাণহানি ঘটতে পারে। এখানে সন্ধ্যা পর্যন্ত অনেক তরুণ-তরুণী আড্ডা দেন, কিশোর-কিশোরীরাও ঘোরাফেরা করে। কিন্তু দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত সহায়তা করার মতো কোনো কর্তৃপক্ষ বা নিরাপত্তাকর্মীর উপস্থিতি নেই।নদীর ওপারে মিডলচরে গিয়ে দেখা যায়, বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে দর্শনার্থীদের ভিড় আরও বাড়ছে। নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা তরুণ-তরুণী ও কিশোর-কিশোরীরা দলবেঁধে চরে অবস্থান করছেন। অনেকে সন্ধ্যার পরও সেখানে আড্ডা দিচ্ছেন।তবে চর এলাকায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নেই। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে বিস্তীর্ণ এলাকা অন্ধকারে ডুবে যায়। নিরাপত্তার জন্য পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃশ্যমান উপস্থিতিও দেখা যায়নি। ফলে সন্ধ্যার পর পুরো এলাকা অনেকটাই অন্ধকার ও নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে।

ঘুরতে আসা মো. মাহফুজ বলেন, সন্ধ্যা নামলেই পুরো চরাঞ্চল অন্ধকার হয়ে যায়। সেখানে কোনো লাইট বা পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নেই। ফলে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।তিনি আরও বলেন, চরে সাপসহ বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকি রয়েছে। পানি ও বাতাসের কারণে অনেক মানুষ এখানে ঘুরতে আসছেন। কিন্তু এখানে পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্যের উপস্থিতি দেখিনি, অথচ প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ এখানে আসছেন।

নৌকার মাঝি রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতি জনের যাওয়া-আসার জন্য ৫০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে।নৌকায় লাইফ জ্যাকেট না থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এমন কিছু হবে না।নৌকায় কতজন যাত্রী নেওয়া হচ্ছে এবং অতিরিক্ত যাত্রী তোলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আপনার ভালো লাগলে যান, কতজন যাওয়ার জন্য বসে আছে।’

এ বিষয়ে রাজশাহী মহানগর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক বিকাশ মণ্ডল বলেন, মিডলচর নামে নতুন একটি চর জেগে ওঠার বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না। আপনার কাছ থেকে বিষয়টি জানলাম। আমরা খোঁজখবর নেব এবং যারা নদী পারাপার করছেন, তাদের ঝুঁকিপূর্ণভাবে পারাপার না হওয়ার জন্য অনুরোধ করবো।তিনি বলেন, আমাদের যেসব ঘাট রয়েছে, সেসব ঘাটে প্রায় প্রতিদিনই মাঝিদের সতর্ক করা হয়। নৌকায় যাত্রী পারাপারের সময় অন্তত জীবন রক্ষার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, বিশেষ করে লাইফ জ্যাকেটসহ নিরাপত্তা উপকরণ রাখার জন্য তাদের বলা হয়। নদী পারাপারের সময় জীবনের ঝুঁকি না নিতে আমরা সবসময় মানুষকে সচেতন করি।

বিকাশ মণ্ডল আরও বলেন, মানুষকে বারবার বলা হচ্ছে, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যেন কেউ নদী পারাপার না করেন। কিন্তু কেউ যদি নিজের জীবনের নিরাপত্তার বিষয়টি নিজে না বোঝেন, তাহলে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রতিটি নৌকায় গিয়ে সব ধরনের নিরাপত্তা সরঞ্জাম সরবরাহ করা সম্ভব নয়। এগুলো নৌকার মালিক ও মাঝিদেরই সংরক্ষণ করতে হবে এবং যাত্রীদেরও সচেতন হতে হবে।

তিনি বলেন, নৌ পুলিশ সবসময়ই মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করে। বিভিন্ন সভা, মিছিল ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমেও সবাইকে জীবনের ঝুঁকি না নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

মিডলচরে দর্শনার্থীর সংখ্যা দিন দিন বাড়লেও নিরাপদ নদী পারাপার, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সহায়তার জন্য দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না থাকায় উদ্বেগ বাড়ছে। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নৌকায় ধারণক্ষমতা অনুযায়ী যাত্রী পরিবহন, পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট সরবরাহ এবং চর এলাকায় প্রয়োজনীয় আলোর ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

Please Share This Post in Your Social Media

একই রকম সংবাদ
© সকল স্বত্ব দৈনিক ঘোষণা অনলাইন ভার্শন কর্তৃক সংরক্ষিত
Site Customized By NewsTech.Com