একসময় যেখানে ভেসে উঠত জমজমাট চলচ্চিত্রের দৃশ্য, আর দর্শকের করতালি ও উচ্ছ্বাসে মুখরিত থাকত চারপাশ—সেই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাগৃহটি আজ স্রেফ একটি ডাম্পিং স্টেশনে পরিণত হয়েছে। ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট উপজেলার পশ্চিম অংশে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ‘মৈত্রী সিনেমা হল’টি বর্তমানে ময়লা-আবর্জনা ও বর্জ্যের স্তূপে ঢেকে গেছে।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, নব্বইয়ের দশক এবং ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকেও এই প্রেক্ষাগৃহে নিয়মিত সামাজিক, পারিবারিক ও সুস্থ ধারার চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হতো। সাপ্তাহিক ছুটির দিন কিংবা ঈদের মৌসুমে হালুয়াঘাট ও আশপাশের এলাকা থেকে শত শত দর্শক ভিড় জমাতেন মৈত্রী সিনেমা হলে। তৎকালীন সময়ে স্থানীয় মানুষের বিনোদনের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু ছিল এটি।
তবে ডিজিটাল প্রযুক্তি ও ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার যুগে এসে দিন দিন দর্শক কমতে থাকে। হাতে থাকা মুঠোফোনে সহজেই সব ধরনের বিনোদন পাওয়ার সুবিধা তৈরি হওয়ায় সিনেমা হলে যাওয়া বন্ধ করে দেন সাধারণ দর্শনার্থীরা। ক্রমাগত লোকসানের মুখে একপর্যায়ে সিনেমা হলটি চিরতরে বন্ধ করে দেন কর্তৃপক্ষ।
হল বন্ধ হওয়ার পর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে পড়ে থাকা স্থানটি সুরক্ষায় কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে দেখভালের অভাবে বর্তমানে সিনেমা হলের সামনের চত্বর ও এর চারপাশ স্থানীয়দের ময়লা-আবর্জনা ফেলার স্থানে রূপ নিয়েছে। মৈত্রী সিনেমা হলের সামনে তাকালেই এখন চোখে পড়ে পচা বর্জ্য, প্লাস্টিকের বোতল ও উচ্ছিষ্টের পাহাড়। চারদিকে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ, আর তৈরি হচ্ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি।
স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দারা আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, “একসময় যেখানে আমরা সুস্থ বিনোদনের জন্য আসতাম, আজ তার এই দুরবস্থা দেখে কষ্ট হয়। যে হলটি আমাদের সোনালী স্মৃতি বহন করত, সেটি আজ হালুয়াঘাটের একটি ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।”
এলাকাবাসীর দাবি, স্থানটিকে এভাবে অরক্ষিত ও নোংরা অবস্থায় ফেলে না রেখে দ্রুত আবর্জনা পরিষ্কার করা প্রয়োজন। একইসঙ্গে স্থানটিকে জনকল্যাণমূলক বা পরিবেশবান্ধব কোনো কাজে ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হলে হালুয়াঘাটের সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষা পাবে