মোঃ মোক্তার হোসাইনঃ নারায়ণগঞ্জের ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকদের সাথে মত বিনিময় সভা করেন সদ্য যোগদানকৃত পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার। ২ সেপ্টেম্বর সোমবার বেলা ১২ টায় পুলিশ সুপার কার্যালয় হলরুমে এই সভার আয়োজন করা হয়। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের সাথে নারায়ণগঞ্জের সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। প্রথমে তিনি বলেন, আগে প্রয়োজন পুলিশের মনোবল বৃদ্ধি করা অতঃপর নারায়ণগঞ্জের যানজট নিরশন,মাদক, সাংবাদিকদের কাজে বাধা দেওয়াসহ সাংবাদিকদের নামে মিথ্যা অহেতুক মামলার বিষয় দেখবেন। আর মাদকের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স, আপনারা যদি কোথাও কোনো প্রমাণ পান যে আমার পুলিশের কেউ এর সাথে জড়িত, আমাকে প্রমাণসহ দিতে হবে। আপনি প্রমাণ দিবেন, আমি অবশ্যই ব্যবস্থা নিবো। কিশোর গ্যাং নিয়ে যদি এখন কাজ করতে যাই, তাহলে উল্টো বিপদ হতে পারে। কী বিপদ? সবাই এক হবে, আবার আমাদের থানা পুড়ানো শুরু হবে। আগে আমরা প্রয়োজন অনুযায়ী কাজগুলো শুরু করি। আপনারা বলেছেন, সাংবাদিক ভাইয়েদের নামে মামলা হচ্ছে আসলে যে কেউ বাদি হয়ে মামলা করতেই পারে। মামলা হওয়ার মানে তো এই না যে তার জেল-হাজত হয়ে যাচ্ছে বা সে অভিযুক্ত হয়ে যাচ্ছে। মামলাটা হলো প্রথমিক পর্যায়। এরপর আমরা ওইটা তদন্ত করবো। তারপর যদি তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে সে অভিযুক্ত হবে, সতত্যা না পাওয়া গেলে তাকে অভিযোগ থেকে বাদ দেওয়া হবে। তদন্ত না করে কাউকে অহেতুক গ্রেফতার করবে না পুলিশ। আমি নিজেই প্রথম এখানে এসে যানযট দেখে বলেছি, এটাতো কোন শহরের অবস্থা হতে পারে না। আমি সাথে সাথে আমাদের পুলিশের টিআইদের ডেকেছিলাম তারাও মানসিকভাবে একটু খারাপ অবস্থায় আছে। আমি তাদের উজ্জীবিত করার চেষ্টা করছি । আমি বলেছি, প্রথমে যানযটের সমস্যা সমাধান করতে হবে। পাশাপাশি ভলেন্টিয়ার দেয়া যায় কি-না সে বিষয়ে আমরা কথা বলেছি। আপনাদের ভেতর থেকেও কারো ১০টা সিএনজি বা ১০টা অটো আছে, এসব নিয়ে তদবির করবেন না প্লিজ। তাহলে আমি কিন্তু কাজ করতে পারবো না। এসপি বলেন, আমি ২৫তম বিসিএসের একজন কর্মকর্তা। একটি প্রতিকূল পরিস্থিতিতে আমি এখানে পুলিশের দায়িত্ব নিয়ে এসেছি। এই দায়িত্ব পালনে অনেক প্রতিবন্ধকতা আছে, অনেক চড়াই-উতরাই আছে। কারণ আমাদের পুলিশের মনোবলটা এখন ভেঙ্গে গেছে। গত ৫ আগস্টের পর আমাদের বিভিন্ন থানা-অফিস ভাঙ্গচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। আমরা পুলিশের মনোবল ফেরাতে প্রথমে কাজ করবো। পাশাপাশি জনগণের মধ্যেও পুলিশের প্রতি যে আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছিলো, ওই জায়গা থেকে উত্তরণের আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো। এক্ষেত্রে সাংবাদিকদের সহযোগীতা প্রয়োজন। যদি অতিতের মতো সহযোগীতা না করেন, তাহলে আমরা সব পুলিশ মিলেও জনগণের আস্থা ফেরানো সম্ভব না। আপনারা আমাকে ও আমার পুলিশকে সহযোগিতা করবেন। আপনারা অবশ্যই গঠনমূলক সমালোচনা করবেন, সেটাকে আমি সাধুবাদ জানাবো।