1. masudkhan89@gmail.com : Ghoshana Desk :
  2. zunayedafif18@gmail.com : Mahir Al Mahbub : Mahir Al Mahbub
  3. masudkhan89@yahoo.com : Masud Khan : Masud Khan
ব্রেকিং নিউজ :
নাগরপুরে চুড়ান্ত ফুটবল প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত ফুলবাড়ীতে ১২ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার কোরবান নগর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী আবুল কালামের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত। মিয়ানমার থেকে ইয়াবার চালান, তুমব্রুতে বিজিবির হাতে ৪ লাখ ২০ হাজার পিস উদ্ধার শাহজাদপুরে ওলামাদলের ৪৭ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত। বগুড়ায় ১৮ বোতল ফেয়ারডিলসহ নারী গ্রেপ্তার ভাঙ্গায় অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় পথচারী নিহত শার্শায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১৫ পিস  ইয়াবাসহ দুইজন গ্রেফতার শীত নামতেই নাসিরনগরে পাখি শিকারের হিড়িক, ছবি তুলতেই মুখ ঢাকলেন শিকারিরা সলঙ্গায় বেশি দামে গ্যাস বিক্রির দায়ে দুই ব্যবসায়ীর জরিমানা

পানির নিচে ছিল লাভের আশা, বাজারে এসে মিলছে লোকসান

  • আপডেট সময় : শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬
  • ০ দেখেছেন

পানির নিচে বিশেষ পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা ‘মজা সুপারি’ দীর্ঘদিন ধরে লালমনিরহাটের কৃষক ও ব্যবসায়ীদের আয়ের অন্যতম উৎস। তবে এবার মৌসুম শেষে বাজারে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় সংরক্ষিত এই সুপারির দাম গত বছরের তুলনায় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। এতে ন্যায্যমূল্য না পেয়ে লোকসানের আশঙ্কায় পড়েছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।

লালমনিরহাটের আদিতমারী, কালীগঞ্জ, সদর, হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। জেলার অন্যতম বড় সুপারির বাজার সদর উপজেলার বড়বাড়ী হাট। প্রতি বুধবার ও শনিবার এখানে লালমনিরহাটের বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী ও রাজারহাট এবং রংপুরের কাউনিয়া ও মিঠাপুকুরসহ বিভিন্ন এলাকার কৃষক, পাইকার ও মহাজনরা সুপারি কেনাবেচা করেন।

হাট সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছর এই সময়ে দেশি মজা সুপারি প্রতি পোনে (৮০টি) ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছিল। বর্তমানে একই পরিমাণ সুপারি বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১৫০ থেকে ৩৫০ টাকায়। অর্থাৎ অনেক ক্ষেত্রে দাম অর্ধেকের কাছাকাছি নেমে গেছে।

একইভাবে প্রতি কাউন (১৬ পোন) সুপারি গত বছর ৪ হাজার ৮০০ থেকে ৯ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হলেও এবার তা কমে ২ হাজার ৪০০ থেকে ৫ হাজার ৬০০ টাকায় নেমেছে।

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার কৃষক সাঈদ আলী বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার মজা সুপারি বিক্রি করে ন্যায্যমূল্য পাওয়া যাচ্ছে না।

বড়বাড়ী ইউনিয়নের কৃষক জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রায় অর্ধেক দামে সুপারি বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে সুপারি সংরক্ষণ ও শ্রমিকের খরচই উঠছে না।’

ব্যবসায়ী মোস্তফা হোসেন জানান, লাভের আশায় মৌসুমের শুরুতে সুপারি কিনে পানির নিচে সংরক্ষণ করেছিলেন। কিন্তু বর্তমানে যে দামে বিক্রি হচ্ছে, তাতে ক্রয়মূল্যই উঠছে না। এর সঙ্গে পরিবহন ও সংরক্ষণ ব্যয় যোগ হওয়ায় লোকসানের পরিমাণ আরও বাড়ছে।

মহাজন ফজলুর রহমান বলেন, সাধারণত মৌসুমের শেষ দিকে সংরক্ষিত সুপারির চাহিদা বাড়ে। কিন্তু এবার বাজারে সরবরাহ বেশি থাকায় প্রত্যাশিত চাহিদা তৈরি হয়নি।

আরেক মহাজন আব্দুল আজিজ বলেন, এবার অতিরিক্ত পরিমাণে সুপারি সংরক্ষণ করা হয়েছিল। একই সময়ে বেশি সুপারি বাজারে আসায় বিক্রেতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা বেড়েছে। ফলে দাম কমে গেছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. সাইখুল আরিফিন বলেন, লালমনিরহাটের গ্রামাঞ্চলের বাড়ির আঙিনা, পুকুরপাড় ও নদীর তীরজুড়ে প্রচুর সুপারি গাছ রয়েছে। এর পাশাপাশি জেলায় প্রায় ৫১৪ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে সুপারি চাষ হচ্ছে। উৎপাদন, বাজারে সরবরাহ ও চাহিদার ওপরই মূলত সুপারির দাম নির্ভর করে।

জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মো. হারুন অর রশিদ বলেন, মজা সুপারির বর্তমান বাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে তার কাছে বিস্তারিত তথ্য নেই। বিষয়টি মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে খতিয়ে দেখা হবে।

সংশ্লিষ্ট কৃষক ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে সুপারির সরবরাহ কমে চাহিদার সঙ্গে ভারসাম্য তৈরি হলে দাম আবার বাড়তে পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে সংরক্ষিত সুপারি বিক্রি করে বিনিয়োগের টাকা ফেরত পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। এতে উত্তরাঞ্চলের মজা সুপারি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত কৃষক, ব্যবসায়ী ও মহাজনদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

একই রকম সংবাদ
© সকল স্বত্ব দৈনিক ঘোষণা অনলাইন ভার্শন কর্তৃক সংরক্ষিত
Site Customized By Rahat IT Ltd.