1. masudkhan89@gmail.com : Ghoshana Desk :
  2. zunayedafif18@gmail.com : Mahir Al Mahbub : Mahir Al Mahbub
  3. masudkhan89@yahoo.com : Masud Khan : Masud Khan
ব্রেকিং নিউজ :
কুমিল্লায় ৫৩তম গ্রীষ্মকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন শিশু অধিকার দিবস ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে জাতীয় ‘গুণী শিক্ষক’ সম্মাননা পেলেন বিরলের তাজ আল মিনার কোল্ড স্টোরেজে কৃষকের কাছে সরকারি নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি ভারা নেওয়ার অভিযোগ বেনাপোল স্থলবন্দরে দুর্ঘটনার নিহত ও আহত শ্রমিকের আর্থিক সহায়তা  প্রদান নাগরপুরে কিশোর গ্যাং প্রধান অমিও সহ ৪জন গ্রেফতার পাঁচবিবিতে ১৪৫ পিস ট্যাপেন্টাডলসহ গ্রেপ্তার ২, পাঠানো হলো কারাগারে স্মার্ট কৃষির হাত ধরেই বদলে যাবে বাংলাদেশের অর্থনীতি সাবেক ছাত্রলীগ নেতা থেকে খাদ্য পরিদর্শক, কামালের অঢেল সম্পদের উৎস নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন সাভারে ৪ সাংবাদিকের ওপর সন্ত্রাসী হামলা ও মিথ্যা মামলায় কারাগারে প্রেরণের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

বাংলাদেশের নাজেহাল স্বাস্থ্য ব্যাবস্থা বনাম গনমাধ্যমকর্মী ওমর ফারুকের আর্তনাদ 

  • আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
  • ১ দেখেছেন

আমি ​ওমর ফারুক- এক দীর্ঘ নিঃশ্বাসের গল্প ডাক্তারী কি শধুই পেশা, নাকি মানবিকতার চরম পরীক্ষা? ​এ শহরের ব্যস্ততা শুরু হয় ভোর থেকেই। কেউ দিন শুরু করে ভালো কিছু করার প্রত্যয়ে, আবার কেউ ব্যস্ত থাকে নিজের স্বার্থের হিসাব-নিকাশে। সরকারি হাসপাতালের একজন চিকিৎসক হওয়ার পেছনে কত পরিশ্রম, কত ত্যাগ আর মানুষের প্রত্যাশা জড়িয়ে থাকে—তা সবারই জানা। কিন্তু দায়িত্ব পাওয়ার পর অনেকের মনোযোগ যেন সেবার চেয়ে বেশি থাকে কোন প্রাইভেট ক্লিনিকে কখন বসবেন, সেই প্রচারণায়।

নিজের ওয়ালে ক্লিনিকের সময়সূচি জানাতে তারা যতটা তৎপর, তার কিঞ্চিৎ পরিমাণ দেখা যায় না সরকারি ডিউটির সময় বা কক্ষ নম্বর জানাতে।​সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো, অনেক রোগী সঠিক চিকিৎসা ও মনোযোগের অভাবে অবহেলার শিকার হন।

একজন চিকিৎসক যদি বুঝতে পারেন তিনি কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে পারছেন না, তবে অন্তত রোগীকে স্পষ্টভাবে বলা উচিত—“এখানে সম্ভব নয়, উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ওই জায়গায় যান।” কিন্তু রেফার করার বদলে অনেক সময় চলে ‘সময়ক্ষেপণ’, যার পরিণতিতে রোগ আরও জটিল হয়ে ওঠে।

​আমার দীর্ঘ ৮ বছরের যন্ত্রণার আখ্যান আমি, ওমর ফারুক—এই বাস্তবতারই একজন প্রত্যক্ষ ভুক্তভোগী। আমার এই কষ্টের শুরু ২০১৮ সালের ২২ জানুয়ারি, মঙ্গলবার। দুহুলী মাঠে ফুটবল খেলার সময় বাম পা ভেতরে ভেঙে যায়। নীলফামারীতে প্রাথমিক চিকিৎসার পর আমাকে রংপুরের ‘লাইফ লাইন ক্লিনিকে’ ভর্তি করা হয়। ৩১ জানুয়ারি সেখানে অপারেশন করে পায়ে প্লেট লাগিয়ে দেন পঙ্গু হাসপাতালের সাবেক পরিচালক খন্দকার হামিদুল ইসলাম।

​ষোল দিন পর বাড়ি ফিরলাম, কিন্তু শুরু হলো নতুন দুর্ভোগ। সেলাই কাটতে গিয়ে ডাক্তারের অ্যাসিস্ট্যান্টের ভুলের কারণে প্রচণ্ড আঘাত পেলাম, রক্ত বের হলো। সেই শুরু—এরপর থেকে আজ অবধি ক্ষতস্থানে ইনফেকশন আর পুঁজ বের হওয়া বন্ধ হলো না। ২০১৯ সালের ৯ জুলাই দ্বিতীয়বার অপারেশন করে প্লেট বের করা হলো। দামী দামী অ্যান্টিবায়োটিক আর ইনজেকশন চললো, কিন্তু সমাধান এলো না।

এরপর ২০২০ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি নীলফামারী হাসপাতালে ডা. গোলাম মোস্তফা শুভ্র কিউরেট অপারেশন করলেন, কিন্তু কিছুদিন পরেই তিনি বদলি হয়ে গেলেন। তার পরামর্শে রংপুর গুড হেলথ হসপিটালে বিভাগীয় প্রধান ডা. শফিকুল ইসলাম শফিকের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা শুরু করলাম। বছরের পর বছর কাটল, যখনই জানতে চেয়েছি স্থায়ী সমাধান কী, উত্তর পেয়েছি— “এগুলো সহজে সারে না, সময় লাগবে, আল্লাহ ভরসা।”

​সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে পুনরায় দুর্ঘটনা দীর্ঘ ৫ বছর তার অধীনে চিকিৎসা চলার মাঝেই হঠাৎ ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর এক মর্মান্তিক মোড় আসে। সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে রিকশায় ওঠার সময় সেই একই জায়গায় হাড়টি আবারও ভেঙে যায়। টানা চার মাস প্লাস্টারে থাকলাম। সম্প্রতি ঈদুল ফিতরের পর যখন দেখা করলাম, তখন ডাক্তার বললেন— “ইনফেকশন ছড়াচ্ছে, অপারেশন করতে হবে।” যখন জিজ্ঞেস করলাম অপারেশন করলে ঠিক হবে কি না, তিনি কোনো গ্যারান্টি দিতে পারলেন না। পরামর্শ দিলেন ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে (নিটোর) যাওয়ার।

​অপেক্ষার প্রহর কি শেষ হবে?দীর্ঘ ৮ বছর ৪ মাসেরও বেশি সময় ধরে জেলা সদর থেকে বিভাগীয় পর্যায় পর্যন্ত ছুটে বেড়িয়েছি, কিন্তু মেলেনি সঠিক চিকিৎসা কিংবা স্পষ্ট কোনো পথনির্দেশনা। অবশেষে জাতীয় পর্যায়ের আশায় এখন পঙ্গু হাসপাতালে (নিটোর) এসে প্রতিনিয়ত চেম্বারের দরজায় অপেক্ষা করছি। তীব্র যানজট পেরিয়ে এক ক্লিনিক থেকে অন্য ক্লিনিকে টেস্ট করাতে ছুটছি।

​একজন রোগীর জন্য এই পথচলা শুধু শারীরিক কষ্টের নয়, মানসিক ও আর্থিকভাবেও চরম ক্লান্তিকর। সবচেয়ে বেদনাদায়ক হলো—এত বছরের এই সংগ্রামের পরও আজও নিশ্চিতভাবে বলতে পারছি না, কবে মিলবে সুস্থতার দেখা।

​এই অভিজ্ঞতা শুধু আমার একার নয়; এমন অসংখ্য রোগীর নীরব কষ্ট আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থার এক করুণ চিত্র। সরকারি হাসপাতাল মানুষের শেষ ভরসাস্থল। এই জায়গাটিকে অন্তত শুধু ‘ব্যবসা’ নয়, ‘মানবিকতার’ জায়গা হিসেবে রাখা উচিত। রোগীর প্রতি দায়বদ্ধতা, আন্তরিকতা ও সঠিক দিকনির্দেশনা এখন সময়ের দাবি।

সুস্থতার অপেক্ষায় মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়া ওমর ফারুকের বাড়ী নীলফামারী জেলা সদরের পঞ্চপুকুর ইউনিয়নে। তিনি পেশায় একজন গনমাধ্যম কর্মী স্থানীয় একটি ফেসবুক পেইজ nilphamari top news ফেসবুক পেইজ নামের আইডির পরিচালক।

Please Share This Post in Your Social Media

একই রকম সংবাদ
© সকল স্বত্ব দৈনিক ঘোষণা অনলাইন ভার্শন কর্তৃক সংরক্ষিত
Site Customized By Rahat IT Ltd.