এম এ খায়ের ইমন, কুমিল্লা প্রতিনিধি: কুমিল্লায় উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয়েছে ৫৩তম গ্রীষ্মকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ, পারস্পরিক সম্প্রীতি এবং খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর লক্ষ্যে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) কুমিল্লা জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বিভাগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ক্রীড়া সংগঠক, কর্মকর্তা ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হয়। পরে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে বর্ণাঢ্য ক্রীড়া শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে শোভাযাত্রায় অংশ নেয়। এতে পুরো অনুষ্ঠানস্থলে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেন, শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা শিক্ষার্থীদের শারীরিক সক্ষমতা, মানসিক দৃঢ়তা, নেতৃত্বের গুণাবলি ও শৃঙ্খলাবোধ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রতিটি শিক্ষার্থীকে পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত খেলাধুলায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, একজন শিক্ষার্থীর সার্বিক বিকাশে শিক্ষা ও ক্রীড়া একে অপরের পরিপূরক। খেলাধুলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা প্রতিযোগিতার মনোভাব, সহনশীলতা, পারস্পরিক সহযোগিতা ও শৃঙ্খলা শেখে। ভবিষ্যতে দেশের নেতৃত্ব দিতে হলে শিক্ষার্থীদের মেধার পাশাপাশি সুস্থ ও শক্তিশালী মানসিকতা গড়ে তোলা প্রয়োজন।
মন্ত্রী আরও বলেন, জাতীয় পর্যায়ের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা শুধু বিজয়ী নির্ধারণের আয়োজন নয়; বরং দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করার অন্যতম মাধ্যম। এ ধরনের প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্মের মেধাবী ও সম্ভাবনাময় ক্রীড়াবিদরা নিজেদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পায়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান সময়ে শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করছে। ফলে শারীরিক কর্মকাণ্ড ও মাঠের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত খেলাধুলার পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
তারা বলেন, খেলাধুলা শিক্ষার্থীদের মাদক, সন্ত্রাস, কিশোর অপরাধ ও নানা ধরনের অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একটি সুস্থ, সুন্দর ও মেধাবী প্রজন্ম গড়ে তুলতে পড়াশোনার পাশাপাশি ক্রীড়া কার্যক্রমকে আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।৫৩তম গ্রীষ্মকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ইভেন্টে অংশগ্রহণ করছে। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। বিজয়ী ও কৃতী খেলোয়াড়দের পরবর্তী ধাপে জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে বলে আয়োজকরা জানান।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়দের শপথ পাঠ করানো হয়। পরে প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ইভেন্টের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।আয়োজকরা জানান, শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্রীড়ার চর্চা বৃদ্ধি এবং প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের বিকাশের লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও এ ধরনের প্রতিযোগিতা ধারাবাহিকভাবে আয়োজন করা হবে।