এম এ খায়ের ইমন, কুমিল্লা : শিশুদের অধিকার, নিরাপত্তা, শিক্ষা ও সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার প্রত্যয়ে কুমিল্লায় যথাযোগ্য মর্যাদায় শিশু অধিকার দিবস-২০২৬ ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে।মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা, শিশু শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমপি। এ সময় তিনি শিশুদের অধিকার সংরক্ষণ, তাদের সুশিক্ষা নিশ্চিত করা এবং মেধা ও প্রতিভা বিকাশের উপযোগী পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মিজ্ রোজী আকতার। তিনি শিশুদের নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ সৃষ্টি এবং তাদের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিকাশে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সুলতানা রাজিয়াসহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, বাংলাদেশ শিশু একাডেমির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, শিক্ষক, অভিভাবক এবং বিপুলসংখ্যক শিশু শিক্ষার্থী।
অনুষ্ঠানে শিশুদের অধিকার ও সুরক্ষা, শিশুশ্রম বন্ধ, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিতকরণ এবং শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য একটি নিরাপদ ও ইতিবাচক পরিবেশ তৈরির বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।
বক্তারা বলেন, একটি দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে তার শিশুদের ওপর। তাই শিশুদের শুধু বিদ্যালয়মুখী করলেই হবে না; তাদের নিরাপত্তা, পুষ্টি, মানসিক বিকাশ, সৃজনশীলতা ও সাংস্কৃতিক চর্চার সুযোগও নিশ্চিত করতে হবে। শিশুদের প্রতি যেকোনো ধরনের নির্যাতন, সহিংসতা, বৈষম্য ও অধিকার হরণ প্রতিরোধে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে শিশু শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। শিশুদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। এ সময় শিশুদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।বক্তারা আরও বলেন, শিশুদের জন্য নিরাপদ, বৈষম্যহীন ও আনন্দময় পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে তারা আগামী দিনের দক্ষ, মানবিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে। এজন্য শিশু অধিকার বাস্তবায়নে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে একযোগে কাজ করতে হবে।
শিশু অধিকার দিবস ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এ আয়োজন শিশুদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তাদের প্রতিভা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।