মো ফেরদৌস ইসলাম রিপন : দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়, তেলের দাম হঠাৎ বৃদ্ধি,গ্যাস ও বিদ্যুত সংকট , সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। একদিকে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সহায়তার উদ্যোগ, তেলের দামবৃদ্ধি,গ্যাসও বিদ্যুত সংকট নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে চাপ।সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, রাষ্ট্রের সহায়তার সুফল কি শেষ পর্যন্ত মানুষের ঘরে পৌঁছাচ্ছে, নাকি সরকার তেলের দাম রাতের আধারে বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের নিত্য দিনের জীবনকে দূর্বিসহ করে তুলছে । একজনকে বাঁচাতে ১০ জনের গলা চেপে ধরছে সরকার ?
নির্বাচনের পূর্বে বর্তমান সরকারের সিনিয়র নেতারা দাবি করেছিলেন,” দেশের সকল সংকট দূর করার জন্য নির্বাচনই সঠিক সমাধান।নির্বাচন দিলে দেশের সকল সমস্যা দূর হয়ে যাবে”। কিন্ত বর্তমান সরকার জ্বালানি তেলের দাম ৩ দফায় বাড়িয়েছে;১৯ এপ্রিল ২০২৬ -চার ধরনের তেলের দাম বাড়ানো হয়।১লা জুন ২০২৬ কেরোসিন,পেট্রোল ও অকটেনে লিটারে ৫ টাকা করে বাড়ে,ডিজেল অপরিবর্তিত থাকে। ২১ শে সেপ্টেম্বর ২০২৬ ,চার ধরনের তেলের দাম আবার লিটার প্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়।বর্তমান কেরোসিন ১৫৫ টাকা,পেট্রোল ১৬০ টাকা, ডিজেল১৩৫টাকা,অকটেনে ১৬৫টাকাহয়েছে।
সরকারের ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির লক্ষ্য দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারকে সহায়তা দেওয়া। সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী কর্মসূচিটি ধাপে ধাপে সম্প্রসারণের কথা রয়েছে। প্রকৃত উপকারভোগী চিহ্নিত করতে আয়, সম্পদ ও জীবনযাত্রার মান বিবেচনায় নেওয়ার হচ্ছে – সরকার ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে প্রতি জনকে ২৫০০ টাকা করে দিচ্ছে যা বছরে ৩০,০০০ টাকা। প্রকৃত পক্ষে মাসে ২৫০০ টাকা একজনকে প্রদান করে তেল গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে জনগণের পকেট কাটছে সরকার। এই সামান্য অর্থে একটি পরিবারের তেমন সুফল বয়ে আনে না। দিন দিন স্বল্প আয়ের মানুষের জীবন কঠিন থেকে কঠিনতর হচ্ছে।জনমনে সরকারের প্রতি ক্ষোভ দীর্ঘায়িত হচ্ছে ।
সরকার জনগণের আশা আকাঙ্খা,কল্যাণের বিপরীত মেরুতে অবস্থান করছেন । একবিংশ শতাব্দিতে জণকল্যাণকর রাষ্ট্রে এই নীতি সমর্থন যোগ্য নয়।জনগণ প্রত্যাশা করেন রাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে সরকার জ্বালানি তেল,গ্যাস বিদ্যুতের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি দাম থেকে বিরত থাকবেন।