বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর)-এর রাজশাহী গবেষণাগারে আহ্বান করা একটি বড় অঙ্কের উন্নয়ন কাজের দরপত্র প্রক্রিয়া অস্বাভাবিকভাবে দীর্ঘায়িত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
গত ১৫ জানুয়ারি ল্যাবরেটরি ভবনের সংস্কারকাজের জন্য টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ১ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৩টা পর্যন্ত দরপত্র গ্রহণ করা হয়। মোট ৪৭টি প্রতিষ্ঠান শিডিউল সংগ্রহ করলেও শেষ পর্যন্ত ৪৬টি প্রতিষ্ঠান অনলাইনে দরপত্র জমা দেয়। একই দিন বিকেল ৪টায় দরপত্র খোলা হয় এবং মূল্যায়ন কার্যক্রম শুরু হয়।
সাধারণত এ ধরনের কাজের দরপত্র মূল্যায়ন দুই-তিন দিন, সর্বোচ্চ এক সপ্তাহের মধ্যে শেষ হয়ে থাকে। কিন্তু ২০ দিন পার হলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানায়, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে প্রশাসনিক ব্যস্ততার কারণে পুরো প্রক্রিয়ায় স্থবিরতা তৈরি হয়। তবে নির্বাচন শেষ হওয়ার পরও রাজনৈতিক অস্থিরতার আবহে কোটি টাকার এই দরপত্র মূল্যায়ন টেবিলেই পড়ে আছে।
দরপত্রে অংশ নেওয়া এক ঠিকাদার অভিযোগ করে বলেন, “মাত্র ৪৬টি নথি যাচাই করতে এত দীর্ঘ সময় লাগার কথা নয়। এখানে ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্ব করা হচ্ছে। আমাদের আশঙ্কা, নির্দিষ্ট কাউকে সুবিধা দেওয়ার জন্য সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে।”
প্রাপ্ত নথি অনুযায়ী, প্রকল্পের আওতায় গবেষণাগার ক্যাম্পাসে ল্যাবরেটরি ভবনের বাইরের অংশ সংস্কার ও রং করা হবে। করিডরের আরসিসি রেলিং মেরামত ও রং, পুরোনো বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন পাইপ অপসারণ করে নতুন পাইপ স্থাপন এবং ভবনের সামনের অংশে নতুন জানালা বসানোর কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ জন্য বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১ কোটি ৩২ লাখ টাকা।
দরপত্রে উল্লেখ রয়েছে, সম্ভাব্য কার্যাদেশ অনুযায়ী কাজ শুরু হওয়ার কথা ১ মার্চ এবং শেষ করার সময়সীমা ১ জুন—অর্থাৎ তিন মাসের মধ্যে পুরো কাজ সম্পন্ন করতে হবে। কিন্তু এখনো কার্যাদেশ জারি না হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। সময় পিছিয়ে গেলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করাও কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরেক ঠিকাদার অভিযোগ করেন, “এত বড় বাজেটের কাজ হওয়ায় এখানে নানা ধরনের ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ চলছে। ৪৬টি দরপত্রের মধ্যে অনেককে অযোগ্য ঘোষণা করা হতে পারে। কিন্তু সেটিও জানানো হচ্ছে না। হয়তো কাউকে সুযোগ দিতে সময় নেওয়া হচ্ছে।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রাজশাহী গবেষণাগারের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফেরদৌস জামান। তিনি বলেন, “১ ফেব্রুয়ারিতেই টেন্ডার খোলা হয়েছে। এখন আমরা বিস্তারিত মূল্যায়ন করছি। প্রত্যেকটি কাগজপত্র সঠিকভাবে যাচাই করা হচ্ছে, যাতে যোগ্য প্রতিষ্ঠানই কাজ পায়। কোনো ধরনের অনিয়ম বা অসৎ উদ্দেশ্য নেই, তবে যাচাই-বাছাইয়ের কারণে সময় লাগছে।”