সুন্দরবনে কোস্টগার্ড সমন্বয়ে নৌবাহিনী, পুলিশ ও র্যাবের যৌথ অভিযানে ডাকাত দলের হাতে জিম্মি থাকা দুই পর্যটক ও রিসোর্ট মালিককে উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল সকালে কোস্টগার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম উল হক এ তথ্য জানান। তিনি বলেন গত শুক্রবার বিকাল ৩ টায় সুন্দরবনের গোলকানন রিসোট হতে কানুর খোলা খাল সংলগ্ন এলাকায় কাঠের বোট যোগে ভ্রমণকালে ৫ জন পর্যটক, একজন মাঝি এবং রিসোর্ট মালিক সহ সাতজন ব্যক্তিকে জলদস্যু মাসুম মৃধার নেতৃত্বাধীন একটি ডাকাত দল ধরে নিয়ে জিম্মি করে। ডাকাতদল তিনজন পর্যটক ও মাঝিকে মুক্তি দিলেও দুই পর্যটক এবং গোলকানন রিসোর্টের মালিককে জিম্মি অবস্থায় সুন্দরবনের অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায় এবং মুক্তিপন দাবি করে। পরবর্তীতে রিসোর্ট কতৃপক্ষ বিষয়টি কোস্টগার্ডকে অবহিত করেন। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী, পুলিশ ও র্যাবের সমন্বয়ে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়। অভিযান চলাকালে গত ৩ জানুয়ারি ডাকাত মাসুমের সহযোগী কুদ্দুস হাওলাদার (৪৩) মোঃ সালাম বক্স (২৪) ও মেহেদী হাসানকে (১৯) সুন্দরবনের গোলকানন রিসোর্ট সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকা হতে আটক করা হয়। পরবর্তীতে গত পরশু রবিবার সুন্দরবনের কৈলাশগঞ্জ এলাকা হতে ডাকাত দলের সহযোগী আলম মাতুব্বরকে (৩৮) আটক করা হয়। একইদিনে খুলনার রুপসা থানাধীন পালেরহাট এলাকা হতে গোয়েন্দা নজরদারি ও Financial footprint অনুসরন করে বিকাশের মাধ্যমে মুক্তিপনের টাকা উত্তোলনকালে ডাকাত মাসুমের মা জয়নবী বিবি (৫৫) ও বিকাশ ব্যবসায়ী অয়ন কুন্ডু (৩০) কে ৮১ হাজার ৪০০ টাকাসহ আটক করা হয়। এরপর রবিবার সন্ধ্যা ৭ টায় সুন্দরবনের গাজী ফিশারিজ সংলগ্ন এলাকা হতে ড্রোন সার্ভিলেন্সের মাধ্যমে জিম্মিকৃত দুই পর্যটক এবং গোলকানন রিসোর্টের মালিককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে প্রধান ডাকাত মাসুম মৃ্ধাকে আটকের নিমিত্তে কোস্টগার্ডের গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান চলমান রয়েছে। কোস্টগার্ড কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম উল হক আরোও বলেন, উদ্ধারকৃত পর্যটকদের পরিবারের নিকট হস্তান্তর এবং আটককৃত ডাকাত সহযোগীদের থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সুন্দরবন ও উপকূলীয় অঞ্চলে পর্যটকসহ সাধারণ জনগনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কোস্টগার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।