পৌষের প্রথম প্রহরেই শীতের কড়া নাড়াচড়া নারায়ণগঞ্জে। রবিবার (২১ ডিসেম্বর) ভোর থেকেই শহরের আকাশ ছিল কুয়াশার ঘন চাদরে মোড়ানো। সূর্য উঠলেও তার আলো ছিল নিষ্প্রভ—রোদের বদলে শীতল হাওয়ার দাপটেই সকাল গড়িয়েছে নগরবাসীর।
নারায়ণগঞ্জে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমেছে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা চলতি মৌসুমে শীতের জেঁকে বসার স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দিনের তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উঠতে পারে। বাতাসে আর্দ্রতা প্রায় ৫৬ শতাংশ, ফলে শুষ্ক আবহাওয়ার পাশাপাশি কুয়াশা ও ধুলিকণার মিশ্রণে শহরের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে তৈরি হয়েছে স্মগ, কমে গেছে দৃশ্যমানতা।
দেশজুড়েও শীতের তীব্রতা বাড়ছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, উত্তরাঞ্চলে শীতের প্রকোপ তুলনামূলক বেশি। আজ চুয়াডাঙ্গা ও পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রেকর্ড করা হয়েছে, যা মৃদু শৈত্যপ্রবাহের আওতায় পড়েছে।
আবহাওয়াবিদদের ব্যাখ্যায়, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ বিহার ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করায় উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আসা হিমেল হাওয়া ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জসহ মধ্যাঞ্চলে শীতের অনুভূতি বাড়িয়ে দিচ্ছে। নদীঘেঁষা এলাকাগুলোতে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
শীতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নারায়ণগঞ্জে বায়ুদূষণের মাত্রা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। আজ শহরের এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) ‘অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে অবস্থান করছে। চিকিৎসকদের মতে, শিশু ও বয়স্কদের অপ্রয়োজনে বাইরে বের হওয়া এড়িয়ে চলা এবং প্রয়োজনে মাস্ক ব্যবহার করা জরুরি, নতুবা শ্বাসকষ্টসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে।