ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় সংঘটিত চাঞ্চল্যকর ও ক্লুলেস মাছ ব্যবসায়ী উৎপল সরকার (২৬) হত্যাকাণ্ডের অন্যতম আসামি ফিরোজ মাতুব্বর (৪০)’কে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১০।
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে র্যাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। সন্ত্রাসবাদ, হত্যা, মাদক, অবৈধ অস্ত্র ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযানের ধারাবাহিকতায় ফরিদপুরের আলোচিত এই হত্যা মামলায় সাফল্য অর্জন করেছে র্যাব-১০।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ইং ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে মাছ ব্যবসায়ী উৎপল সরকার অটোভ্যান চালক ফিরোজ মোল্যার অটোভ্যানে করে মাছ ক্রয়ের উদ্দেশ্যে মুকসুদপুরের দিকে রওনা হন। ভোর আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে সালথা থানাধীন গৌড়দিয়া কালীতলা ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে একটি অটো ইজিবাইক তাদের পথরোধ করে। এ সময় মুখোশধারী ৩-৪ জন দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র নিয়ে নেমে অটোভ্যান চালককে হাত ও মুখ বেঁধে ব্রিজের রেলিংয়ের সঙ্গে বেঁধে ফেলে।
দুর্বৃত্তরা অটোভ্যান চালকের কাছ থেকে অটোভ্যানের চাবি, নগদ টাকা ও একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। পরে উৎপল সরকারকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তার কাছে থাকা মাছ ক্রয়ের নগদ আনুমানিক ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে। হত্যার পর মরদেহ কালীতলা ব্রিজের পাশে ফেলে রেখে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।
পথচারীদের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এ ঘটনায় নিহত উৎপল সরকারের বাবা বাদী হয়ে সালথা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-০৪, তারিখ ০৬/১২/২০২৫ ইং, ধারা- ৩৯৪/৩০২, পেনাল কোড ১৮৬০।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামি গ্রেপ্তারে র্যাব-১০ এর সহযোগিতা চেয়ে অধিযাচনপত্র প্রেরণ করেন। এরপর র্যাব-১০ গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ইং রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে ফরিদপুর জেলার কোতয়ালী থানাধীন তাম্বুলখানা বাজার এলাকা থেকে মামলার অন্যতম আসামি ফিরোজ মাতুব্বর (৪০)’কে গ্রেফতার করা হয়। তিনি জয়নাল মাতুব্বরের ছেলে এবং ফরিদপুর কোতয়ালী থানার তেতুলিয়া এলাকার বাসিন্দা।
র্যাব জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রমের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।