নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিস এখন এক ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে। প্রায় দুই শত বছর আগে নির্মিত একটি পুরনো ভবনে চলছে এখানকার সরকারি কার্যক্রম, যেখানে প্রতিদিনই জমি সংক্রান্ত নানা কাজে ভিড় করেন শত শত মানুষ। জরাজীর্ণ এই ভবনের দেয়াল ও ছাদের পলেস্তরা খসে পড়ছে নিয়মিত, আর রড ও কাঠামোর ভেতরের অংশ অনেক জায়গায় উন্মুক্ত হয়ে গেছে। সামান্য ভূমিকম্প বা বৃষ্টিতেই বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ভবনটি ঐতিহাসিক মুড়াপাড়া জমিদার বাড়ির একটি অংশ, যা বর্তমানে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে সংরক্ষিত। এই কারণে ইচ্ছে থাকলেও স্থানীয় প্রশাসন সরাসরি সংস্কারকাজে হাত দিতে পারছে না। জানা গেছে, জমিদার জগদীশ চন্দ্রের এই বাড়ি দেশভাগের পর সরকার অধিগ্রহণ করে, এবং পরবর্তীতে একাংশে স্কুল, কলেজ ও হাসপাতালের কার্যক্রম চালু হয়। বর্তমানে ভবনটির একাংশে ভূমি অফিসের কাজ চলছে, যা এখন ভগ্নদশায় পৌঁছেছে।
স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভবনটি এতটাই নাজুক অবস্থায় আছে যে, অল্প বৃষ্টিতেই ভিতরে পানি ঢোকে এবং ছাদের পলেস্তরা খসে পড়ে। কিছুদিন আগেই পাশের একটি অংশ ধসে পড়ে ক্ষয়ক্ষতি হয়। তবুও ভূমি কর্মকর্তারা মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন এখানেই দায়িত্ব পালন করছেন।
রূপগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তরিকুল ইসলাম বলেন, “বর্তমানে আমরা অত্যন্ত পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে কাজ করছি। বিষয়টি আমরা ভূমি মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনকে জানিয়েছি। আশা করছি, শিগগিরই নতুন ভবন বা বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ভূমি অফিসের কর্মচারীরাও জানিয়েছেন, পরিস্থিতি এতটাই নাজুক যে, শুনানি ও কাগজপত্রের কাজ অনেক সময় ভবনের বাইরে বসে করতে হয়। তবুও সরকারি দায়িত্ব পালনে তারা পিছু হটছেন না।
অন্যদিকে, প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়, রূপগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসকে পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চল নামে দুটি ইউনিটে বিভক্ত করা হয়েছে। নতুন এসিল্যান্ডও যোগদান করেছেন। কিন্তু ভবন সংকটের কারণে উভয় ইউনিটকেই একই জরাজীর্ণ ভবনে কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা , দ্রুত কোনো অভিজ্ঞ প্রকৌশলী দিয়ে ভবনের কাঠামো পরীক্ষা করে একে ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ ঘোষণা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি, ভবনটি থেকে জরুরি নথিপত্র ও সরকারি রেকর্ডপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া জরুরি।
স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিকল্প ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে এবং বরাদ্দের প্রক্রিয়া চলছে। তবে স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত কর্মকর্তারা প্রতিদিনই এক ধরনের ভয় ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।