সাংবাদিক মাহবুব উল আহসান উল্লাসের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার না করায় কুষ্টিয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন সাংবাদিক নেতারা। তারা বলেছেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা করে, ভয় দেখিয়ে কিংবা প্রভাব খাটিয়ে সংবাদ প্রকাশ বন্ধ করা যাবে না। হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার না করা হলে সাংবাদিক সমাজ এবার শুধু প্রতিবাদ নয়, প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১ টায় কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সামনে কুষ্টিয়া সাংবাদিক ইউনিয়ন-কেইউজে (রেজিঃ নং খুলনা ২০৬৯) আয়োজিত মানববন্ধনে এসব কথা বলেন সাংবাদিক নেতারা।মানববন্ধনে জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকরা অংশ নেন।
বক্তারা বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিক উল্লাস হামলার শিকার হয়েছেন। সড়ক নির্মাণকাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগের তথ্য সংগ্রহের সময় তার ওপর হামলা এবং ক্যামেরা ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মামলা হলেও এখন পর্যন্ত আসামিদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সাংবাদিক নেতারা বলেন, সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় শুধু মামলা গ্রহণ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে তদন্ত এগিয়ে নিতে হবে। একই সঙ্গে হামলার নেপথ্যে কারা রয়েছে, তাদেরও তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করতে হবে।
তারা বলেন,প্রতিহত নয়, এবার প্রতিরোধ করা হবে। সাংবাদিকদের ওপর হামলা করে, ভয় দেখিয়ে কিংবা মামলা দিয়ে সংবাদ প্রকাশ বন্ধ করা যাবে না। একজন সাংবাদিকের ওপর হামলা হলে সাংবাদিক সমাজ তার পাশে দাঁড়াবে।মানববন্ধনে বক্তারা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তারা বলেন, মামলা হওয়ার পরও আসামিরা গ্রেপ্তার না হলে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সাংবাদিকদের মধ্যেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।
কুষ্টিয়া সাংবাদিক ইউনিয়ন-কেইউজের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বাচ্চু বলেন, সাংবাদিকরা কারও প্রতিপক্ষ নন। তারা জনগণের পক্ষে কথা বলেন এবং অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য তুলে ধরেন। সংবাদ সংগ্রহের কারণে কোনো সাংবাদিককে হামলার শিকার হতে হবে, এটা মেনে নেওয়া যায় না।
তিনি বলেন,সাংবাদিকরা কারও প্রতিপক্ষ নন। তারা জনগণের কথা তুলে ধরেন। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে একজন সাংবাদিকের ওপর হামলা স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর সরাসরি আঘাত। আমরা এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাই। মামলায় যাদের নাম রয়েছে, তদন্ত করে তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।
মানববন্ধনে বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, স্থানীয় বিভিন্ন হাট-ঘাট ও বালু ব্যবসা ঘিরে প্রভাবশালী মহলের স্বার্থ রয়েছে এবং এসব বিষয় নিয়ে সাংবাদিকরা অনুসন্ধানী সংবাদ করতে গেলে নানা ধরনের চাপের মুখে পড়েন।সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করে বলেন, এমপি আফজাল হোসেন হাট-ঘাট ও বালি থেকে নিয়মিত ভাগ নেন। আমার-আপনার মুখোশ উন্মোচন করে দেওয়া হবে।
সাংবাদিক নেতারা বলেন, কোনো রাজনৈতিক পরিচয়, প্রভাব কিংবা ক্ষমতার দাপট ব্যবহার করে সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেওয়ার সুযোগ নেই। তারা বলেন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব।
তাদের ভাষায়,সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি বা রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, হুমকি কিংবা সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেওয়ার সুযোগ নেই। হামলার ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
আব্দুর রাজ্জাক বাচ্চু আরও বলেন, সাংবাদিকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে সংবাদ প্রকাশ থেকে বিরত রাখা যাবে না। দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা না হলে সাংবাদিক সমাজ আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।তিনি বলেন,সাংবাদিক উল্লাসের ওপর হামলার ঘটনায় দৃশ্যমান ও দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে সাংবাদিক সমাজ আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে। সাংবাদিকদের ভয় দেখিয়ে কলম থামানো যাবে না।
মানববন্ধন পরিচালনা ও সঞ্চালনা করেন কুষ্টিয়া সাংবাদিক ইউনিয়ন-কেইউজের দপ্তর সম্পাদক এস এম মাহফুজ উর রহমান।এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া সাংবাদিক ইউনিয়ন-কেইউজের সাধারণ সম্পাদক শামিম উল হাসান অপু, সহসভাপতি মজিবুল শেখ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এমএ জিহাদ,
এর আগে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুষ্টিয়ার কুমারখালী পৌরসভার এলাকায় সড়ক নির্মাণকাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন বাংলা টিভির কুমারখালী প্রতিনিধি ও কুমারখালী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আহসান উল্লাস।
এ ঘটনায় শনিবার সন্ধ্যায় বাদী হয়ে কুমারখালী থানায় মামলা করেন তিনি। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে মামলার এজাহারে কুষ্টিয়া-৪ আসনের এমপি আফজাল হোসেনের বডিগার্ড রুহুল আমিন, তাঁর ভাই আনোয়ার হোসেন ও ছেলে শোভন হোসেনের নাম থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।