হে মহামান্য রাষ্ট্রপতি,বীর মুক্তিযোদ্ধা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মহোদয়,১৯৭১ সালে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান-দেশপ্রেমিকের মুখে মহান স্বাধীনতার ঘোষণা শুনে। আপনি ১৯৭১ সালে,জীবনের মায়া ভুলে,মহান স্বাধীনতা অর্জন এবং গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে-৯ মাস যুদ্ধ করেছেন। সুতরাং আপনার ত্যাগ ও অবদানের কাছে স্বাধীন জাতি ঋণী।
হে মহামান্য রাষ্ট্রপতি মহোদয়,১৯৭১ সালের ত্যাগ ও অবদানের উপর ভিত্তি করে, মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন। আপনার ত্যাগ ও অবদানের মূল্যায়নস্বরূপ আপনি বীর মুক্তিযোদ্ধা উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন। ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে বাংলার আকাশে নতুন সূর্য উঠিয়েছেন,জাতিকে বিজয়ের মালা পরিয়েছেন।
হে মহামান্য রাষ্ট্রপতি মহোদয়,আপনিসহ মহান মুক্তিযোদ্ধারা-জাতিকে ভূ-খন্ড-মানচিত্র ও লাল-সবুজে ঘেরা,জাতীয় পতাকা উপহার দিয়েছেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা উপাধি আপনার রক্তাক্ত ত্যাগী কর্মের অবদানের ফল। এ অবদান রাখতেই হবে অম্লান-রক্ষা করতেই হবে,কষ্টার্জিত মহান স্বাধীনতার মান।
হে মহামান্য রাষ্ট্রপতি মহোদয়,শহীদ জিয়াউর রহমান বীর উত্তম-এর আহবানে সাড়া দিয়ে,আপনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে যোগদান করেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং আপসহীনখ্যাত দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আলোকিত হাত-প্রধানমন্ত্রীর হাত তথা জাতির হাতকে আপনি শক্তিশালী করেছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী লন্ডনে থেকেও দেশ ও জাতির স্বার্থে দুঃসাহসিক মানসিকতার পরিচয় দিয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন। আপনি বাংলাদেশে থেকে দেশ ও জাতির স্বার্থে অনুরূপভাবে দুঃসাহসিক নেতৃত্ব দিয়ে দেশের নেতা-কর্মীদেরকে চাঙ্গা রেখেছেন। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় জাতীয়তাবাদী চেতনার শক্তি বৃদ্ধিতে অবদান রেখেছেন। ত্যাগের মূল্যায়ন হিসেবে আপনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মহাসচিব হয়েছেন।
হে মহামান্য রাষ্ট্রপতি মহোদয়-শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং আপনার ত্যাগের বিনিময়ে জাতি পেয়েছেন আজকের বাংলাদেশ। স্বাধীন দেশের খাঁটি ও স্বদেশী মাটিতে দাঁড়িয়ে,দেশের মানুষকে স্বদেশী রাজনীতি করার সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছেন। এ সুযোগ যাতে সমাজের ভালো মানুষ কাজে লাগাতে পারেন,সে পথ সৃষ্টি করার উদ্যোগ নতুন করে আপনাকে নিতে হবে।
হে মহামান্য রাষ্ট্রপতি মহোদয়,আমরা আপনাকে যথাযথ মূল্যায়ন করতে পারি নাই। কিন্তু মহান আল্লাহপাক আপনার ত্যাগের মূল্যায়ন করেছেন। যার ফলে আপনি,দেশের ২৩ তম মহামান্য রাষ্ট্রপতির মর্যাদা লাভ করেছেন,যা আপনার ভালো কাজের ফল।
হে মহামান্য রাষ্ট্রপতি মহোদয়,আপনি যেই চেতনার আলোয়ে-আলোকিত হয়ে দেশ ও জাতির জন্য যুদ্ধ করেছেন। সেই চেতনার আলো যাতে দিনদিন ছড়িয়ে পরে এবং পরিপূর্ণ প্রতিফলন ঘটে। সেই লক্ষ্যে কাজ করার উপযুক্ত সময় আপনারসহ আমাদের জাতীয়তাবাদী চেতনা শক্তির আলোকিত হাতে। এখন আমাদের অন্তরে প্রকৃত ইসলামের ও জাতীয়তাবাদী চেতনা শক্তির আলো জ্বালাতে হবে-মানবতাকে জাগ্রত করতে হবে। মানুষের কল্যাণে যার-যার ক্ষমতা তাকে কাজে লাগাতে হবে-ভালোবাসা বিলিয়ে দিতে হবে-ভালোবাসার ভিতরে উন্নয়ন ও মানবতা আছে। আমাদের মাঝে যে বিষয়গুলোর অভাব আছে-খুজে-খুজে সে বিষয়গুলো সামনে নিয়ে আসতে হবে,ত্যাগী হয়ে কাজ করতে হবে। ভোগের মাঝেই সব কল্যাণ নাই-ত্যাগের মাঝেও অনেক কল্যাণ দেখতে পাই। সেই মনকে ফিরিয়ে আনতে চাই। আধুনিকতার ছোঁয়ায় সেই মন হারিয়ে গেছে। মৃত্যুর আগে ভালো সব কাজ করার চেস্টা করতে হবে। মানুষ হয়ে বিদায় নিয়ে যেতে পারলে-সেই জগতের ফল ভালো পাওয়া যাবে। সেই বিশ্বাসে-বিশ্বাসীদের সংখ্যা বাড়াতে হবে।
হে মহামান্য রাষ্ট্রপতি মহোদয়,দেশের অনগ্রসর মানুষ,দেশের মন্ত্রী-এমপিদের সহায়তা-সহজে পেয়ে যাতে অগ্রসরের পথে ধাবিত হতে পারেন। সেই পথ সৃষ্টি করা প্রয়োজন আছে এবং বেশি করে প্রয়োজন মহান মুক্তিযোদ্ধাদের চেতনা বাস্তবায়ন করা। এর ভিতরে নিহিত রয়েছে জাতীয় উন্নয়ন। আপনি-স্বৈরাচার হাসিনা বিরোধী সকল আন্দোলন-সংগ্রামে সফলতার সাথে নেতৃত্ব দান করেছেন। আপনি প্রায় সকল অনুষ্ঠানে নির্ধারিত সময়ের আগে গিয়ে উপস্থিত হয়েছেন। এতে বিএনপি’র নেতা-কর্মীসহ জাতি অংশগ্রহণে আগ্রহী হয়ে এগিয়ে এসেছেন।
হে মহামান্য রাষ্ট্রপতি মহোদয়,দেশে অসংখ্য ভালো মানুষ আছেন,যারা ভালো কাজ করতে চান। তাঁরা যাতে সামনে এসে ভালো কাজ করতে পারেন এবং উৎসাহিত হয়। সেজন্য তাদেরকে মূল্যায়ন করে সামনে নিয়ে আসতে হবে এবং বন্ধ দরজা খুলে দিতে হবে। আপনি বুঝেন তৃণমূল পর্যায়ের কর্মী-অনুসারী ও সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের কথা।হে মহামান্য রাষ্ট্রপতি মহোদয়,রাষ্ট্রের কাছ থেকে ভালো মানুষগুলো মূল্যায়ন পেলে এবং সামনে এসে কাজ করার সুযোগ পেলে। আঁধারের ঐ ক্ষতিকর মানুষগুলো আঁধারেই মিশে যাবে অথবা আলোকিত পথে ফিরে আসবেন।
হে মহামান্য রাষ্ট্রপতি মহোদয়,আপনারা যেই চিন্তা মাথায় রেখে যুদ্ধ করেছেন। আপনাদের সেই চিন্তার বাস্তবায়ন হলে-দেশের মানুষ বৈষম্যহীন উন্নয়ন পাবেন। তাতে যথাযথ ব্যক্তিরা সহযোগিতা পেয়ে উপকৃত হবেন-আপনাদের চেতনা বাস্তবায়ন ও সার্থক হবে। বিএনপির মহাসচিব হিসেবে আপনি দেশ ও জাতির দুঃসময়ে যেভাবে গুরুদায়িত্ব পালন করেছেন তা জাতি শ্রদ্ধার সাথে আজীবন স্মরণ করবেন।
হে মহামান্য রাষ্ট্রপতি মহোদয়,১৯৭১ সালের চেতনা ছিলো,দেশ স্বাধীন হলে, খুন-হত্যা-ধর্ষণ-চুরি- ডাকাতি-দুর্নীতি-টাকা পাচার করার পথ বন্ধ হবে এবং সেই উদ্দেশ্যেই মহান স্বাধীনতা অর্জন করা হয়েছে। উক্ত কালো পথ বন্ধ করে ভালো পথ সৃষ্টি করতে পারলেই জাতি মহান স্বাধীনতার সুফসল ভোগ করার সুযোগ পাবেন। অন্যদিকে দেশে ভালো মানের রাজনীতিবিদ সৃষ্টি হবেন, যারা বৈষম্যহীন উন্নয়নে অবদান রাখবেন, গণতন্ত্রের স্বাদ ঘরে-ঘরে পৌঁছে দিবেন। সেই চিন্তার আলোকে আপনারা বিজয় অর্জন করেছেন। মহান আল্লাহপাক আপনার আলোকিত হাতে যেই ক্ষমতা দান করেছেন-সেই ক্ষমতা দিয়ে কাজ করলে জাতির আশা পূরণ হবে ইনশাল্লাহ।
হে মহামান্য রাষ্ট্রপতি মহোদয়,১৬ বছর যারা মাঠে থেকে, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে ধারাবাহিকভাবে অবদান রেখেছেন। লক্ষ্য করা যায় তারাই আজ বেশিরভাগ বৈষম্যের শিকার। সুযোগে ধান্দাবাজ ও সুযোগ সন্ধানীরা সামনে এগিয়ে এসেছেন, ত্যাগীরা বঞ্চিত হচ্ছেন। আপনি সাধারণ কর্মী ও সাধারণ মানুষদের মূল্যায়ন করেন,সমস্যা বুঝেন,সহায়তা করেন, তাই আপনাকে অবগত করা দরকার।
হে মহামান্য রাষ্ট্রপতি মহোদয়,যার উন্নয়ন হয়,তার উন্নয়ন বারবার হয় এবং প্রয়োজনীয় ব্যক্তিরা বঞ্চিত হয়। আমাদের প্রতিনিধিরা বাস্তবতা খুঁজে কোথায়,আর বেছে-বেছে ভুক্তভোগীদেরকে সহযোগিতা করে কোথায় ! সকল নেতাদের কাছ থেকে সহযোগিতা পেলে-কেউ প্রধানমন্ত্রী এবং আপনার কাছে আবেদন করে না। প্রধানমন্ত্রী এবং আপনার প্রতি মানুষের আস্থা আছে বলেই মানুষ আপনাদের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করেন এবং আবেদন-নিবেদন করেন।
হে মহামান্য রাষ্ট্রপতি মহোদয়, বিভিন্ন পেশা ও শ্রেণীর কিছু নেতারা জি হুজুর হ্যা হুজুরে বিশ্বাসী,তারাই হাইব্রিড চক্রের উন্নয়ন ঘটিয়ে থাকে বেশি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ১৭ বছর মাঠে কাজ করা মানুষগুলো মাঠেই জীবন কাটায়। ত্যাগীরা এ বৈষম্যতার অবসান চায় এবং স্বাভাবিক প্রয়োজন মেটানোর ক্ষেত্রে সহযোগিতা পাওয়ার প্রত্যাশায়।
হে মহামান্য রাষ্ট্রপতি মহোদয়-দেশের নিম্ন বৃত্ত পরিবারের কত মানুষ, নিরবে মানবেতর জীবন কাটায়। তাদের সংবাদ সকল প্রতিনিধিদের পক্ষে জানা সম্ভব নয়। যাদের পক্ষে কোন অন্যায়-অপরাধ করা সম্ভব নয়। অনেকের পরনের পোশাক ভালো দেখা যায়, ভিতরের অবস্থা মোটেই ভালো নয়-সামান্য উন্নয়নের আশায় দিন-রাত দৌড়ায়।
হে মহামান্য রাষ্ট্রপতি মহোদয়,তাদের ভিতরের করুন খবর জানা বড় মুশকিলের বিষয়। অনেক পরিবারের সন্তান মেধা সম্পন্ন হওয়ার পরেও-শিক্ষার আলো থেকে পিছিয়ে রয়। ভর্তি ফিসহ ইত্যাদি খরচ মেটানো সকলের পক্ষে সম্ভব নয়। আমাদের প্রতিনিধিরা যদি আন্তরিকতার সাথে পাঁচটি বছর কাজ করেন, তাহলে জাতির কাছে আর ভোট চাইতে হবে না। কাজের ফল কখনো বৃথা হয়ে যায় না।
হে মহামান্য রাষ্ট্রপতি মহোদয়,মানুষের ভিতরের গভীর সমস্যা প্রকাশ করা ছাড়া-প্রতিনিধিদের পক্ষে বাস্তবতা জানা সম্ভব নয়। সমস্যা চেপে রেখে অনেকেই পরিবার নিয়ে জীবন কাটায়। প্রতিনিধিদের সহায়তা নিয়ে কেউ বারো মাস উন্নয়ন ঘটায়, ক্ষুধার্ত মানুষের পেটের ক্ষুধা বারমাস পেটে রয়েই যায়। দেশ ও জাতির স্বার্থে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে আপনি মিথ্যা মামলায় জেল খেটেছেন-হামলার শিকার হয়েছেন। সুতরাং ত্যাগী কর্মী ও মানুষের মূল্যায়নসহ সমস্যা আপনিই ভালো বুঝবেন।
হে মহামান্য রাষ্ট্রপতি মহোদয়, ১৬-১৭ বছর মাঠে থেকে যারা এক পিস বিস্কিট-পেট ভরে পানি ও চা খেয়ে আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেছেন, তারাই বেশিরভাগ ৫ আগস্টের পরে বৈষম্যতার শিকার হয়েছেন। বিএনপি তথা সাংবাদিকদের আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণ করার জন্য কত মানুষ জাতীয় প্রেসক্লাব চত্বরে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটিয়েছেন। হামলা-মামলার হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার উদ্দেশ্যে। তারা দিন শেষে রাতে বিভিন্ন স্টেশনে গিয়ে ফকিরের সাথে রাত যাপন করেছেন এবং পরের দিন আবার কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছেন। নেতাদের সহযোগিতা না পেয়ে অনেকে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন রয়েছেন। কঠিন এই বাস্তবতা কতজন নেতা জানেন!
হে মহামান্য রাষ্ট্রপতি মহোদয়,তাদের আশা ছিল স্বৈরাচার হাসিনার পতন হলে এবং বিএনপি বিজয় অর্জন করলে। সাধারণ রাজনৈতিক কর্মী ও সাংবাদিকদের-স্বাভাবিক মানের উন্নয়ন হবে,আজ তারাই কষ্ট করছেন নিরবে। নেতারা আজ দূর থেকে বহু দূরে,ত্যাগীরা নেতা পায়না খুঁজে,ত্যাগী দেখলে নেতারা থাকে চোখ বুঝে,নেতাদের উন্নয়ন নেতারা ভালো বুঝে,দুঃসময়ের ত্যাগীদেরকে এখন আর কে খুঁজে !
হে মহামান্য রাষ্ট্রপতি মহোদয়, ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে অর্জন করেছেন মহান বিজয়। জাতি আশাবাদী,আপনার আলোকিত হাতের ছোঁয়ায়, স্বাধীন দেশের মাটিতে যেন নতুন সূর্যের উদয় হয়-জাতি যেন নতুন উন্নয়নের ছোঁয়া পেয়ে ধন্য হয়।
হে মহামান্য রাষ্ট্রপতি মহোদয়,নতুন সূর্যের আলো যেন স্বাধীন বাংলার বুকে বৈষম্যহীন উন্নয়নের আলো ছড়িয়ে দেয়। মহান স্বাধীনতা যেন বাস্তবতার আলোকেই অর্থবহ হয়, ক্ষতিকর মানুষের রাজনীতি যেন বন্ধ হয়। সমাজের ভালো মানুষ যেন ভালো কাজ করার সুযোগ পায়। আপনার জীবদ্দশায়,ভালো ফসল জাতি পাওয়ার আশায় এবং আপনার পরিবারের সুস্থ জীবন কামনায়।
হে মহামান্য রাষ্ট্রপতি মহোদয়, সুখ আর দুঃখের মাঝে মানুষের জীবন কেটেই যায়। মানুষের জীবন তরী এমনই হয়। মুহূর্তে-মুহূর্তে দমের পাখিটা আসে আর যায়, জানিনা শেষ দমের পাখিটা কখন ফিরে না আসার হয়। শুধু জানি দম ফুরালেও, মানুষের কর্মগুলো অমর হয়ে ইতিহাসের পাতায় ও মানুষের হৃদয় মানুষ বেঁচে রয়।
হে মহামান্য রাষ্ট্রপতি মহোদয়,১৯৭১ আমাদের মূল পরিচয় এবং বিশ্বের ইতিহাসে-স্বাধীন বাংলাদেশের নাম শোভা পায়। প্রেক্ষাপটের আলোকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে-বিভিন্ন কারণে বিভিন্ন প্রেক্ষাপট সৃষ্টি হয়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট-৭ নভেম্বর ১৯৭৫-৯০ ও ২৪ এর ইতিহাস সৃষ্টি তার বাহিরে নয়। ঘটনাক্রমে বহু ঘটনা ঘটেছে স্বাধীন সোনার বাংলায়। সময় এসেছে জাতির হাতে-জাতীয়তাবাদী শক্তি ক্ষমতায় আছে। তাই সকল ইতিহাসের সমন্বয় ঘটিয়ে, বৈষম্যহীন সুফসল ভোগ করার সুযোগ দিতে হবে জাতিকে। কোন শহীদের রক্ত যেন বৃথা না হয়। মূল্যায়নের অভাবে যেন কোন যোদ্ধা কষ্ট না পায়-স্বরণে রাখতে হবে সেসব বিষয়।
হে ২৩ তম মহামান্য রাষ্ট্রপতি মহোদয়-আপনি মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবে মানুষ গড়েছেন এবং সুশিক্ষার আলো ছড়িয়েছেন। দেশের রাজনীতিতে এসেও আপনি, সু-রাজনৈতিক দক্ষতা অর্জনের আলো দিয়ে-মানুষ হিসাবে মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন এবং মানুষ হওয়ার ও কাজ করার আলোকিত শিক্ষা দিয়েছেন। মিথ্যা কথা না বলে এবং কাউকে গালা-গালি না করেও ভালো মানের রাজনীতি করা ও রাজনীতিবিদ হওয়া সম্ভব। যার প্রমাণ দিয়েছেন রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও সভ্যতার মাধ্যমে। আপনি গণতান্ত্রিক সকল আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়ে বিজয় অর্জনেও অবদান রেখেছেন। নীতি-আদর্শ-সততার মূল্যায়ন হিসেবে-আপনি মহামান্য রাষ্ট্রপতি হিসেবেও বিপুল ভোটে বিজয় অর্জন করেছেন। জাতি আশাবাদী পর্যায়ক্রমে মহামান্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ভালো ফসল ভোগ করার সুযোগ পেয়ে উপকৃত হবেন। তবে ভালো ফসল স্বল্প সময়ের ভিতরে আশা করা যায় না সে বিষয়গুলিও আমাদেরকে বুঝতে হবে। মহান আল্লাহপাক সেই উপলব্ধি করার তৌফিক আমাদেরকে দান করুন।
হে মহামান্য রাষ্ট্রপতি মহোদয়-মহান আল্লাহপাকের হুকুমে-মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামসহ ২৫ জন নবী এসেছিলেন সুন্দর দুনিয়ার বুকে। আমাদের কর্মেগুনে আঁধারে নিমজ্জিত ছিল যখন সুন্দর দুনিয়া। শেষ নবীকে পাঠিয়ে দিয়ে আলোকিত পথে ধাবিত করেছিলেন সুন্দর দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ জীব মানব জাতিকে। পূর্ণ দায়িত্ব পালন করে মহানবী চলে গেলেন জান্নাতের বাগানে। আমরা আধুনিক যুগেও আছি পিছিয়ে। আলোকিত ফুল ফুটাতে পারছি না দুনিয়ার বাগানে। সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের দেশ স্বাধীন সুন্দর বাংলাদেশ। যেই দেশের রূপ-গুণের বর্ণনা দিয়ে করা যাবে না শেষ। আকাশের দিকে তাকাই- পাহাড়ের দিকে তাকাই-রাতের চাঁদ-তারা-দিনের সূর্যের দিকে তাকাই-পানির দিকে তাকাই- পশু-পাখি-জীব-জানোয়ার-মাটি ও ফসলের দিকে তাকাই-সবুজ গাছ-পালা-মাছের দিকে তাকাই। সব দিকেই সুন্দর রূপের বাংলাদেশ দেখতে পাই। সেই দেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব দিয়ে-মহান আল্লাহপাক পছন্দ করে দেশের সর্বোচ্চ আসনে বসালেন আপনাকে। ভালো ফসল পাবে দেশ ও জাতি আপনার আলোকিত হাতের ছোঁয়ার মাধ্যমে। এই আশা সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম দেশের মুসলমান করেন। মহান আল্লাহপাক যেন আপনার উপরে মুহূর্তে-মুহূর্তে রহমত বর্ষিত করেন। সেই রহমতের ফলে আপনি যেন জাতিকে আলোকিত পথ দেখাতে ও উন্নয়ন ঘটাতে পারেন। তাই জাতি বিশ্বাস করেন-জাতীয়তাবাদী চেতনার আলো জ্বালিয়ে যদি দলের সকল এমপি-মন্ত্রী-চেয়ারম্যান- কমিশনার ও নেতারা কাজ করেন-তাহলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-জাতির হৃদয় চিরদিনের জন্য স্থান করে নিতে পারবেন ইনশাল্লাহ। সবশেষে আপনারসহ পরিবারের সুস্বাস্থ্য কামনা এবং ১৯৭১ এর বিজয় যেন চির অমর রয়-জাতি যেন জাতীয়তাবাদী শক্তির হাতে উন্নয়ন পেয়ে উন্নয়নশীল জাতিতে পরিণত হয়।
লেখক- সাংবাদিক ও কলামিস্ট