সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলা পরিষদের সভা কক্ষে ৩০শে আগষ্ট রোজ রবিবার সকাল ১০:০০ ঘটিকার সময় আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জনাবা আফরিন জাহান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, বেলকুচি সিরাজগঞ্জ।
বেলকুচি উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির জুলাই/২০২৬ মাসে অনুষ্ঠিত সভার কার্যবিবরণী। সভার শুরুতে উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি কর্তৃক উপস্থিত সকল সদস্যকে স্বাগত জানিয়ে সভার কার্যক্রম শুরু করা হয়। বেলকুচি উপজেলায় সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট সকল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অনুরোধ জানানো হয়। বেলকুচি উপজেলার মুকুন্দগাঁতী বাজারের যানজট নিরসন, নিত্য প্রয়োজনীয় সকল পণ্যের বাজার মূল্য বৃদ্ধি রোধকয়ে বিশেষ নজরদারি বৃদ্ধির জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ জানানো হয়। অতঃপর সভাপতি গত সভার কার্যবিবরণী পাঠ ও সভার গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহের বাস্তবায়ন অগ্রগতি উপস্থাপন করেন। কার্যবিবরণীতে কোন সংশোধনী না থাকায় সকলের সম্মতিক্রমে তা মূটীকরণ করা হয়। গত মাসের তুলনামূলক অপরাধ চিত্র পর্যালোচনা এবং পর্যায়ক্রমে উপজেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, জেনারেল সার্টিফিকেট মামলার গ্রেফতারী পরোয়ানা ও গ্রাম আদালতের মামলার বিষয়, ইভটিজিং, বাল্যবিবাহ, নারী ও শিশু নির্ঘাতন প্রতিরোধসহ বিস্তারিত আলোচনান্তে নিম্নোক্ত সিদ্ধান্তসমূহ গৃহিত হয়। সহকারী কমিশনার (ভূমি), বেলকুচি জানান, আগের চেয়ে মাদকের প্রবণতা বেড়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নে একটা করে খেলার মাঠ, নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস, নজরুল বর্ষ চলমান। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বেগবান হলে মাদকের প্রবনতা অনেকটা কমে যাবে। এজন্য গণপ্রচারণা, মাঠ পর্যায়ে প্রচার-প্রচারণা, বিভিন্ন দিবস, সভা-সেমিনার ও উঠান বৈঠকে মাদকের ভয়াবহ দিক তুলে ধরে সচেতনতামূলক আলোচনা করতে হবে। এছাড়াও অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করলে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে অপরাধীদের শান্তি প্রদান করা হবে মর্মে তিনি সভাকে অবহিত করেন।
অফিসার ইনচার্জ, বেলকুচি থানা বলেন, বেলকুচি উপজেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ বিভাগ আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বেলকুচি উপজেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তিনি জানান, মাদকের আসামী বা চোর ধরা হলে বাদি হয়ে কেউ মামলা দিতে চায়না এবং কেউ সাক্ষী দিতে চায়না। ফসে মাদকের আসার্থী বা চোর ধরার পর পুলিশের সমস্যায় পড়তে হয়। মাদকের বিষয় পুলিশ জিরো টলারেন্স। তিনি বলেন, সকলেই মাদক নির্মূল চায় কিন্তু কেউ তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে চায় না। ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও চেয়ারম্যানসহ সর্বস্তরের জনগণকে যার যার অবস্থান থেকে মাদকসহ সকল প্রকার সামাজিক ব্যাধি নিরসনে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সার্বিক সহযোগিতার জন্য অনুরোধ জানান। তিনি আরও জানান, গত জুন ২০২৬ মাসে বেলকুচি থানায় ০৬টি মাদকের মামলাসহ মোট ১৩টি মামলা হয়েছে। এছারা বক্তারা বলেন, বেলকুচি উপজেলাসহ সারাদেশের প্রধান সমসস্যা এখন মাদক। আগামী প্রজন্মকে ধাংস করে ফেলছে এই মাদক। কারো একার পক্ষে এই সমস্যা নিরসন করা সমৃদ্ধর নয়। দলমত নির্বিশেষে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এটা নিরসন করতে হবে এবং সামাজিকভাবে মাদকের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। স্থায়ীভাবে নিরসনের জন্য পৌরসভা ও ইউনিয়নসহ পুরো উপজেলা মিলে একটি কমিটি গঠন করতে হবে। পৌরসভা ও ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মাদকের ভয়াবহ ক্ষতিকর দিক উল্লেখ করে জনসচেতনতামূলক সভা করতে হবে। যারা মাদক সেবন করে ও যারা মাদক ব্যবসা করে জরুরী ভিত্তিতে তাদের এলাকাভিত্তিক তালিকা প্রস্তুত করতে হবে। যারা এর সাথে জড়িত তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। মুকুন্দগাঁতী বাজারের যানজট নিরসনে তিনি বলেন মুকুন্দগাঁতী গড়ানের দুই পাশে গার্লস স্কুল পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে অবৈধভাবে যারা দোকানপাট স্থাপন করে ব্যবসা করছে তাদের তালিকা প্রস্তুত করতে হবে। তাদের জন্য উপযুক্ত রায়গা নির্বাচন করে স্থায়ীভাবে সেখানে প্রেরণ করতে হবে। তিনি আরও জানান, কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোচিং সেন্টার চলবে না। যে শিক্ষক কোচিং সেন্টারের সাথে যুক্ত থাকবে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। উক্ত সভায় আরও উপস্থিত, জনাব বনি আমিন, সদস্য সচিব বেলকুচি উপজেলা বিএনপি। ডাঃ নাজমুল হক, (ইউএলও)বেলকুচি উপজেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর। জনাব নুরুল ইসলাম প্যানেল চেয়ারম্যান, ২ নং রাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদ। জাতীয় দৈনিক ঘোষণা পত্রিকার সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক মনিরুল ইসলাম সহ সকল সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা বৃন্দ।