সাভার আশুলিয়া থানার শিমুলিয়া ইউনিয়নের কলতাসুতী গ্রামে এক অসহায় নারীর পৈতৃক বাস্তুভিটা জবরদখল ও ভয়ভীতি দেখিয়ে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ইউনুস পালোয়ান ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে কলতাসুতী মৌজার ২৬৮৮ খতিয়ানের ৭৪ নম্বর দাগে অবস্থিত ৪ শতাংশ জমিতে নির্মিত একতলা বাড়িতে। দীর্ঘ ১১ বছর ধরে নিজের বাড়ি ফিরে পেতে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন ভুক্তভোগী নারী মরিয়ম বেগম, কিন্তু মিলছে না কোনো বিচার।
ভুক্তভোগী মরিয়ম বেগম (স্বামী: আব্দুল হামিদ) জানান, ওই ৪ শতাংশ জমির ওপর পাঁচতলা ফাউন্ডেশনের একটি একতলা ভবন নির্মাণ করে তারা বসবাস করছিলেন। কিন্তু ১১ বছর আগে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ইউনুস পালোয়ানের প্রত্যক্ষ মদদে ও সহায়তায় নজরুল, নাসির, মোফাজ্জলসহ একদল সন্ত্রাসী জোরপূর্বক তাদের ওপর হামলা চালায়। প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে এক কাপড়ে মরিয়ম বেগমকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়।
শুধু বাড়ি দখলই নয়, জবরদখলের সময় বাড়ি থেকে আনুমানিক ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকার আসবাবপত্র ও মূল্যবান মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যায় অভিযুক্তরা। বর্তমানে ইউনুস পালোয়ানের হুকুমে অভিযুক্ত নজরুল ও তার বোন শিউলি অবৈধভাবে ওই বাড়িতে বসবাস করছেন।
জানা গেছে, অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা ইউনুস পালোয়ান বর্তমানে দেশে না থাকলেও বিদেশ থেকেই তার পোষ্য ক্যাডার বাহিনীকে সরাসরি দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। তার প্রধান সহযোগী নজরুল ও নাসিরের নেতৃত্বাধীন সন্ত্রাসী বাহিনীর ভয়ে ভুক্তভোগী মরিয়ম বেগম শুধু নিজ বাড়িতেই নয়, কলতাসুতী এলাকাতেও প্রবেশ করতে পারছেন না।
বাড়ি ও জমি উদ্ধারের জন্য ভুক্তভোগীর স্বামী আব্দুল হামিদ বারবার ন্যায়বিচারের আশায় নজরুলসহ অভিযুক্তদের সঙ্গে কথা বলতে যান। কিন্তু প্রতিবারই তাকে রাস্তায় ফেলে বেধড়ক মারধর ও জখম করা হয়। এমনকি একপর্যায়ে জীবন বাঁচাতে আব্দুল হামিদ এলাকা ছেড়ে ঢাকায় চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তবে ঢাকা যাওয়ার পথে আশুলিয়ার বেড়িবাঁধ এলাকায় অভিযুক্ত নজরুল, মোফাজ্জল ও নাসিরসহ কয়েকজন তার ওপর হামলা চালায় এবং তাকে মারাত্মক জখম করে মৃত ভেবে ফেলে রেখে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে স্বজনদের খবর দিলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আইনগত সহায়তা ও ন্যায়বিচারের আশায় দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরেছেন এই অসহায় নারী। এর আগে স্থানীয় শিমুলিয়া ইউনিয়নের তৎকালিন চেয়ারম্যান সুরুজের কাছে বারবার বিচারের দাবি জানানো হলেও কোনো সুরাহা মেলেনি। অভিযোগ রয়েছে, ইউনুস পালোয়ান চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহকর্মী হওয়ায় চেয়ারম্যান জীবিত থাকা অবস্থায় এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেননি।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে গিয়েও হতাশ হতে হয়েছে পরিবারটিকে। আশুলিয়া থানার সাবেক এসআই ইকরাম, এসআই শওকত আলী এবং বর্তমান এসআই নজরুলের কাছে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ভুক্তভোগী মরিয়ম বেগমের আকুতি:
“১১টি বছর ধরে আমরা পথে পথে ঘুরছি। নিজের জমি, নিজের বাড়ি থাকা সত্ত্বেও আমরা গৃহহীন। হামলা আর হুমকির মুখে এলাকাতেই ঢুকতে পারি না। আমরা প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ এবং আমাদের বাড়ি ফিরে পাওয়ার বিনীত আকুতি জানাচ্ছি।”
১. মো: নজরুল ইসলাম, পিতা: নূর মোহাম্মদ, গ্রাম: কলতাসুতী, থানা: আশুলিয়া, জেলা: ঢাকা। ২. মো: নাসির উদ্দিন, পিতা: মৃত বাচ্চু মাঝি, গ্রাম: কলতাসুতী, থানা: আশুলিয়া, জেলা: ঢাকা।
৩. মো: মোফাজ্জল, পিতা: মো: আলী, গ্রাম: কলতাসুতী, থানা: আশুলিয়া, জেলা: ঢাকা।
মরিয়ম বেগম ও তার পরিবার আশুলিয়া থানা পুলিশ এবং ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের কাছে সুবিচার ও নিজেদের বসতভিটা উদ্ধারে জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।