নওগাঁর আত্রাই উপজেলা এক সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রীর বাল্যবিবাহ পণ্ড করেছে উপজেলা প্রশাসন ও ভ্রাম্যমাণ আদালত। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করার সময় সরকারি কাজে বাধা, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও বিচারিক দলের ওপর হামলা এবং গাড়ি ভাঙচুরের চেষ্টার অভিযোগে তিনজনকে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। একই সাথে বাল্যবিবাহ আয়োজনের অপরাধে বর ও কনের বাবাকে মোট ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
গতকাল ২৯ আগস্ট দুপুর ২:৩০ ঘটিকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার বিশা ইউনিয়নের সমাসপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। জন্মসনদের তথ্য অনুযায়ী কনের জন্ম তারিখ ২৭ আগস্ট, ২০১২ (বয়স ১৪ বছর)। কনে স্থানীয় স্কুলের ৭ম শ্রেণীর ছাত্রী। অভিযানে বাল্যবিবাহের সত্যতা নিশ্চিত হয় ভ্রাম্যমাণ আদালত।
প্রশাসন সূত্র জানায়, ঘটনাস্থলে বর বা কনের বাবা-মা না আসায় প্রাথমিকভাবে বর মো: আল আমিন শেখ ও কনেকে হেফাজতে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে আসামিদের নিয়ে পুলিশ ও আদালত পরিচালনা দল প্রস্থান করতে চাইলে বরের পরিবারের সদস্যসহ ২৫-৩০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল পথরোধ করে আসামিকে ছিনতাইয়ের চেষ্টা চালায়। এ সময় তারা দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্য, আদালতের পেশকার ও গ্রাম পুলিশের ওপর হামলা চালায় এবং এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়ি ভাঙচুরের চেষ্টা চালিয়ে সরকারি কাজে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আত্রাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)-র নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বর-কনেসহ মোট ৭ জনকে গ্রেফতার করে।
পরবর্তীতে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ অনুযায়ী বরের বাবা মো: ইয়ানুস শেখকে ২০,০০০ টাকা ও কনের বাবা জুয়েলকে ২০,০০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
অন্যদিকে সরকারি কাজে ইচ্ছা করে বাধা প্রদান, আসামি ছিনতাইয়ের চেষ্টা এবং দায়িত্বে নিয়োজিত সদস্যদের ওপর হামলার অপরাধে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ১৮৯ ও ২২৫ ধারায় অভিযুক্ত সাব্যস্ত করে মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯-এর ৭(২) ধারা মোতাবেক সমাসপাড়া গ্রামের মান্নান শেখকে (পিতা: করম আলী শেখ) ০১ বছর, মো: রাব্বি শেখকে (পিতা: মো: ইয়ানুস শেখ) ০৬ মাস এবং মো: মাহাতাব আলীকে (পিতা: মৃত আব্দুল আজিজ) ০১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, বাল্যবিবাহ সমাজের জন্য একটি বড় অভিশাপ। খবর পাওয়ার সাথে সাথেই আমরা তা প্রতিরোধে আইনগত পদক্ষেপ নিয়েছি। তবে সরকারি কাজে বাধা সৃষ্টি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলার চেষ্টা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। বাল্যবিবাহ ও যেকোনো ধরণের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রোধে আমাদের এ ধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
আইনি প্রক্রিয়া শেষে সাজাপ্রাপ্তদের নওগাঁ জেলা কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেওয়া হয়। অন্যদিকে বর ও কনের অভিভাবকদের কাছ থেকে ভবিষ্যতে বাল্যবিবাহ না দেওয়ার শর্তে মুচলেকা গ্রহণপূর্বক নাবালিকা কনে ও বরকে তাদের নিজ নিজ অভিভাবকের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে