সাংবাদিকতা রাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত। গণতন্ত্র, সুশাসন, মানবাধিকার ও দুর্নীতিবিরোধী লড়াইয়ে স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। সাংবাদিকতা একটি স্বাধীন পেশা |সাংবাদিকরা রাষ্ট্র সরকার ও দুর্নীতিবাজসহ সকল ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা তৈরি করতে সহযোগিতা করে | জবাবদিহিতা যাতে ব্যাহত হয় এজন্যই কি নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় কথা শুনে দুর্নীতিবাজরা উচ্ছ্বসিত | একথা ভুললে চলবে নাহ গণমাধ্যম ও সাংবাদিকরা ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন পাকিস্তান বিরোধী আন্দোলন বাংলাদেশ সৃষ্টির আন্দোলন মুক্তিযুদ্ধ স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনসহ সকল আন্দোলনে ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যম ও সাংবাদিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে | বহু সাংবাদিক মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন বহু সাংবাদিক সত্য তুলে ধরতে গিয়ে দুর্নীতিবাজদের দ্বারা নিহত ও আহত হয়েছেন তারপরও সাংবাদিকরা থেমে নেই দুর্নীতি তুলে ধরতে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখছে | সাংবাদিকদের লেখনীর মাধ্যমে জবাবদিহিতার ক্ষেত্রে যথেষ্ট ভূমিকা রেখে চলছে | আমার জানামতে পৃথিবীর কোন দেশেই সাংবাদিক নিবন্ধন নাই যেমন : যুক্তরাষ্ট্র যুক্তরাজ্য কানাডা অস্ট্রলিয়া নিউজিল্যান্ড জার্মানি
ফ্রান্স নেদারল্যান্ডস সুইডেন,নরওয়ে ডেনমার্ক ফিনল্যান্ড ,জাপান ভারত পাকিস্তান ইত্যাদি | তাহলে বাংলাদেশে এটা প্রয়োজন কেন? কিছু তথাকথিত সাংবাদিক নামধারী চাঁদাবাজির করছে বলে শুনতে পাই | এদের ব্যবস্থা নিতে দেশে প্রচলিত আইন রয়েছে | এদের গুটি কয়েক লোকের জন্য সমগ্র সাংবাদিক সমাজকে দায়ী করা ঠিক হবে বলে মনে হয় না | এধরণের তথাকথিত সাংবাদিক নামধারীতে ব্যবস্থা নিতে পেশাদার সাংবাদিকদের নিবন্ধনের মুখোমুখি দাঁড় করানো হচ্ছে | এটা পেশাদার সাংবাদিকদের জন্য লজ্জাসকর | তাই সাংবাদিক নিবন্ধন বা স্বীকৃতির যেকোনো উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত পেশাদারিত্ব বৃদ্ধি, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং ভুয়া পরিচয়ে অপকর্ম রোধ করা | সাংবাদিকতার স্বাধীনতা সংকুচিত করা নয়।সাংবাদিক নিবন্ধনের কথা শুনে কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা কর্মচারী খুব উচ্ছ্বসিত প্রকাশ করছে | কারণ তারা চায় নিবন্ধনের নামে বহু সাংবাদিক ঝড়ে গেলে দুর্নীতিবাজরা নানা অপকর্ম ঘুষ ও অবৈধ সম্পদ অর্জন করতে পারবে বা সুবিধা পাবে |
দুর্নীতিবাজদের এমন ধারণা অনেকের মধ্যে রয়েছে যে, যদি কোনো প্রক্রিয়ার কারণে অনুসন্ধানী ও সাহসী সাংবাদিকের সংখ্যা কমে যায় বা তাদের কাজ বাধাগ্রস্ত হয়, তাহলে দুর্নীতিগ্রস্ত কিছু ব্যক্তি স্বস্তি অনুভব করতে পারে। কারণ স্বাধীন সাংবাদিকতা দুর্নীতি, ঘুষ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মকে জনসমক্ষে তুলে ধরে। তবে এটি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা সব চাকরিজীবীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। বরং দেশের সৎ ও নিষ্ঠাবান কর্মকর্তা-কর্মচারীও চান দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং সঠিক তথ্য জনগণের সামনে আসুক।
সাংবাদিকের কাজ শুধু সংবাদ প্রকাশ করা নয়; বরং সত্য অনুসন্ধান, জনস্বার্থ রক্ষা এবং রাষ্ট্রের জবাবদিহি নিশ্চিত করা। একজন প্রকৃত সাংবাদিক দুর্নীতিবাজের শত্রু হলেও তিনি সৎ মানুষের বন্ধু। কারণ সত্যভিত্তিক সংবাদ সৎ কর্মকর্তাদেরও সম্মান ও মর্যাদা বাড়ায়।
অতএব, সাংবাদিক নিবন্ধনের যে নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে, তা যেন স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ,অরাজনৈতিক, বৈষম্যহীন ও স্বাধীন মতপ্রকাশের সাংবিধানিক অধিকারকে সম্মান করে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদেরও পেশাগত নৈতিকতা, তথ্য যাচাই এবং আইন মেনে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে হবে।
একটি দুর্নীতিমুক্ত, জবাবদিহিমূলক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং সৎ প্রশাসন দুটিই সমানভাবে অপরিহার্য। তাই এমন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত নয়, যা জনস্বার্থে কাজ করা সাংবাদিকদের নিরুৎসাহিত করে; বরং এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে যেখানে সৎ কর্মকর্তা ও সৎ সাংবাদিক একসঙ্গে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কাজ করতে পারেন |