বরিশালের আগৈলঝাড়া থানায় গ্রেপ্তার এক আসামির মৃত্যুর গুজবকে কেন্দ্র করে থানায় হামলা, ভাঙচুর ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় ৪৩ জন এজাহারভুক্ত এবং ৩০০ থেকে ৪০০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় রাতভর অভিযান চালিয়ে ১০ নারীসহ মোট ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হামলার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
শুক্রবার সকালে আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদ খান জানান, হামলার পর থেকেই থানায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। রাতভর পরিচালিত অভিযানে ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে এসআই ওমর ফারুক বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার রাতেই মামলা দায়ের করেন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের শুক্রবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে বরিশাল আদালতে পাঠানো হয়েছে। হামলার সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।
মামলার বাদী এসআই ওমর ফারুক জানান, বেআইনি সমাবেশ, দাঙ্গা, অনধিকার প্রবেশ, সরকারি সম্পত্তির ক্ষতিসাধন, সরকারি কাজে বাধা, পুলিশের ওপর হামলা, গুরুতর অপরাধ এবং হুমকির অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। মামলায় ৪৩ জন এজাহারনামীয় আসামির পাশাপাশি ৩০০ থেকে ৪০০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি ও ভিডিও পর্যালোচনা করে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।
পুলিশ জানায়, গত বুধবার সন্ধ্যায় নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে চুরি ও মাদকসহ একাধিক মামলার আসামি রিয়াজ ফকিরকে একটি চুরির মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি, থানার হাজতে থাকার সময় তিনি নিজের মাথায় আঘাত করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে রাত ১১টার দিকে তাঁকে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে গভীর রাতে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রিয়াজ ফকিরের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লে তাঁর স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে বিকেলে কয়েক শ মানুষ মিছিল নিয়ে আগৈলঝাড়া থানায় হামলা চালায়। এ সময় থানায় ব্যাপক ভাঙচুর করা হয় এবং কর্তব্যরত ডিউটি অফিসার এএসআই আব্দুল হালিমকে মারধর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।
এ ঘটনায় পুলিশের ছয় সদস্যসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। গুরুতর আহত এএসআই আব্দুল হালিমকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত অন্য পুলিশ সদস্যরা হলেন কনস্টেবল লিমন মিয়া, ফরহাদ হোসেন, মনির হোসেন, আল আমিন হোসেন ও মেহেদী হাসান। তাঁরা প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন।
ওসি মো. মাসুদ খান বলেন, “আগৈলঝাড়া থানায় হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এ পর্যন্ত ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। হামলার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”