মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার ঐতিহ্যবাহী তেওতা ইউনিয়নে মাদকের গ্রাস থেকে তরুণ ও উদীয়মান প্রজন্মকে বাঁচাতে এক প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিশাল বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিকেল ৫:৩০ মিনিটে তেওতা বাজারের ঐতিহাসিক নজরুল প্রমিলা মঞ্চের সামনে সর্বস্তরের জনগণের উপস্থিতিতে এ কর্মসূচি শুরু হয়।
প্রাথমিকভাবে নজরুল প্রমিলা মঞ্চের সামনে স্থানীয় সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী, সুশীল সমাজ ও যুবসমাজের সম্মিলিত অংশগ্রহণে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে সন্ধ্যা ৭:০০ টার দিকে এক বিশাল প্রতিবাদী মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি তেওতা বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক ও অলিগলি প্রদক্ষিণ করে। ‘মাদকমুক্ত তেওতা চাই’, ‘মাদককে না বলুন’—এমন নানা প্রতিবাদী স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
সমাবেশে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ:কর্মসূচিতে একাত্মতা প্রকাশ করে উপস্থিত ছিলেন মোঃ রমজান শেখ, মোঃ চুন্নু মিয়া, মোঃ আবুল কালাম আজাদ, মোঃ মাওলানা মহিদুল ইসলাম, মোঃ শাহীন মোল্লা, মোঃ মানিক শেখ, মোঃ সুমন মিয়া, মোঃ রতন শেখ, মোঃগফুর খান, মোঃ রহমত আলী,মোঃ শরীফ শেখ,মোঃ মোসলেম শেখসহ এলাকার অসংখ্য উদীয়মান যুবক ও শ্রদ্ধেয় মুরব্বিগণ।
সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বক্তারা গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, ঐতিহাসিক তেওতা জমিদার বাড়ির আশপাশে অন্তত ৬টি স্পটে দিন-দুপুরে ও রাতে প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচা চলছে। এসব স্পটে দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিদিন অচেনা ও সন্দেহভাজন মানুষের আনাগোনা পরিলক্ষিত হচ্ছে, যা স্থানীয় পরিবেশ ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকে চরম হুমকির মুখে ফেলছে। বক্তারা অনতিবিলম্বে এ বিষয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত আইনানুগ ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান।
বক্তারা বলেন, মাদক কেবল একটি জীবনকে ধ্বংস করে না, বরং পুরো পরিবার ও সমাজকে এক অন্ধকার গহ্বরে ঠেলে দেয়। গ্রামে গ্রামে মাদকের এই অবাধ বিস্তার রোধে প্রতিটি পরিবার এবং সমাজের সব শ্রেণির মানুষকে এখন থেকেই একজোটে এগিয়ে আসতে হবে।
বক্তারা আরও জানান, সম্প্রতি এলাকার একটি চিহ্নিত মাদকের আস্তানা গুঁড়িয়ে দিতে এবং এলাকাকে মাদকমুক্ত করতে স্থানীয় উদ্যমী যুবসমাজ ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপ গ্রহণ করে। তবে এই সাহসী উদ্যোগের পর থেকেই একটি প্রভাবশালী অসাধু চক্র ও স্থানীয় স্বার্থান্বেষী মহল নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে। বক্তারা দৃঢ় কণ্ঠে হুঁশিয়ারি দেন যে, রক্তচক্ষু বা কোনো প্রচ্ছন্ন হুমকি দেখিয়ে এই ন্যায়সংগত সামাজিক আন্দোলনকে একটুও দমানো যাবে না।
সমাবেশ থেকে মাদক কারবারি ও মাদক গ্রহণকারীদের (খাদক) বিরুদ্ধে কঠোর ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করা হয়। সমাজে মাদকের ব্যবসা বা সেবনকারী—কারো কোনো স্থান হবে না বলে একবাক্যে জানানো হয়।
একই সাথে মাদক সেবনকারী ও ব্যবসায়ীদের ক্রমাগত আগ্রাসন এবং হুমকি-ধামকি থেকে তেওতার সচেতন যুবসমাজ ও সাধারণ মানুষকে রক্ষা করতে স্থানীয় মান্যবর সংসদ সদস্য, প্রশাসন এবং এলাকার সম্মানিত নেতৃবৃন্দের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করা হয়। বক্তারা জোর দাবি জানান, প্রশাসনিক নজরদারি ও রাজনৈতিক-সামাজিক নেতৃবৃন্দের সুদৃঢ় সহযোগিতার মাধ্যমেই এই অপরাধী চক্রকে প্রতিহত করা সম্ভব।
পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সামাজিক মূল্যবোধ, সত্যনিষ্ঠা এবং মুরুব্বি ও বড়দের প্রতি শ্রদ্ধা-সম্মানবোধ জাগিয়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব তুলে ধরেন বক্তারা। সন্তানদের সুস্থ পরিবেশ ও সঠিক পথে রাখতে অভিভাবকদেরও বাড়তি সতর্কতার আহ্বান জানানো হয়।
সব বাধা-বিপত্তি ও চক্রান্ত নস্যাৎ করে তেওতাকে সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত না করা পর্যন্ত এ সামাজিক আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় নিয়ে সমাবেশ শেষ হয়।