সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার, সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং এতিম শিশুদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে সমাজসেবা অধিদপ্তর। এরই ধারাবাহিকতায় বেসরকারি এতিমখানাগুলোতে সরকারের ক্যাপিটেশন গ্রান্ট কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সরকারি তালিকায় মো; কামরুজ্জামান বর্তমানে পরিচালক (প্রতিষ্ঠান অধিশাখা) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিষ্ঠান অধিশাখার আওতাধীন কার্যক্রমে এতিমখানা ও সমাজকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে সরকারি নীতিমালা বাস্তবায়ন ও প্রশাসনিক সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ একটি দায়িত্ব।
বিএনপি সরকারের উন্নয়ন ভাবনা ও সামাজিক নিরাপত্তা বর্তমান বিএনপি সরকারের উন্নয়ন ভাবনায় অর্থনৈতিক অগ্রগতির পাশাপাশি মানবিক ও সামাজিক নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা উঠে এসেছে। সরকারের ঘোষিত বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনায় সুশাসন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও মানবসম্পদ উন্নয়নের পাশাপাশি প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সামাজিক সহায়তার উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে।
এই উন্নয়ন দর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সমাজকল্যাণ খাতকে আরও জনবান্ধব ও কার্যকর করার ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ের প্রতিষ্ঠানগুলোর সঠিক তদারকি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এতিম শিশুদের জন্য ক্যাপিটেশন গ্রান্ট সমাজসেবা অধিদপ্তরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি হলো বেসরকারি এতিমখানায় ক্যাপিটেশন গ্রান্ট প্রদান। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী নিবন্ধিত বেসরকারি এতিমখানার এতিম শিশুদের জন্য এই সহায়তা দেওয়া হয়। ক্যাপিটেশন গ্রান্ট পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিবন্ধিত হতে হয় এবং নির্ধারিত সংখ্যক এতিম নিবাসীসহ অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হয়। শিক্ষার সঙ্গে শিশুদের সম্পৃক্ত রাখার বিষয়টিও এ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ শর্তের মধ্যে রয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবছরেও বেসরকারি এতিমখানার ক্যাপিটেশন গ্রান্টের কিস্তি বরাদ্দ ও মঞ্জুরির কার্যক্রম চলমান ছিল। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রত্যাশা এতিম শিশুদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি সহায়তা যেন প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে পৌঁছায়, সে জন্য নিবন্ধন, যাচাই-বাছাই, তদারকি ও হিসাব-নিকাশে স্বচ্ছতা অত্যন্ত জরুরি। সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রতিষ্ঠান শাখার দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের কার্যকর নজরদারি এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, সরকারি উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুফল দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কাছে পৌঁছে দিতে সমাজসেবা অধিদপ্তর আরও গতিশীল ভূমিকা রাখবে।
মো: কামরুজ্জামানসহ প্রতিষ্ঠান অধিশাখার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীল প্রশাসনিক ভূমিকা এবং সরকারি নীতিমালার যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের এতিম শিশুদের জীবনমান উন্নয়নে আরও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে—এমন প্রত্যাশাই করছেন সচেতন মহল।