শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে সমতলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের জীবনমান উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উদ্যোগে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের বরাদ্দকৃত শিক্ষাবৃত্তি, বাইসাইকেল ও সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নালিতাবাড়ী উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক আলোচনা সভা শেষে উপকারভোগীদের মাঝে এসব সহায়তা প্রদান করা হয়।
নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আব্দুল মালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ফাহিম চৌধুরী।
সাংবাদিক ক্লোডিয়া নকরেক কেয়ারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নালিতাবাড়ী উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান লিটন, নয়াবিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান, নালিতাবাড়ী ট্রাইব্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কোপেন নকরেক, উপজেলা শ্রমিকদলের সভাপতি হুমায়ুন কবির, শহর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মানিক মিয়া এবং যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ওজায়েজ মোহাম্মদ কালিমুল্লাহ টুকনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ফাহিম চৌধুরী বলেন, দেশের বিভিন্ন পাহাড়ি ও সমতল অঞ্চলে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের এখনও শিক্ষা, বিশুদ্ধ পানি, চলাচল ও আবাসনের মতো মৌলিক সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি রয়েছে। তিনি বলেন, নকলা-নালিতাবাড়ীতে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবেও সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার চেষ্টা করবো।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল মালেক বলেন, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের আবাসন সুবিধার জন্য শেরপুর জেলায় ১০টি ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নালিতাবাড়ী উপজেলায় ৪টি ঘর বরাদ্দ পাওয়া গেছে। তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্যের সহযোগিতায় ভবিষ্যতে আরও বরাদ্দ আনার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এসময় উপজেলার ১৩ জন গৃহিণীর মাঝে সেলাই মেশিন, ২০ জন শিক্ষার্থীর মাঝে বাইসাইকেল এবং ১৩৪ জন শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষাবৃত্তির অর্থ বিতরণ করা হয়। এ খাতে মোট ৫ লাখ ৯০ হাজার টাকার সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের শিক্ষা বিস্তার, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সামাজিক উন্নয়নে সরকারের এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ ধরনের সহায়তা কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।