জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে নীলফামারীর জলঢাকায় গণসমাবেশ ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ আগস্ট) বিকেলে জলঢাকা সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় সাধারণ মানুষ অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জলঢাকা উপজেলা আমীর মোখলেছুর রহমান মাস্টার। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন উপজেলা সেক্রেটারি মোয়াম্মার আল হাসান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নীলফামারী জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আন্তাজুল ইসলাম। প্রধান আলোচক ছিলেন নীলফামারী-৩ (জলঢাকা) আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের নীলফামারী জেলা সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান জুয়েল, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নীলফামারী জেলা সভাপতি রেজাউল করিম,জেলা প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক প্রভাষক সাদের হোসেন,উপজেলা নায়েবে আমীর কামরুজ্জামান, খেলাফত মজলিশের নেতা আবু জাফর, জামায়াতের উপজেলা সহকারী সেক্রেটারি মুজাহিদ মাসুম, পৌর আমীর মোজাম্মেল হক এবং এনসিপির উপজেলা আহ্বায়ক আহসান হাবিবসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা আন্তাজুল ইসলাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নে দ্রুত ‘জুলাই সনদ’ কার্যকর করতে হবে এবং আন্দোলনে আহতদের পুনর্বাসনের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। তিনি সরকারকে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও গণঅভ্যুত্থানের অঙ্গীকার বাস্তবায়নই এখন সময়ের দাবি।
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনায় ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে, সেসব বিষয়ে সরকার ও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে তিনি জলঢাকার সন্তান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের জিএস আব্দুল হালিম আরিফের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ উল্লেখ করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
সমাবেশে অন্যান্য বক্তারা তাদের বক্তব্যে দাবি করেন, দেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব বন্ধ এবং রাজনৈতিক সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। তারা অভিযোগ করেন, ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মীর কর্মকাণ্ড নিয়ে জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে এবং এ বিষয়ে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
বক্তারা আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য ছিল বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে জাতীয় ঐক্য, আইনের শাসন, মানবাধিকার রক্ষা এবং সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা। সমাবেশ শেষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে ইসলামিক গান,নাটক,কবিতা আবৃত্তি ও পরিবেশনার মধ্য দিয়ে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।