জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি ও আত্মত্যাগকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে নানা আয়োজনে পালিত হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি। দিবসটি উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তারা শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং আহত জুলাই যোদ্ধাদের সাহসিকতার কথা স্মরণ করেন। পরে শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও সম্মাননা প্রদান করা হয়।
উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহাদাৎ হোসেন।
আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শাহআলম রাজু, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি বেলাল হোসাইন, পৌর বিএনপির সভাপতি তাহের পলাশী, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. গিয়াস উদ্দিন, চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জোবায়ের হোসেন, উপজেলা যুব বিভাগের সভাপতি জয়নাল আবেদীন পাটোয়ারী, এনসিপির যুবশক্তির কেন্দ্রীয় নেতা আবু সুফিয়ান, জুলাই শহীদ শাহাদাত হোসেনের ছোট ভাই এবং আহত এক জুলাই যোদ্ধাসহ অন্যান্যরা।
বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কেবল একটি আন্দোলনের নাম নয়; এটি গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের এক তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়। আন্দোলনে জীবন উৎসর্গকারী শহীদদের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। একই সঙ্গে আহত জুলাই যোদ্ধাদের ত্যাগ ও সাহস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে বলেও তাঁরা উল্লেখ করেন।
আলোচনা শেষে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধাদের হাতে সম্মাননা স্মারক এবং উপহার তুলে দেন অতিথিরা। এ সময় কয়েকজন আহত যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্য তাঁদের স্মৃতিচারণ করেন। তাঁরা আন্দোলনের দিনগুলোর অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান এবং রাষ্ট্রের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ কে এম মীর হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, সাংবাদিক, সুধীজন, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারণ, শ্রদ্ধা নিবেদন ও সম্মাননা প্রদানের মধ্য দিয়ে শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর সম্মান জানানো হয়। একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, নাগরিক অধিকার এবং দেশপ্রেমের চেতনাকে নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বক্তারা।