৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ২০০৮ সালের এই দিনে তৎকালীন মঈন-ফখরুদ্দীন নিয়ন্ত্রিত সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়েছিলেন বিএনপির বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিগত এক এগারো সরকারের সময়কাল থেকে শুরু করে পরবর্তীতে দীর্ঘ দেড় যুগের রাজনৈতিক টানাপোড়েন, মামলা-মোকদ্দমা ও রাজপথের আন্দোলনের পটভূমিতে এই দিনটি এ দেশের বহুদলীয় রাজনৈতিক চর্চায় বারবার আলোচিত হয়ে আসছে।
২০০৭ সালের ৭ মার্চ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। কারাবন্দি অবস্থায় শারীরিক অসুস্থতা এবং পরবর্তী সময়ে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনে যুক্তরাজ্যে অবস্থানের মধ্য দিয়ে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রবাস জীবনের সূচনা ঘটে। দীর্ঘ সময় প্রবাসে অবস্থান করলেও বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামোর সমন্বয়, তৃণমূল নেতাকর্মীদের সক্রিয় রাখা এবং রাজপথের আন্দোলন রূপায়ণে তার ভূমিকা দলের রাজনীতিতে প্রভাবশালী নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে। বিশেষ করে তরুণদের রাজনীতিতে সম্পৃক্তকরণ এবং আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসনিক কাঠামোর পরিকল্পনা বিনির্মাণে তিনি সাংগঠনিক পর্যায়ে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তারেক রহমান কর্তৃক উপস্থাপিত ‘৩১ দফা’ রাষ্ট্র সংস্কার পরিকল্পনা একটি বহুল আলোচিত রূপরেখা হিসেবে উঠে এসেছে। এতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ, দুর্নীতি প্রতিরোধ, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা ও জাতীয় ঐক্যের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। একটি গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে এই প্রস্তাবনাগুলো রাজনৈতিক অঙ্গনে নীতিনির্ধারণী আলোচনার ভিত্তি তৈরি করেছে।
পরবর্তী রাজনৈতিক পথচলায় যেকোনো নেতৃত্ব বা সরকারের মূল চ্যালেঞ্জ থাকে অর্থনৈতিক স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা, তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা। প্রতিহিংসার রাজনীতির সংঘাতময় ধারা পরিহার করে একটি স্থিতিশীল ও মর্যাদাশীল রাষ্ট্র গঠনের প্রশ্নে দেশের সর্বস্তরের ঐকমত্য রক্ষা করা এখন সময়ের বড় দাবি। ঐতিহাসিক দিনগুলোর রাজনৈতিক গুরুত্ব পর্যালোচনার মাধ্যমে সংঘাতমুক্ত ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনের অঙ্গীকার দৃঢ় হোক—এটাই দেশবাসীর প্রত্যাশা। মোঃ লুৎফর রহমান, আহ্বায়ক, বিরল উপজেলা তাঁতীদল।