আন্দোলনের সফলতা কেবল ক্ষমতার পরিবর্তনে সীমাবদ্ধ নয়; প্রকৃত সফলতা তখনই আসে, যখন সেই আন্দোলনের প্রতিটি অংশগ্রহণকারীর অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়িত হয়। অন্যথায় বিজয় অর্জিত হলেও ইতিহাস অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
জুলাইয়ের আন্দোলনে অসংখ্য নারী নিজের নিরাপত্তার কথা না ভেবে রাজপথে নেমেছিলেন। কেউ নেতৃত্ব দিয়েছেন, কেউ সংগঠিত করেছেন, কেউ চিকিৎসাসেবা দিয়েছেন, কেউ আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সত্য তুলে ধরে জনমত গড়ে তুলেছেন। অনেকেই মামলা, হামলা, গ্রেপ্তার ও পারিবারিক চাপের মুখেও পিছু হটেননি। তাঁদের এই অবদান কোনোভাবেই সাময়িক আবেগের বিষয় নয়; এটি জাতির গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।দুঃখজনক হলেও সত্য, ইতিহাস রচনার সময় নারীর অবদান অনেক ক্ষেত্রেই আড়ালে চলে যায়। আলোচনায় আসে কয়েকটি পরিচিত নাম, অথচ নেপথ্যের অসংখ্য সংগ্রামী নারী বিস্মৃতির অন্ধকারে হারিয়ে যান। এই প্রবণতা শুধু অন্যায়ই নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছেও একটি অসম্পূর্ণ ইতিহাস তুলে ধরে।রাষ্ট্র, রাজনৈতিক দল ও সমাজের নীতিনির্ধারকদের উচিত সংগ্রামী নারীদের অবদানকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংরক্ষণ ও মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া। গবেষণা, স্মারকগ্রন্থ, রাষ্ট্রীয় সম্মাননা এবং নেতৃত্বের সুযোগ—সব ক্ষেত্রেই তাঁদের ন্যায্য অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। কারণ ইতিহাস সংরক্ষণ মানে শুধু অতীতকে স্মরণ করা নয়; ভবিষ্যতের জন্য একটি সঠিক দিকনির্দেশনা তৈরি করা।যে সমাজ তার সংগ্রামী নারীদের সম্মান দিতে শেখে, সেই সমাজই মানবিকতা, ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে পারে। আর যে সমাজ তাদের অবদান অস্বীকার করে, সে সমাজ ধীরে ধীরে নিজের ইতিহাসকেই দুর্বল করে ফেলে।তাই আজ প্রয়োজন প্রতীকী প্রশংসা নয়, বাস্তব স্বীকৃতি। ব্যারিকেডে দাঁড়ানো সেই সাহসী নারীদের নাম ইতিহাসের পাতায় মর্যাদার সঙ্গে লিপিবদ্ধ হোক। নেতৃত্বের প্রতিটি স্তরে তাদের যোগ্যতার স্বীকৃতি নিশ্চিত হোক। কারণ একটি জাতির অগ্রযাত্রা তখনই অর্থবহ হয়, যখন সেখানে নারী ও পুরুষ সমান মর্যাদায়, সমান অধিকার নিয়ে ভবিষ্যৎ নির্মাণে অংশগ্রহণ করতে পারেন।