মোঃজুবায়ের হাসান, শাহজাদপুর
ইভটিজিং ও যৌন হয়রানি প্রতিরোধ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়,বাংলাদেশ এবং শাহজাদপুর থানার যৌথ উদ্যোগে র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ভবন-৩ থেকে একটি সচেতনতামূলক র্যালি বের করা হয়।
র্যালিটি বগুড়া-নগরবাড়ি সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিসিক বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে শেষ হয়।
পরে বিসিক বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন স্থানে ইভটিজিং ও যৌন হয়রানি প্রতিরোধ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, অধ্যাপক তাহ্মিনা আখতারের সভাপতিত্বে এবং রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত)মোঃনজরুল ইসলামের সঞ্চালনায়, আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন,রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক,ড.মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন। সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার,মোঃসাইফুল ইসলাম সানতু। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আসাদুজ্জামান। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শাহজাদপুর সার্কেল) হাফিজুর রহমান। শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সাবরিনা শারমিন।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, মোঃসাইফুল ইসলাম।শাহজাদপুর পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক, হাজী মোঃআইয়ুব আলী।শাহজাদপুর উপজেলা জামাতের আমির অধ্যাপক,মোঃ মিজানুর রহমান। সাধারণ সম্পাদক,মোঃআবদুল মালেকসহ রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, শাহজাদপুর থানার কর্মকর্তাবৃন্দ ও বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ারা সাংবাদিকবৃন্দ।
রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক, তাহ্মিনা আখতার বলেন, ইভটিজিং ও যৌন হয়রানি শুধু আইনগত সমস্যা নয়, এটি একটি সামাজিক, মনস্তাত্ত্বিক ও দৃষ্টিভঙ্গিগত ব্যাধি। আইন প্রণয়ন ও সচেতনতা বৃদ্ধির নানা উদ্যোগের পরও এ ধরনের ঘটনা পুরোপুরি বন্ধ না হওয়ায় সমাজের প্রতিটি মানুষের সম্মিলিতভাবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি বলেন, নারীর প্রতি সম্মান ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবার থেকেই গড়ে তুলতে হবে।
রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোঃজাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ইভটিজিং ও যৌন হয়রানি প্রতিরোধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সম্মিলিত সচেতনতা অত্যন্ত জরুরী।
সিরাজগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু বলেন,নারীর প্রতি সহিংসতা, ইভটিজিং ও যৌন হয়রানি প্রতিরোধে সমাজের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, পরিবার, পরিচিতজন, সহপাঠী কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম-বিভিন্ন ক্ষেত্রেই নারীরা হয়রানি ও সহিংসতার ঝুঁকির মুখে পড়ছেন। বিশেষ করে প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহারের মাধ্যমে নারীদের হয়রানির নতুন ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, বিপুল জনসংখ্যার তুলনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যসংখ্যা সীমিত হওয়ায় শুধু পুলিশের পক্ষে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। এজন্য প্রত্যেক নাগরিকের বুদ্ধি, বিবেক ও আত্মসংযম জাগ্রত করতে হবে। নারীর প্রতি সহিংসতা ও ইভটিজিং প্রতিরোধে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, ব্যক্তিগত বিবেক ও নৈতিক মূল্যবোধেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
র্যালি ও আলোচনা সভার মাধ্যমে ইভটিজিং, যৌন হয়রানি এবং নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।