ঘনিয়ে আসছে বাঙালি হিন্দুদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। তাই সারা দেশের মতো চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার বিভিন্ন মণ্ডপেও এখন চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। রং-তুলির আঁচড়ে দেব-দেবী ও অসুরের প্রতিমায় ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে নান্দনিক রূপ। দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা শিল্পীরা।
পূজা যতই ঘনিয়ে আসছে, শিল্পীদের ব্যস্ততাও ততই বাড়ছে। মন্দিরে মন্দিরে কারিগররা নিপুণ হাতে তৈরি করছেন দেবী দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, গণেশ, কার্তিক ও অসুরের প্রতিমা। কোথাও প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ হয়েছে, আবার কোথাও চলছে রঙের কাজ। চলতি বছরে উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা এলাকায় সর্বমোট ২০১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার রামকৃষ্ণ সেবাশ্রম, মুন্সেফ বাজার কালী বাড়ি, পল্লী মঙ্গল, দুর্গা বাড়ি, কেলিশহর ভট্টাচার্য হাট জগদার্থী মন্দির, কেলিশহর আচার্য পাড়া, ধলঘাট নবগ্রহ বাড়ি মন্দির ও গিরিস চৌধুরী বাজার সবুজ সংঘ দুর্গা মন্দিরসহ বেশ কয়েকটি মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে। অধিকাংশ মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ হওয়ায় এখন চলছে রঙের কাজ।
উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দেবাশীষ দে বলেন, শারদীয় উৎসবে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও শুভানুধ্যায়ীরা একত্র হয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করেন। প্রতি বছরের মতো এবারও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত হবে বলে তিনি আশাবাদী।
উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মান্না দেব জানান, দুর্গাপূজা উপলক্ষে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ইতোমধ্যে একাধিক বৈঠক হয়েছে এবং জেলা প্রশাসনের সঙ্গেও বৈঠকের কথা রয়েছে। পটিয়া উপজেলার মাননীয় এমপি এনামুল হকের নির্দেশনাক্রমে প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় এবার দুর্গাপূজা সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে।
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক জানান, এবার পটিয়া উপজেলায় ২০১টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপন হবে। এর মধ্যে ৫৫টি মণ্ডপকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং ১৪৬টি মণ্ডপকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। দুর্গাপূজা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক প্রস্তুতি রয়েছে। নির্বিঘ্নে সবাই পূজা উদযাপন করতে পারবে।