সময়ের বিবর্তনে ও আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় ময়মনসিংহ জেলার সীমান্তবেষ্টিত হালুয়াঘাট উপজেলায় ঐতিহ্যবাহী গরু-লাঙলের চাষাবাদ এখন শুধুই অতীত স্মৃতির পাতা। আশির ও নব্বইয়ের দশকে এ অঞ্চলের কৃষিনির্ভর জীবনের প্রধান অনুসঙ্গই ছিল লাঙল, জোয়াল আর বলদ গরু।
অতীতের সেই সোনালী দিনগুলোর কথা স্মরণ করে এলাকার বয়োজ্যেষ্ঠ কৃষকেরা জানান, একসময় উপজেলার প্রতিটি কৃষকের বাড়িতেই লালন-পালন করা হতো এক বা একাধিক জোড়া বলদ গরু। ভোরের আলো ফোটার সাথেই পান্তা ভাত খেয়ে কাঁধে গামছা আর গরুর ঘাড়ে জোয়াল তুলে কৃষকেরা ছুটে চলতেন দিগন্ত বিস্তৃত মাঠে। সূর্য ডোবার পর কাজ শেষে ক্লান্ত শরীরে ফিরতেন নীড়ে। সে সময় জমিতে কৃত্রিম সার বা কীটনাশকের তেমন প্রয়োজন হতো না; গবাদিপশুর গোবর সার ব্যবহার করেই মিলত বিপুল ফলন।
তবে বর্তমান আধুনিক যুগে পাওয়ার টিলার, ট্রাক্টর ও আধুনিক যন্ত্রপাতির প্রভাবে হারিয়ে গেছে সেই চিরাচরিত দৃশ্য। এখন আর কাকডাকা ভোরে মাঠে মাঠে কৃষকের সেই জোয়ালের শব্দ বা দূর থেকে ভেসে আসা রাখালিয়া সুর শোনা যায় না।
উপজেলার বয়োজ্যেষ্ঠ কৃষকদের মতে, “আমরা চিরকাল গরু পালন করে লাঙল দিয়েই জমি চাষ করেছি। কিন্তু যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে ট্রাক্টর আসায় কাজের গতি হয়তো বেড়েছে, তবে হারিয়ে গেছে গ্রামের সেই আন্তরিকতা আর প্রাকৃতির ভারসাম্য। আধুনিক যন্ত্রের ছোঁয়ায় এখন আর লাঙল দিয়ে চাষ করতে হয় না।”
আধুনিকায়ন কৃষকদের কাজ সহজ ও সময় সাশ্রয়ী করলেও গ্রাম বাংলার বুক থেকে হারিয়ে গেছে এক ঐতিহ্যবাহী কৃষি সংস্কৃতি, যা কেবল বয়োজ্যেষ্ঠদের স্মৃতিতেই জীবন্ত হয়ে রয়েছে।