বাংলাদেশে বড় ছোট নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল রেয়েছে কতগুলো কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীনতা থেকে এ পর্যন্ত তিনটি রাজনৈতিক দল বিএনপি আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি সরকার পরিচালনা করেছেন |
একটি রাজনৈতিক দলের শক্তির মূল ভিত্তি হলো তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। জনগণের সঙ্গে দলের সরাসরি যোগাযোগ, সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রচার এবং দলীয় আদর্শ বাস্তবায়নে তৃণমূলের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সেই তৃণমূলের কোনো কোনো নেতাকর্মী যখন ক্ষমতার অপব্যবহার, চাঁদাবাজি, দখলদারি, টেন্ডারবাজি, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি কিংবা অন্য কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন, তখন তার দায় শেষ পর্যন্ত পুরো দল এবং দলীয় সরকারকেই বহন করতে হয়।
ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় পর্যায়ের একজন নেতাকর্মীর আচরণ অনেক সময় সাধারণ মানুষের কাছে পুরো সরকারের আচরণ হিসেবে বিবেচিত হয়। ফলে একজনের ব্যক্তিগত অনৈতিক কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাবও দলের ভাবমূর্তিতে পড়ে। বিরোধীরা যেমন এর রাজনৈতিক সুযোগ নেয়, তেমনি সাধারণ মানুষের মধ্যেও সরকারের প্রতি অসন্তোষ তৈরি হয়। এর ফল নির্বাচনে বা রাজনৈতিক সংকটে দলকে বড় ধরনের খেসারত দিতে হতে পারে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, কোনো কোনো ক্ষেত্রে দলীয় পরিচয়কে ব্যবহার করে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করা হয়। প্রশাসন, ব্যবসা-বাণিজ্য, ঠিকাদারি, জমি দখল কিংবা বিভিন্ন সরকারি সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও ওঠে। এসব কর্মকাণ্ড শুধু আইনের শাসনকে দুর্বল করে না, দলের সৎ ও ত্যাগী নেতাকর্মীদেরও বিব্রত করে।
রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বকে তাই বুঝতে হবে দলের পরিচয় কোনো অনৈতিক কাজের লাইসেন্স নয়। তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের কর্মকাণ্ড নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা, অভিযোগের দ্রুত তদন্ত করা এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে দলীয় পদ-পদবি বিবেচনা না করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে দলের অভ্যন্তরে নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও জনসেবার সংস্কৃতি জোরদার করতে হবে।
সরকারেরও উচিত প্রশাসনকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রেখে আইন অনুযায়ী কাজ করার সুযোগ দেওয়া। একজন অপরাধী যদি দলীয় পরিচয়ের কারণে ছাড় পেয়ে যান, তাহলে শুধু জনগণের আস্থা নষ্ট হয় না; বরং দলের দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক ভিত্তিও দুর্বল হয়ে পড়ে।
রাজনীতি মানুষের সেবা করার মাধ্যম ব্যক্তিগত সম্পদ, প্রভাব কিংবা ক্ষমতা অর্জনের হাতিয়ার নয়। তৃণমূল নেতাকর্মীদের সৎ, দায়িত্বশীল ও জনবান্ধব আচরণই একটি রাজনৈতিক দলের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়াতে পারে। অন্যদিকে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে তার মাশুল শুধু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নয়, পুরো দল ও দলীয় সরকারকেই দিতে হয়।
অতএব, দলীয় সরকারকে জনপ্রিয় ও জনআস্থাশীল রাখতে হলে তৃণমূল থেকেই শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। দলের পরিচয় নয়, যোগ্যতা ও সততাই হোক নেতৃত্বের প্রধান মাপকাঠি | তাই তৃণমূল নেতাকর্মীদের কার্যক্রম সঠিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি | পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী সঠিক ভাবে যা যা করণীয় দলকে তাই করতে হবে | এমনটাই হওয়া উচিত একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের অঙ্গীকার।
লেখক : সভাপতি, বাংলাদেশ নিউজ এডিটরস গিল্ড